সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি ‎পটিয়া থেকে ৫১৪৮, এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগের চিত্র জেলায় ৫১ নদী-খালের ২০০ কি.মি. খননের পরিকল্পনা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে ‘প্রতিষ্ঠা প্রকল্পে’র অবহিতকরণ কর্মশালা দোয়ারাবাজারে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অপপ্রচারের প্রতিবাদে ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন সুনামগঞ্জ শহরে মারামারি, নিরপেক্ষ তদন্ত চায় শ্রাবণের পরিবার দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ, সুনামগঞ্জে যুবদলের মিছিল সমাবেশ ‎বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে হাওরের সড়কজুড়ে শতাধিক তালগাছের চারা রোপণ ‎জাতিসংঘে তারেকের প্রথম ভাষণ, সামনে বাংলাদেশের নতুন বার্তা ‎বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতবিনিময় সভা ও র‍্যালি রাজউকের নকশা অনুমোদনে ওয়ানস্টপ, প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনসাধারণের ক্ষোভ তাহিরপুরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বহিষ্কার সোনালী চেলা নদীতে ড্রেজারের তান্ডব থামেনি সাদাসিধে জীবন, আলোকিত কর্মযাত্রা নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সদরে উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বিএনপি নেতা জালাল উদ্দিন ফারুকীকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ফুটবল উৎসব উদ্বোধন প্রকল্পের অপেক্ষায় ভাগাড়ে পরিণত পুরাতন পৌরসভা চত্বর

বৈঠার টানেই চলে জীবন-সংসার

  • আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০১:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০১:৪৮:৩৫ অপরাহ্ন
বৈঠার টানেই চলে জীবন-সংসার
বিশেষ প্রতিনিধি::
এক পাশে নদী, অন্য পাশে অপেক্ষমাণ মানুষ। মাঝখানে একটি ভাঙাচোরা খেয়া নৌকা আর বৈঠা হাতে মাঝি জিল্লু মিয়া। প্রতিদিনের এই দৃশ্যই শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ঘোড়াডুম্বুর-আলমপুর খেয়াঘাটের বাস্তবতা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বোকা নদীর দুই পাড়ের শত শত মানুষকে পারাপার করান তিনি। আর বৈঠার প্রতিটি টানে শুধু মানুষই নদী পার হন না, এগিয়ে চলে তাঁর নিজের জীবনসংগ্রামও। দীর্ঘদিন ধরে বোকা নদীর এই খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপারের দায়িত্ব পালন করছেন জিল্লু মিয়া। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রমের পর দিন শেষে তাঁর হাতে আসে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এই সামান্য আয় দিয়েই কোনোমতে চলে পরিবারের ভরণপোষণ। নদীর পাড়েই পলিথিনে মোড়ানো একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে বসবাস করেন ভূমিহীন জিল্লু মিয়া। চারদিকে নদী আর নদীভাঙনের স্থায়ী শঙ্কা। যে কোনো সময় নদীর করাল গ্রাসে হারিয়ে যেতে পারে তাঁর শেষ আশ্রয়টুকুও। তারপরও থেমে থাকার সুযোগ নেই। কারণ নৌকার বৈঠা থেমে গেলে থেমে যাবে পরিবারের একমাত্র আয়ের পথ। তাই প্রতিদিন ভাঙাচোরা নৌকাটিকে সঙ্গী করেই নদীতে নামেন তিনি। বোকা নদীর এই খেয়া শুধু একটি পারাপারের মাধ্যম নয়। এটি আলমপুর, ঘোড়াডুম্বুর, ডিগারকান্দি, নাজিমপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের ভরসা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী, চাকরিজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এই খেয়ার ওপর নির্ভর করেই নদী পারাপার করেন। স্থানীয়দের কাছে জিল্লু মিয়া কেবল একজন মাঝি নন, তিনি এই জনপদের অপরিহার্য অংশ। মাঝি জিল্লু মিয়া বলেন, এই খেয়া নৌকা চালিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সংসার চালাচ্ছি। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। এই টাকা দিয়ে সংসার চালানো খুব কষ্টের। তারপরও মানুষের পারাপারের সুবিধার কথা ভেবে প্রতিদিন নদীতে নামি। যতদিন শরীরে শক্তি থাকবে, ততদিন এই কাজ করে যেতে চাই। স্থানীয়রা বলেন, আমাদের নিত্যদিনের যাতায়াত সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও মাঝি জিল্লু মিয়া আজও রয়ে গেছেন অবহেলিত। তাঁর ব্যবহৃত নৌকাটি অনেক পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁকে একটি নতুন ও নিরাপদ খেয়া নৌকা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হলে তাঁর জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি আরও নিরাপদ হবে নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, বোকা নদীর এই খেয়া দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ যাতায়াত করেন। জিল্লু মিয়া নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষ পারাপার করছেন। তাঁর নৌকা না থাকলে স্থানীয়দের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি