সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিকাশ -লিপি- সানোয়ারা দিরাই'র গুনি শিক্ষক ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের গলফ ও বিনোদনের নতুন কেন্দ্র বসুন্ধরা সুপার গলফ জামায়াত অকৃতজ্ঞ, খালেদা জিয়ার দেওয়া মন্ত্রিত্বের কথা ভুলে গেছে : প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‎জামালগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষায় অবদানের গুণী স্বীকৃতি পেলেন ৩ শিক্ষক তিন দিনব্যাপী উৎসব শুরু, ২৮ বছরের পথচলায় লোকদল শিল্পীগোষ্ঠী ছাতকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সংঘর্ষে আহত ৫০ দিরাই পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর, নাগরিক সুবিধা সেই তিমিরে ছাতকে অনুমোদনহীন দুই শতাধিক চুনের কারখানা সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে ক্লিনিক নয়, প্র্যাকটিসও বন্ধ পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি ‎পটিয়া থেকে ৫১৪৮, এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগের চিত্র জেলায় ৫১ নদী-খালের ২০০ কি.মি. খননের পরিকল্পনা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে ‘প্রতিষ্ঠা প্রকল্পে’র অবহিতকরণ কর্মশালা দোয়ারাবাজারে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অপপ্রচারের প্রতিবাদে ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন সুনামগঞ্জ শহরে মারামারি, নিরপেক্ষ তদন্ত চায় শ্রাবণের পরিবার দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ, সুনামগঞ্জে যুবদলের মিছিল সমাবেশ ‎বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে হাওরের সড়কজুড়ে শতাধিক তালগাছের চারা রোপণ ‎জাতিসংঘে তারেকের প্রথম ভাষণ, সামনে বাংলাদেশের নতুন বার্তা ‎বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতবিনিময় সভা ও র‍্যালি
হামে মৃত্যু থামছে না

সুনামগঞ্জে ৬ মাসে প্রাণ গেছে ৫৩ জনের

  • আপলোড সময় : ১১-০৮-২০২৬ ১১:১২:২১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০৮-২০২৬ ১১:১৭:১৬ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জে ৬ মাসে প্রাণ গেছে ৫৩ জনের
শহীদনূর আহমেদ ::
সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে হাম ও হাম উপসর্গে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে হাওরবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫১ জনই শিশু। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩ হাজার ১০ জন। এর মধ্যে ৩৫১ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৮৫১ জন। হাম ঠেকাতে সরকারের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চললেও সংক্রমণ ও মৃত্যু থামছে না। প্রতিদিন জেলার দুর্গম বিভিন্ন এলাকা থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। আক্রান্তদের অধিকাংশই হাম-রুবেলার টিকার আওতায় আসেনি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টদের মতে, হাওরের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থা, টিকা স¤পর্কে অসচেতনতা ও সামাজিক কুসংস্কারের কারণে জেলায় হাম সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি হচ্ছে। জেলার দুর্গম উপজেলাগুলো থেকে লালচে র‌্যাশ, প্রচ- জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে একের পর এক শিশু জেলা সদর হাসপাতালে আসছে। হাসপাতালের ওয়ার্ড, মেঝে ও বারান্দা - সবখানেই দেখা যাচ্ছে রোগীর ভিড়। শয্যা না পেয়ে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। পাশাপাশি চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে ছাতক উপজেলা। এ উপজেলায় এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ১৪ শিশু মারা গেছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১১ জন, জগন্নাথপুরে ৭, শান্তিগঞ্জে ৬, দিরাইয়ে ৬, বিশ্বম্ভরপুরে ৪, দোয়ারাবাজারে ২, তাহিরপুরে ২ এবং জামালগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার ও সোমবার সরেজমিনে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের পঞ্চম তলার হাম ওয়ার্ডের ভেতরে, মেঝে ও বারান্দায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা। অনেক শিশুই এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ভর্তি শিশুদের বেশির ভাগের স্বজন জানান, তারা সন্তানকে হাম-রুবেলার বুস্টার টিকা দেননি। টিকাদানের সময়সূচি না জানা, টিকা দেওয়ার বিষয়ে অনীহা এবং সামাজিক কুসংস্কারকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা। সদর উপজেলার সোনাপুর এলাকার আলমগীর বলেন, আমাদের বেদে পল্লিতে হামের সংক্রমণ বেশি। গ্রামের ১২০ থেকে ১৩০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এখনো হাসপাতালে ২৫ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বেশির ভাগই টিকার আওতায় আসেনি। জামালগঞ্জ থেকে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি সুহেনা নামের এক নারী বলেন, চার দিন ধরে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। তার জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও খাবারে অনীহা রয়েছে। মেয়েকে টিকা দেওয়া হয়নি। কখন টিকা দেওয়া হয়েছে, সেটাও জানি না। কেউ আমাদের জানায়নি। হাসপাতালের এক নার্স বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের অনেকেই টিকা নেয়নি। অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। সুস্থ হওয়ার পরও কেউ কেউ পুনরায় সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে আসছে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মেডিকেল আবাসিক কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, আগের তুলনায় হাসপাতালে হামের রোগী বেড়েছে। ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ রোগী ভর্তি থাকায় কাক্সিক্ষত সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসীম উদ্দিন বলেন, পাঁচ বছরের বেশি এবং ছয় মাসের কম বয়সী যেসব শিশু মারা গেছে, তাদের অনেকেই টিকা পায়নি। এখনো অনেক মানুষ টিকা দেওয়ার বিষয়ে অসচেতন ও অনাগ্রহী। আমরা টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার চেষ্টা করছি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জামায়াত অকৃতজ্ঞ, খালেদা জিয়ার দেওয়া মন্ত্রিত্বের কথা ভুলে গেছে : প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

জামায়াত অকৃতজ্ঞ, খালেদা জিয়ার দেওয়া মন্ত্রিত্বের কথা ভুলে গেছে : প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম