সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোরে পাচার হয় ধোপাজান নদীর লুটের বালু দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে কঠোর পদক্ষেপ - জি কে গউছ ভাবমূর্তি বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ বিএনপির জাতিসংঘ অধিবেশন : ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নামমাত্র চারা লাগিয়ে বরাদ্দ লুটপাটের আয়োজন উকিলপাড়ার পুকুর যেন ময়লার ভাগাড় দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী শান্তিগঞ্জে নৌকা বাইচ নিয়ে সংঘাতের শঙ্কা বিশ্বম্ভরপুরে হিজল বাগান উজাড়, কাটা হলো ৬২টি গাছ ছাতকে ফোরলেন সড়কের কাজ উদ্বোধন করলেন এমপি কলিম উদ্দিন মিলন ‎জামালগঞ্জে বিএনপি নেতা জালাল উদ্দীন ফারুকীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ দিরাইয়ে পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪ জামালগঞ্জে বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অধ্যাপক ন্যাথানায়েল এডউইন ফেয়ারক্রস সরলতার ভুবনে সজ্জন মানুষ সার পাচারে জড়িত ডিলাররা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নিষিদ্ধ জালে বিপন্ন দেশি মাছ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা নৃত্যম নৃত্যালয়ের নৃত্য কর্মশালা সম্পন্ন বাউল সম্রাটকে স্মরণ করলো সুনামকণ্ঠ সাহিত্য পরিষদ দিরাই প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, অসহায়দের মধ্যে খাবার বিতরণ ভ্যাপসা গরমে চরম দুর্ভোগ, ব্যাহত ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম

টাঙ্গুয়ার হাওরের বিশ্রাম প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০২:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০২:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
টাঙ্গুয়ার হাওরের বিশ্রাম প্রয়োজন
টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সুনামগঞ্জের নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল। রামসার সাইট হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া এই হাওর প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। অথচ মানুষের অতিরিক্ত পর্যটন, হাউজবোটের অবাধ চলাচল, বর্জ্য ফেলা ও শব্দদূষণে সেই প্রকৃতিই আজ ক্রমশ বিপন্ন হয়ে উঠছে। সম্প্রতি সংরক্ষিত ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে পরিবেশ দূষণের দায়ে ছয়টি পর্যটকবাহী হাউজবোটকে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানটি নিঃসন্দেহে প্রয়োজনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো- শুধু জরিমানা করে কি টাঙ্গুয়ার হাওরকে রক্ষা করা সম্ভব? উত্তরটি খুব সহজ নয়। কারণ হাওরের ক্ষতি কেবল আইন ভঙ্গের ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক, হাউজবোট, প্লাস্টিক বর্জ্য, খাবারের উচ্ছিষ্ট, পয়োনিষ্কাশনের বর্জ্য ও উচ্চ শব্দের চাপ পড়ছে এর জলজ ও স্থলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর। মানুষের বিনোদনের জায়গা হিসেবে হাওরকে যত বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে, প্রকৃতির স্বাভাবিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ ততই কমে যাচ্ছে। তাই এখন টাঙ্গুয়ার হাওরের জন্য সবচেয়ে জরুরি হতে পারে ‘বিশ্রাম’। প্রকৃতিকে সব সময় মানুষের পাহারায় রাখতে হয় না। বরং অনেক সময় প্রকৃতিকে মানুষের হাত থেকে কিছুটা দূরে রাখাই সবচেয়ে কার্যকর সংরক্ষণ। টাঙ্গুয়ার হাওরকে যদি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যটন ও হাউজবোটের চাপ থেকে মুক্ত রাখা যায়, তাহলে প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে অনেক ক্ষতই সারিয়ে তুলতে পারে। মাছের প্রজনন, জলজ উদ্ভিদের পুনরুদ্ধার, পাখির নিরাপদ বিচরণ এবং পানির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারে হাওর নিজেই। তাই টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেবল পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে দেখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটি একটি জীবন্ত প্রতিবেশব্যবস্থা। এখানে মানুষের আনন্দের চেয়ে প্রকৃতির অস্তিত্বের গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রয়োজনে পর্যটনের জন্য মৌসুমি বিরতি, নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা, হাউজবোটের সংখ্যা সীমিত করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করা এবং সংরক্ষিত এলাকায় কঠোর নজরদারি চালু করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে স¤পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে অভিযান যেন কেবল জরিমানা আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। টাঙ্গুয়ার হাওরের জন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক সংরক্ষণ পরিকল্পনা। টাঙ্গুয়ার হাওরকে সব সময় মানুষের উপস্থিতিতে ‘রক্ষা’ করতে হবে - এমন নয়। কখনো কখনো মানুষকে একটু সরে দাঁড়াতে হয়, প্রকৃতিকে একটু নিঃশ্বাস নিতে দিতে হয়। টাঙ্গুয়ার হাওর আজ সেই বিশ্রামই চায়। তাকে একটু সময় দেওয়া হোক। প্রকৃতিকে নিজের মতো করে নিজেকে সারিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। কারণ প্রকৃতিকে বাঁচানোর সবচেয়ে বড় উদ্যোগ কখনো কখনো হয়- প্রকৃতির ওপর থেকে আমাদের চাপটা সরিয়ে নেওয়া।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
জাতিসংঘ অধিবেশন : ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ অধিবেশন : ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী