সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬ , ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৬১৩ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক মইয়ার হাওরে নৌকাডুবিতে নিহত ২, নিখোঁজ ২, ভবানীপুরে শোকের মাতম জামালগঞ্জে হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার দাবি বালুর নিচে হাজার বিঘা কৃষিজমি, বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা হবিগঞ্জে সারজিস ও নাসীরুদ্দীনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা সরকার নৈতিক দিক থেকে দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে : জামায়াত আমির একটি মহল সচেতনভাবে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করছে : মির্জা ফখরুল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিভক্তির চিত্র, ৬ ও ৮ আগস্ট পৃথক সমাবেশের ডাক উড়াল সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, স্মারকলিপি, ধর্ষকের ফাঁসির দাবি ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪ দাবি মেনে নতুন টোল নির্ধারণ, নদীপথে স্বাভাবিক হচ্ছে পণ্য পরিবহন সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ স্থগিত তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় ভারত : দীনেশ ত্রিবেদী চার্জশিট থেকে মূল আসামিসহ ৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ধোপাজান-চলতি নদীতে বালু লুট বন্ধের দাবি মানব সমাজ, সৃজনশীলতা ও সভ্যতার বিবর্তন : সৃষ্টি ও ধ্বংসের এক অনন্ত মহাকাব্য তাহিরপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে নৌপরিবহন ধর্মঘট, ব্যবসায় স্থবিরতা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে বেহাল সড়কে চরম ভোগান্তি

সীমান্তের কৃষিজমি রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৬ ০১:০৬:৫১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৬ ০১:০৬:৫১ পূর্বাহ্ন
সীমান্তের কৃষিজমি রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে নেমে আসা বালুর স্তূপ আবারও আমাদের সামনে একটি পুরোনো সমস্যাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। ঢলের পানি নেমে গেলেও কৃষকদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি বালুর নিচে চাপা পড়ে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে শুধু কৃষকদের ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, খাদ্য উৎপাদন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হাওরাঞ্চলের কৃষি মূলত এক ফসলনির্ভর। বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকার কারণে বোরো ধানই এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা। সেই একমাত্র ফসলের জমি যদি বালুর স্তূপে ঢেকে যায়, তবে কৃষকদের সামনে জীবিকার সংকট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। একটি মৌসুমের ক্ষতি অনেক পরিবারের পুরো বছরের আয়ের পথ বন্ধ করে দিতে পারে। ফলে এই সমস্যা কেবল কৃষির নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। প্রায় প্রতিবছরই পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা বালু কৃষিজমিতে জমা হয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়ে গেছে। বছর শেষে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হলেও সমস্যার মূল কারণ দূর করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি সন্তোষজনক নয়। একই ধরনের দুর্ভোগ বছরের পর বছর চলতে থাকলে তা নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ঘাটতিকেই নির্দেশ করে। এই পরিস্থিতিতে প্রথম কাজ হওয়া উচিত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত ও সঠিক জরিপ সম্পন্ন করা। কোথায় কত জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কতটুকু বালু অপসারণ প্রয়োজন এবং কতজন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন - এসব তথ্যের ভিত্তিতেই কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য জরুরি সহায়তা, প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে আগামী বোরো মৌসুমে তারা আবার উৎপাদনে ফিরতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদে সীমান্তবর্তী ছড়া, নালা ও নদী-খালগুলোর নিয়মিত খনন, পানি প্রবাহ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে টেকসই অবকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সীমান্তবর্তী অভিন্ন নদী ও পাহাড়ি ঢল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় জোরদার করাও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে তথ্য সংগ্রহের পর যেন বিষয়টি শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সীমান্তের কৃষকরা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; তারা চান তাদের উৎপাদনের সুযোগ ফিরে আসুক। তাদের জমি আবার সবুজ ধানের শীষে ভরে উঠুক - এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের অঙ্গীকার। তাই পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতে এমন ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এখনই কার্যকর, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
১৬১৩ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

১৬১৩ শিক্ষকের পদ শূন্য, ৪৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক