হাসপাতালগুলোতে জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিন
- আপলোড সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ০৯:৩৩:০৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ০৯:৩৩:০৮ পূর্বাহ্ন
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার নেই - এটি শুধু একটি হাসপাতালের জনবল সংকটের খবর নয়; এটি পুরো একটি উপজেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থার নাজুক চিত্র। চারটি ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও একজনও কর্মরত নেই। পাঁচটি সহকারী সার্জনের পদই শূন্য। গাইনি, সার্জারি, মেডিসিন, অ্যানেসথেশিয়া ও আবাসিক মেডিকেল অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি। নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, স্বাস্থ্যসহকারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদেও রয়েছে ব্যাপক ঘাটতি। ফলে হাসপাতাল থাকলেও সেখানে কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা মিলছে না।
বিশ্বম্ভরপুরের মতো হাওর ও দুর্গম সীমান্তঘেরা উপজেলায় এই সংকটের অভিঘাত আরও তীব্র। দেড় লাখের বেশি মানুষের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই হওয়া উচিত ছিল প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল। অথচ সেখানে সামান্য রোগীও চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। জটিল রোগীকে আবার পাঠানো হচ্ছে সিলেটে। দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য এই ‘রেফার সংস্কৃতি’ অনেক সময় চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং নতুন ভোগান্তির নাম। বিশেষ করে দুর্ঘটনা, প্রসবজনিত জটিলতা, শিশুদের সংকটাপন্ন অবস্থা কিংবা আকস্মিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া জীবনহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে দেখা দিয়েছে বিপরীত চিত্র - চিকিৎসক ও জনবল কম, অথচ রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেশি। একদিনে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯১২-তে পৌঁছেছে। হাম, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শত শত শিশু চিকিৎসাধীন। সংক্রামক রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালের ৭৪টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ৫০টিই শূন্য এবং মোট ৪৭২ জনবলের মধ্যে ২২২টি পদ খালি। অর্থাৎ একদিকে উপজেলা হাসপাতালগুলো রোগী ধরে রাখতে পারছে না, অন্যদিকে জেলা হাসপাতাল সেই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে গিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
এ পরিস্থিতি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সমস্যা নয়; এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত না করে শুধু জেলা হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। এতে রোগীর ব্যয় বাড়ে, সময় নষ্ট হয় এবং চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকে।
সরকারের উচিত দ্রুত বিশ্বম্ভরপুরসহ জেলার সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শূন্য পদ পূরণ করা। বিশেষ করে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন, গাইনি, সার্জারি, মেডিসিন ও অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের চিকিৎসক নিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও অন্যান্য সহায়ক জনবলও নিশ্চিত করতে হবে।
সুনামগঞ্জের মানুষের চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করতে হলে শুধু নতুন ভবন নির্মাণ বা যন্ত্রপাতি সরবরাহ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সেই হাসপাতালগুলোকে কার্যকর করে তোলা। উপজেলা হাসপাতাল সচল হলে জেলা হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে, আর সাধারণ মানুষও নিজ এলাকার কাছেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। স্বাস্থ্যসেবা কোনো দয়া নয় - এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়