বিশেষ প্রতিনিধি::
দুপুরের সূর্য তখন মাথার ঠিক ওপরে। প্রখর রোদের তাপে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জের জনপদ। শহরের ব্যস্ত সড়কে মানুষের চলাচল কমে এসেছে, দোকানপাটেও নেমেছে অলসতা। কিন্তু এই দহন উপেক্ষা করেই ঘাম ঝরিয়ে কাজ করে চলেছেন একদল মানুষ। কারও কাঁধে ইট-বালুর বোঝা, কেউ রিকশার প্যাডেলে পা চালাচ্ছেন, কেউ ভ্যানে পণ্য নিয়ে ছুটছেন গন্তব্যে। কারণ সুনামগঞ্জের খেটে খাওয়া মানুষের কাছে রোদের তাপের চেয়েও বড় পেটের তাগিদ। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ট্রাফিক পয়েন্ট, পৌরবিপণি, নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তীব্র রোদের কারণে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কমে গেলেও কর্মব্যস্ততায় ভাটা পড়েনি শ্রমজীবী মানুষের। একই চিত্র জেলার হাওরাঞ্চলেও। খোলা আকাশের নিচে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা জমিতে কাজ করছেন, কেউ আবার নৌকায় করে হাওর পাড়ি দিয়ে জীবিকার সন্ধানে ছুটছেন। শহরের দিনমজুর মোস্তফা মিয়া বলেন, রোদে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। শরীর ঘামে ভিজে যায়। তারপরও কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। কাজ না করলে পরিবারের খরচ চলবে না। রিকশাচালক আব্দুল খালিক বলেন, দুপুরে যাত্রী কম থাকে। তবুও রাস্তায় থাকতে হয়। কারণ সারাদিনে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালাতে হয়। ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, গরমে বারবার পানি খেতে হয়। মাঝে মাঝে ছায়ায় একটু দাঁড়াই। কিন্তু বেশিক্ষণ বসে থাকলে আয় কমে যায়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করলে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় বিরতি নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মাথা ঢেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তবে বাস্তবতা বলছে, সেই পরামর্শ মেনে চলার সুযোগ সবার নেই। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের কাছে প্রতিটি কর্মঘণ্টাই আয়ের সঙ্গে জড়িত। একদিন কাজ বন্ধ থাকলে সংসারের হিসাব এলোমেলো হয়ে যায়। তাই তপ্ত রোদ, ক্লান্তি কিংবা শারীরিক কষ্ট - কোনো কিছুই তাদের জীবনসংগ্রাম থামাতে পারে না।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
প্রখর রোদেও থামে না জীবনসংগ্রাম
- আপলোড সময় : ২৬-০৭-২০২৬ ১০:১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৬-০৭-২০২৬ ১০:৩৮:৫২ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি