সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় ঐক্য নষ্টকারী ড. ইউনূস দেশে মব কালচারের জন্ম দিয়েছেন তাহিরপুরে প্রসূতি মায়েদের জন্য ‘পারাপার’ সেবা নৌকা ও পিকআপ অ্যাম্বুলেন্সে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর উদ্যোগ চোর অপবাদে ৩ যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার চাল বিতরণ বসুন্ধরা মেডিকেল সিটিতে শেয়ার মেলা, থাকছে সহজ কিস্তি ও বিশেষ ছাড় বিদ্যুৎ খাতেরসংকট গভীর হওয়ার কারণ খুঁজছেন বিশেষজ্ঞরা নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি! দিরাইয়ে একাধিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম পৌর প্রশাসকের সাথে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণকাজ অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে তদন্ত কমিটি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হচ্ছে : রিজভী লাইসেন্সের দাবিতে অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকদের বিক্ষোভ শান্তিগঞ্জে দিনমজুরের বসতভিটার বারান্দা ভেঙে জোরপূর্বক রাস্তা তৈরি পৌর জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল দিরাইয়ে মৎস্যজীবীদের সংবাদ সম্মেলন জলমহালে মাছ লুটের অভিযোগ রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি চুরি এল নিনো’র প্রভাব : আসন্ন মৌসুমে বোরো উৎপাদন হ্রাসের শঙ্কা জামালগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে সভাপতি তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ বহিষ্কার তাহিরপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা 'সাক্ষরতায় সমৃদ্ধি' সুনামগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভা
ঝুঁকিতে খাদ্যভান্ডার, সংস্কারে আবারও কোটি টাকা ব্যয়

নির্মাণের ৬ বছরেই নষ্ট ৮ খাদ্যগুদামের ছাদ

  • আপলোড সময় : ২৭-০৭-২০২৬ ০৯:২৬:৪৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-০৭-২০২৬ ০৯:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন
নির্মাণের ৬ বছরেই নষ্ট ৮ খাদ্যগুদামের ছাদ
শামস শামীম::
সুনামগঞ্জে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৮টি খাদ্যগুদাম নির্মাণের ৬ বছরের মাথায় গুদামের ছাদ নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি চুইয়ে নষ্ট হচ্ছে মজুদকৃত ধান-চাল। ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় পুরোভবনই ঝুঁকিতে পড়েছে। এই অবস্থায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ করে ছাদের উপরে অংশ ড্রিলিং মেশিনে অপসারণ করে নতুন করে প্যাটেন্ট স্টোন ঢালাই দেওয়ার কাজ করতে চাচ্ছে।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে ৬ বছর না যেতেই ৩৩ হাজার ৬০০ ফুটের ৮টি গুদামের ছাদ নষ্ট হয়ে গুদামের মজুতকৃত ধান চাল ঝুঁকিতে পড়েছে। এখন এসব ছাদ ও ভবন সংস্কার করতে সরকারের অন্তত আরো ১০ কোটি টাকা খরচ হবে। তাছাড়া সংস্কারের সময় গুদামের খাদ্য অন্যত্র সরাতে হলে সরকারের আরো অন্তত ২ কোটি টাকা খরচ হবে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
সরেজমিনে শহরের মল্লিকপুরস্থ খাদ্যগুদামে গিয়ে দেখা যায়, গুদামের ছাদে ওঠতে বাঁশ দিয়ে বিশাল সিঁড়ি বানানো হয়েছে। পূর্বের ভবনটিতে ওঠে দেখা যায় ভারী ড্রিল মেশিন লাগিয়ে ছাদ ভাঙছে শ্রমিকরা। ভাঙতে গিয়ে ছাদের ঢালাইয়ের রড বেরিয়ে আসছে। রডের নেটের প্রতিটি ফাঁক এক ফুটেরও বেশি। ড্রিল মেশিনে সহজেই ছাদ ভাঙছেন শ্রমিকরা। সিমেন্ট কম থাকায় এবং পরিমাণ অনুযায়ী নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার না করায় ছাদের গুণগত মান খুবই খারাপ বলে তারা জানান। এভাবে মল্লিকপুরস্থ চারটি গুদামের ছাদ ভেঙে নতুন করে ছাদ নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ওসি এলএসডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে ‘মেসার্স জারা ট্রেডিং এন্ড কোম্পানি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৩ কোটি ৯৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৮২ টাকায় ৮টি গুদাম নির্মাণের কাজ দেয়া হয়। ৮টির মধ্যে মল্লিকপুরেই রয়েছে ৫০০ মে.টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন চারটি গুদাম। মল্লিকপুরের পাশাপাশি সাচনা, মধ্যনগর, ছাতক ও দোয়ারাবাজারের একই ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন আরো চারটি গুদাম রয়েছে। সেগুলোর অবস্থাও একই রকম। জানা গেছে, ওই সময় তদবির করে কাজ বাগিয়ে নেবার পর তদারকির অভাবে ‘মেসার্স জারা ট্রেডিং এন্ড কোম্পানি’ যাচ্ছেতাইভাবে কাজ করে। পরে তৎকালীন সরকারের প্রভাব দেখিয়ে সংশ্লিষ্টদের জোরপূর্বক যাচ্ছেতাই কাজ বুঝিয়ে দিয়ে চলে যায়। বালু, পাথর, ইট, রড, সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর প্রতিটিতেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি। নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢালাইয়ের সময় ছাদে পর্যাপ্ত রড না দেওয়া, নির্ধারিত অনুপাতে সিমেন্ট ব্যবহার না করায় ৬ বছরের মাথায় ছাদের এই দশা হয়েছে।
জানা গেছে, তদবির করে জোরপূর্বক গুদাম বুঝিয়ে দেবার পরের বছরই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছিল। এখন খাদ্যগুদামের সংশ্লিষ্টরা ধান-চাল সংরক্ষণে পলিথিন দিয়ে গুদাম রক্ষা করছেন।
জানা গেছে, নিম্নমানের কাজ ও কাজে বিশাল দুর্নীতির কারণে এখন আবার সংস্কার করতে সরকারকে কয়েক কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে। এখন সংস্কারকাজ শুরু করায় প্রতিটি গুদামের মজুদকৃত খাদ্য অন্যত্র সরিয়ে নিতে গুদামপ্রতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা করে খরচ হবে। এর মধ্যে মল্লিকপুরের চারটি গুদামের খাদ্য অন্যত্র সরাতে হলে প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ হবে সরকারের। এভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে খাদ্যভান্ডার ঝুঁকিতে পড়েছে।
মল্লিকপুরের বাসিন্দা কালাম মিয়া বলেন, যখন কাজ করছিল তখন নিম্নমানের সব সামগ্রী ব্যবহার করেছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঢাকা থেকে খাদ্য বিভাগের যে ইঞ্জিনিয়ারকে সার্বক্ষণিক তদারকির দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আতাত করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে প্রকল্পস্থলে অবস্থান করেননি। যার ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করে চলে যায়।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা শাহিনুর রেজা বলেন, আমাদের মল্লিকপুরের চারটি গুদামের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। এখন তারা নতুন করে প্যাটেন্ট স্টোন ঢালাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে কাজ না করায় এই সমস্যা হয়েছে। এখন গুদামের মজুদকৃত খাদ্য পলিথিন দিয়ে রক্ষা করছি আমরা।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স জারা ট্রেডিং এন্ড কোম্পানি’র পরিচালকের কার্যালয়ে টিএন্ডটি নম্বরে যোগাযোগ করলে কেউ কল রিসিভ করেনি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় ঐক্য নষ্টকারী ড. ইউনূস দেশে মব কালচারের জন্ম দিয়েছেন

জাতীয় ঐক্য নষ্টকারী ড. ইউনূস দেশে মব কালচারের জন্ম দিয়েছেন