শামস শামীম::
*দুইজন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও ৫১ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদ শূন্য।
হাওর জেলা সুনামগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা। কর্মকর্তা না থাকায় স্কুলের নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়াও পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে কর্মচারী না থাকায় প্রশাসনিক কাজও বিলম্বিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক নানা প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি অফিস ও বিদ্যালয়ে প্রতিটি পদে জনবলের বিপুল ঘাটতির কারণে হাওরের প্রাথমিক শিক্ষা সংকটে আছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ২৭ জুলাই দুর্গম হাওর পরিদর্শনে এসে হাওরের প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। হাওরের শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রাথমিক বিভাগের সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নির্দেশনাও দেন তিনি।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ৪৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। ৭ হাজার ২৫৭ সহকারী শিক্ষকের পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৬ হাজার ৯৫ জন। দীর্ঘদিন ধরে ১ হাজার ১৬২ জন শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্কুলগুলো নিয়মিত তদারকির জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যবস্থাপনারও উন্নতি হয়। শিক্ষকরা জবাবদিহিতার মধ্যে থাকায় পাঠদানে গতি আসে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জেলায় দুইজন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও ৫১ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১০ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১জন। তিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। সুনামগঞ্জ সদরে ৯জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, দোয়ারাবাজারে ২, বিশ্বম্ভরপুরে ২, ছাতকে ৬, তাহিরপুরে ৪, জামালগঞ্জে ৩, ধর্মপাশায় ৬, শাল্লায় ২, দিরাইয়ে ৭, জগন্নাথপুরে ৭, শান্তিগঞ্জে ১ এবং মধ্যনগরে ১জনের পদ খালি রয়েছে।
উচ্চমান সহকারী ৮ জনের মধ্যে ৪জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ১৯জন, হিসাব সহকারী ১১ জনের মধ্যে ২জন এবং অফিস সহায়ক ১২ জনের মধ্যে ১২ জনের পদই খালি আছে। কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষকদের পর্যাপ্ত পদ খালি থাকায় হাওরের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার মানের অবনতি হচ্ছে বলে মনে করেন সুধীজন।
সুনামগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের নেতা সাইফুল আলম সদরুল বলেন, হাওরের প্রাথমিক শিক্ষায় নানা সংকট রয়েছে। হাওর বিবেচনায় এই সংকটকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে বিশেষ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভৌগোলিক বৈচিত্রের কারণে হাওরের প্রাথমিক শিক্ষাকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। এই সংকট জিইয়ে রেখে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনাজ্জির হোসেন সুজন বলেন, হাওরের প্রাথমিক শিক্ষা যুগ যুগ ধরে অবহেলিত। হাওরকে কখনো আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সব সময়ই শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিপুল পদ খালি থাকে হাওরের বিদ্যালয়গুলোতে। যার কারণে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। হাওরকে বিশেষায়িত এলাকা ঘোষণা করে শিক্ষার মানোন্নয়নে পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। তাহলেই আমরা শিক্ষায় জাতীয়ভাবে সমতায় পৌঁছতে পারবো।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, আমরা প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে জেলার প্রাথমিক শিক্ষার জনবল ও অন্যান্য সংকট বিষয়ে অবগত করেছি। তিনি নিজে সরেজমিন দুর্গম হাওরের বিদ্যালয় ঘুরে দেখেছেন। শিক্ষকসহ আমাদেরকে শিক্ষার মান্নোনয়নে নানা নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেই নির্দেশনা মেনে শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছি।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, গত ২৭ জুলাই আমরা প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে হাওরের দুর্গম বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। তিনি নানা সংকট চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদেরও আরো আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
হাওরের প্রাথমিক শিক্ষায় জনবল সংকট
১৬১৩ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক
- আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৬ ০১:১০:৫১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৬ ০১:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ