স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের জুগীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও প্রবাসী জহুর মিয়া সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার পৈতৃক স¤পত্তির ভুল রেকর্ড সংশোধন এবং মৌরসি স্বত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ নতুন কোর্ট পয়েন্টের একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জহুর মিয়ার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে জাবেদ আহমেদ মুন্না। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, জহুর মিয়া দীর্ঘ ১৮ বছর প্রবাসে ছিলেন। তার বাবা প্রয়াত খোরশেদ আলী ১৯৪৬, ১৯৫১ ও ১৯৫২ সালের বিভিন্ন নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে জুগীরগাঁও মৌজাসহ বিভিন্ন স্থানে জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে এসএ রেকর্ডে এসব জমি তাদের নামে স্বত্ব হিসেবে লিপিবদ্ধ হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি ওই স¤পত্তি ভোগদখল করে আসছে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৫২ সালের সেটেলমেন্ট জরিপের সময় ভুলবশত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক এবং আরও কয়েকজন ব্যক্তির নামে তাদের স¤পত্তির অংশ রেকর্ডভুক্ত করা হয়। এতে তাদের পারিবারিক স¤পত্তির স্বত্ব ক্ষুণœ হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা আর্থিক ও আইনগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকানার সমর্থনে বিভিন্ন দলিল ও খতিয়ানের জুগীরগাঁও মৌজায় (এসএ জেএল নং ১৫৫, আরএস জেএল নং ১১৩) এসএ খতিয়ান নং ১, ২, ৭, ৮, ৯, ১৫, ১০৫, ১১২, ১৩৪, ১৭১, ১৯১, ১৯২, ২০৬, ২০৭, ২৫১, ৩৩৫, ৩৮২, ৪০১, ৪৪৯, ৪৬০, ৪৭২, ৪৭৩, ৪৯৩, ৪৯৪ সহ বিভিন্ন খতিয়ানে তাদের নামে রেকর্ড রয়েছে। খোরশেদ আলীর খরিদীয় স্বত্বের সমর্থনে দলিল নম্বর ৪১৭৪ (২২/১০/১৯৪৬), ৯২৭২০ (৩১/১/১৯৫১), ২০/৩৭ (৯/৫/১৯৫১), ৯২৭২৪৬ (৩১/১০/১৯৫১), ৬০/৬৩ (১০/১১/১৯৫১) এবং ৮৭/৫০ (৬/১১/১৯৫২)। বারঘর মৌজা ও জুগীরগাঁও মৌজায় (এসএ ৭১৯২ দাগে ২ কেদার আমন জমি) খোরশেদ আলীর নামে সরকারি খাজনা পরিশোধের ডিসিআর ও রসিদ রয়েছে। বর্তমান আরএস জরিপে ১৩৪৪, ৩৭৬, ৫৫৬, ১২৬৬, ৩৭৯ ও ১৩৪৩ নং আরএস খতিয়ানে প্রবাসীর স্বত্বদখলীয় জমি ভুলবশত সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের (খাস) খতিয়ান ও অন্যান্য ব্যক্তির নামে রেকর্ড করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। আরও উল্লেখ করা হয়, উল্লিখিত ৬টি দলিলের মূলে জহুর মিয়ার পৈতৃক জমির পরিমাণ প্রায় ২০০ একর। এর মধ্যে ১৯৪৭ সালের ৪১৭৪ নং দলিল অনুযায়ী সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের কাইমা বিলে প্রায় ২৮ একর জমি রয়েছে, যা বর্তমানে জেলা প্রশাসকের খাস খতিয়ানভুক্ত রয়েছে। জহুর মিয়া জানান, পৈতৃক স¤পত্তি উদ্ধারে তিনি ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে অংশ নেন। সে সময় ডিসি অফিসের পক্ষ থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো তদন্ত প্রতিবেদন পাননি। পরবর্তীতে ৭ মে ২০২৬ তারিখে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার (লিগ্যাল এইড) কার্যালয়ে একটি অভিযোগ (প্রি-কেস নং ৪৭৯/২৬) দায়ের করেও কোনো সমাধান মেলেনি। বর্তমানে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র নিয়ে বিচার ও প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও ন্যায়বিচার পাননি বলে জানান। সংবাদ সম্মেলনে ভূমি মন্ত্রণালয়, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে রেকর্ড সংশোধন করে পৈতৃক ভূমির স্বত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান জহুর মিয়া। সংবাদ সম্মেলনে জহুর মিয়ার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল হামিদ, আব্দুল শাহীদ, সাইফুল্লাহ, মিজান মিয়া প্রমুখ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন
পৈতৃক সম্পত্তির রেকর্ড সংশোধন ও স্বত্ব ফেরতের দাবি
- আপলোড সময় : ০৩-০৮-২০২৬ ০১:৩৯:৩২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-০৮-২০২৬ ০১:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ