বিশ্বজিত রায়::
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে প্রায় প্রতি রাতেই একের পর এক গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে অন্তত অর্ধশতাধিক গরু চুরি হয়েছে। রাতের আঁধারে হাওর এলাকায় ধারাবাহিক চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশের কার্যকর তৎপরতা না থাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে গরু চুরির ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত এক মাসে চোর চক্র হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে অন্তত অর্ধশতাধিক গরু চুরি করে নিয়ে গেছে। জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের নিতাইপুর গ্রামের রাজকুমার দাসের ৪টি, মনিন্দ্র দাসের ২টি, শর্মানন্দ দাসের ৪টি ও সরলবাঁশি দাসের ১টি এবং একই ইউনিয়নের বাগানী গ্রামের মতি মিয়ার বাড়ি থেকে ৬টি গরু ছাড়াও সাচনা বাজার ইউনিয়নের ভরতপুর গ্রামের মিলন রায়ের ৫টি ও পার্শ্ববর্তী চাঁনপুর গ্রামের সুশীল বিশ্বাসের ১টি, ঠাকুরচাঁন বিশ্বাসের ৩টি, নিরঞ্জন সরকারের ৩টি, অখিল দাসের ১টি, বাবুল দাসের ১টি গরু চুরি হয়েছে। এছাড়া
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের গৌরাঙ্গ দাসের ২টি ও বিকাশ রঞ্জন দাসের ৪টি, ফতেপুর গ্রামের ডেঙ্গু বর্মণের ৩টি ও ঝন্টু বর্মণের ৩টি, লখা গ্রামের মনোজ কুমার দাসের ৩টি, পিরোজপুর গ্রামের পরেশ তালুকদারের ৪টি ও এরশাদ আলীর ১টি গরু চুরি হয়। এছাড়া একই এলাকার খলা চাঁনপুর, ফুলবড়িসহ একাধিক গ্রামে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ে চুরি হওয়া গরুর আনুমানিক বাজার মূল্য হবে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। জানা যায়, কৃষি কাজ ছাড়া গরু পালনও আয়ের অন্যতম উৎস হাওরাঞ্চলের মানুষের। গরু চুরি হওয়ায় নিঃস্ব অবস্থা হয়েছে অনেক পরিবারের। চোরেরা ইঞ্জিনচালিত দ্রুত গতির বিশেষ নৌকা নিয়ে হাওরাঞ্চলে চুরি করতে আসে। অনেক বাড়ি হাওরঘেঁষা হওয়ায় ঘাটে নৌকা লাগিয়ে রাতের আঁধারে গরু তুলে গন্তব্যে নিয়ে যায় চোরেরা। পরে দূরবর্তী হাটে চুরিকৃত গরু বিক্রি করে দেয় তারা। এলাকার সুযোগসন্ধানী লোকের সহযোগিতায় দূরবর্তী চোরেরা চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে ধারণা স্থানীয়দের। পার্শ্ববর্তী কোন না কোন লোকের সহযোগিতায় দূরের চোর চক্র সুযোগ পাচ্ছে উল্লেখ করে জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়নের নিতাইপুর গ্রামের রায়কুমার দাস বলেন, গ্রামের এমন কোন বাড়ি নাই যার দু’একটা গরু নাই। চুরি হওয়ায় মনিন্দ্র ও শর্মানন্দ দাসের গোয়ালঘর এখন খালি। চুরি ঠেকাইতে আমরা রাইতের পর রাইত জাইগ্যা পাহারা দিতাছি। প্রায় গ্রামেই গরু চুরি হইতাছে। কিন্তু দায়িত্বশীল কারও কোন মাথা বেদনা নাই।
সাচনা বাজার ইউনিয়নের ভরতপুর গ্রামের মিলন রায় বলেন, আমরার ৫টি গরু আছিল। বাড়ির পেছনে নৌকা লাগাইয়া গোয়ালের সব গরু নিয়া গেছে। আমার গরুর দাম প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা হবে। থানা পুলিশকে অবহিত করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত বৈশাখ মাসে আমরার গ্রামের একজনের গরু চুরি হইছিল। গরুর মালিক জামালগঞ্জ থানায় জিডি করলেও কোন কাজ হয়নি। তাই থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করিনি।
গরু চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে ফতেপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মন্তোষ দাশ বলেন, আমার ওয়ার্ডের গৌরাঙ্গ, বিকাশ, ডেঙ্গু বর্মণ ও ঝন্টু বর্মণসহ অনেকের গরুই চুরি হয়েছে।
বিষয়টি বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মহোদয়কে জানানোর পর তিনি নৌকায় টহল দেওয়া হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। এ ব্যাপারে কিছু জানেন না উল্লেখ করে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, গরু চুরির বিষয়টি আমি এখন জেনেছি। অসুস্থ হওয়ায় খোঁজ-খবর নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্যও বিষয়টি আমাকে অবহিত করেননি। খোঁজ নিয়ে চুরির বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হবে।
জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বন্দে আলী বলেন, গরু চুরির ব্যাপারে কেউ আমাদের কাছে আসেনি। কোন অভিযোগও আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে না। অভিযোগ পেলে আমরা মামলা নেই, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করি, তৎপরতাও বাড়ানো হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের নির্দেশনা দেওয়া হবে, তারা যেন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
হাওরাঞ্চলে গরু চুরির হিড়িক, এক মাসে অর্ধশতাধিক গরু চুরি
- আপলোড সময় : ১০-০৮-২০২৬ ০১:১২:৩৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-০৮-২০২৬ ০১:১৪:৫০ অপরাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ