সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাহাড়ি ঢলে ভেঙেছে আছিয়ার শেষ আশ্রয়, অনিশ্চয়তায় জীবন ছাতক পৌরসভার টেকসই উন্নয়নে আইইউজিআইপি’র সভা জগন্নাথপুর পৌরসভার ২২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার বাজেট ঘোষণা অস্তিত্ব সংকটে পান্ডারখাল বাঁধ ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশুদের বার্ষিক সমাবেশ, ২ হাজার ৭৫০ শিশুর মাঝে উপহার বিতরণ সক্রিয় মাদক কারবারি চক্র মাদক, ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে দিরাই বিএনপিতে বিরোধ চরমে একপক্ষের বহিষ্কারের সুপারিশ, অপরপক্ষের উন্নয়ন সভার ডাক এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব : আইনমন্ত্রী জামায়াতের এমপির ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ভাইরাল, ফেসবুকে যে ব্যাখ্যা দিলেন চেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন ২৬ জনের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা ৪৮ পদের মধ্যে ৩৬টিই শূন্য জামালগঞ্জে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে শতাধিক বসতভিটা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন
ক্রীড়া অর্থনীতি

বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে আমাদের আচরণ ও স্থানীয় বাস্তবতা

  • আপলোড সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ১০:১৮:২৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ১০:১৯:০১ পূর্বাহ্ন
বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে আমাদের আচরণ ও স্থানীয় বাস্তবতা
ড. মো. আব্দুল হামিদ::
সম্প্রতি শাহবাগ অতিক্রম করার সময় দেখি ব্যাপক জনসমাগম। আন্দোলন-সংগ্রামের পীঠস্থানে এমন সমাবেশ মোটেও নতুন কিছু নয়। কিন্তু মিছিলের প্রস্তুতিরত লোকজনের কালারফুল জার্সি, লাতিন আমেরিকার একটি দেশের অগণিত পতাকা, আকর্ষণীয় ব্যানার, তারকা ফুটবলারদের পোস্টার এবং লাউড স্পিকারে অচেনা ভাষার গান পথচারীদের নজর কাড়ে। পরবর্তী সময়ে তাদের র‌্যালির কারণে এলিফ্যান্ট রোডে তীব্র যানজট হয়। সেই যানজটে বসে ভাবছিলাম যে সারা দেশে বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে যে তুলকালাম কা- চলছে তার তুলনায় এ ভোগান্তি কি উল্লেখ করার মতো ঘটনা। না, তেমন কিছুই না। বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালীন বেশির ভাগ ফুটবলপ্রেমী রাতে ঘুমায়নি। ক্লাসরুম বা কর্মক্ষেত্রে সারা দিন ঝিমায়। অফিসের নির্ধারিত কাজ বাদ দিয়ে খেলা বিশ্লেষণ করে। আড্ডায় বন্ধুদের তর্ক প্রায় ঝগড়ায় রূপ নেয়। সেখান থেকে হাতাহাতি এমনকি খুনোখুনি হয়! শুধু শহর নয়, গ্রামেও পছন্দের দলের শতফুট দীর্ঘ পতাকা টাঙানো, সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনরাত সক্রিয় থাকা, প্রতিপক্ষ দল জেতায় মাথা ন্যাড়া করা, দুধ দিয়ে গোসল করে দল পরিবর্তন করা, দলবেঁধে বা সপরিবারে রাত জাগা, বিভিন্ন ক্যা¤পাসে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে। পত্রিকায় হেডলাইন হচ্ছে, ফুটবল বিশ্বকাপ দ্বন্দ্বে দেশে ‘এত জন নিহত’! মনে হতে পারে বিশ্বকাপের মতো বিশাল একটা আয়োজন ঘিরে এমনটা হওয়া খুব স্বাভাবিক। এ নিয়ে আলাদা করে বলার কী আছে। হয়তো সেটাই সংগত। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগে- এটা কেমন ফুটবল প্রেম? সুযোগ থাকার পরও যারা মাঠে গিয়ে ফুটবলে লাথি মারে না, নিজ সন্তানকে মাঠে নামতে দেয় না, পাড়া-মহল্লায় ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে না কিংবা দেশের ফুটবলের মান নি¤œগামী হলেও তা নিয়ে টুঁ শব্দ করে না, তার পরও তাদের বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে উন্মাদনা কি যৌক্তিক, তারা কি সত্যিই ফুটবলকে ভালোবাসে? আমরা যদি দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশে জন্মগ্রহণ করতাম কিংবা একটা ফুটবল কেনার সামর্থ্য না থাকায় জাম্বুরা বা পরিত্যক্ত ক্যান দিয়ে ফুটবল খেলতাম। বস্তি বা পাড়ায় যদি ফুটবল বিস্ময় রোনালদিনহো, স্পিডমাস্টার রবার্তো কার্লোস, বাতিগোল নামে পরিচিত বাতিস্তুতা, ফুটবল জাদুকর ম্যারাডোনা কিংবা ফুটবলের কালোমানিক খ্যাত পেলের জন্ম হতো... তাহলেও না হয় এমন উন্মাদনা শোভা পেত। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলে ১১০ থেকে ১৮১তম স্থানে যাওয়া (সর্বনি¤œ ১৮৯তম) দেশের মানুষের এমন ‘ফুটবল ক্রেজ’ সত্যিই বিস্ময়কর। এটা ‘যার বিয়া তার খবর নাই, পাড়া-পড়শির ঘুম নাই’ প্রবাদ বাক্যটি স্মরণ করিয়ে দেয়! শেকসপিয়রের ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’ নাটকে বলা হয়েছে, ‘লাভ ইজ ব্লাইন্ড, অ্যান্ড লাভারস ক্যান নট সি’। হয়তো সে কারণে এ মহারণে আমাদের ক্ষতির দিকটা চোখে পড়ছে না। তাছাড়া বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে আমাদের সামগ্রিক আচরণ কতটা যৌক্তিক, এ টুর্নামেন্ট থেকে জাতি হিসেবে আমাদের কী অর্জন - সেই প্রশ্নও মনে জাগছে না! মার্কেটিংয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে বিগত কয়েক মাসজুড়ে আমি ফিফার অর্জনগুলো উপলব্ধি করতে চেষ্টা করেছি। একটিমাত্র ইভেন্টকে কেন্দ্র করে গোটা দুনিয়ার ৫০০ কোটির বেশি মানুষকে (কাতার বিশ্বকাপের তথ্য মোতাবেক) সক্রিয় করা, প্রতিদিন তাদের ইভেন্টে এনগেজ করা, টেলিভিশন বিমুখতার যুগেও কোটি কোটি মানুষকে মাসব্যাপী টিভির সামনে বসিয়ে রাখা... মোটেই সহজ কথা নয়! এ আয়োজন থেকে ফিফা প্রত্যক্ষভাবে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় করেছে। পাশাপাশি গোটা দুনিয়ায় এ-কেন্দ্রিক মিডিয়া কাভারেজ, জার্সি-পতাকা-স্যুভেনিউর বিক্রি, বহুজাতিক থেকে স্থানীয় ইভেন্টে ¯পন্সরশিপের পরিমাণ অনায়াসে শত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে! এ উপলক্ষে গোটা দুনিয়া অনলাইন-অফলাইন জুয়ায় সয়লাব হয়েছে। তাছাড়া আধুনিক যুগে একক কোনো বিষয়ে দর্শকদের মনোযোগ বেশিক্ষণ ধরে রাখা খুব কঠিন। তেমন প্রেক্ষাপটেও একক ইভেন্টের মাধ্যমে গোটা দুনিয়ার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাকে একই কাতারে আনা সহজ নয়। তাছাড়া ধর্ম ও যুদ্ধ ব্যতীত অন্য কোনো কারণে হাজার মাইল দূরের একটি দেশের পক্ষে তাদের জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নামা মোটেই সহজ ব্যাপার নয়। কিন্তু ফিফা অনন্য দক্ষতায় সেই কাজগুলো আমাদের দিয়ে করিয়েছে। কিন্তু আবেগের বাইরে দাঁড়িয়ে দেখলে, যা (ক্রীড়া নৈপুণ্য) নিয়ে আমাদের এতটা উন্মাদনা - সেই পণ্যের মান সত্যিই কি ‘অসামান্য’ ছিল? ফিফা তার আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনেক বেশি দলকে মূল টুর্নামেন্টে আনলেও প্রকৃতপক্ষে কয়টা ম্যাচ সত্যিকার দৃষ্টিনন্দন ছিল? সর্বোপরি, যে দুটি দল নিয়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা, বাকবিত-া বা আবেগের প্রদর্শন হয়েছে - তাদের খেলার মানও কি সত্যিই আমাদের আপ্লুত করেছে? আসলেই কি ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা দল এমন উচ্চমানের ফুটবল খেলেছে যার জন্য তারা এতটা উন্মাদনা প্রাপ্য? আমার (২০১০ সালে স্পেন বিশ্বকাপ জয়ের পর) বার্সেলোনার নিকটবর্তী শহরে বাস করার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ইউরোপের ক্লাব ফুটবলেও একেকটা ম্যাচে অসংখ্য ক্যারিশমা দেখা যায়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মনে প্রশ্ন জাগে, এবারের বিশ্বকাপে সব ম্যাচ মিলিয়ে তেমন কয়টা মুহূর্ত সৃষ্টি করতে পেরেছে - আমাদের মাত্রাতিরিক্ত সমর্থন পাওয়া এ দলগুলো? করপোরেট ব্র্যান্ডিংয়ের যুগে খ্যাতিমান ফুটবলারদের অন্ধভাবে গুণকীর্তন ছাড়া সত্যিকার চমক লাগানো কয়টা ফুটবল প্রতিভা বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে? তাহলে কেন এ পাগলপারা উন্মাদনা? এক সেমিফাইনালের রাতে প্রচ- চিৎকার, বাঁশির শব্দ আর অসংখ্য মোটরবাইকের আওয়াজে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর ভাবছিলাম, যারা বৃষ্টিতে ভিজে ভোর রাতে রাস্তায় নেমেছে তারা কি সত্যিই ফুটবলকে ভালোবাসে? তাই যদি হবে তাহলে নিজে কেন ফুটবল খেলে না? আশপাশের শিশুদের কেন খেলার উপকরণ কিনে দেয় না? তারা উদ্যোগী হয়ে এলাকায় কেন ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে না? ফুটবলকে জনপ্রিয় করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেন সক্রিয় থাকে না? সর্বোপরি কথা হলো, তারা কেন আমাদের দেশের ফুটবলের দুর্গতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় না? আমাদের শৈশবে এ দেশে আসলাম, সাব্বির, কায়সার হামিদ, মুন্না ও কাননদের মতো ফুটবল স্টার ছিল। আবাহনী-মোহামেডানের ম্যাচ হলে দর্শকভর্তি স্টেডিয়ামের পাশাপাশি গোটা দেশ টিভির সামনে বসে পড়ত। প্রতিটি এলাকায় সক্রিয় ক্লাব ছিল। তারা প্রতি বছর একাধিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করত। সেগুলোতে দূর-দূরান্ত থেকে নামকরা দল ও খেলোয়াড়রা অংশ নিত। তখন বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি প্রাইভেট কোম্পানিগুলোও নিজেদের ফুটবল টিম গঠন করত। তাদের প্লেয়াররা দূরবর্তী অঞ্চলে খেলতে যেত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বছরব্যাপী ফুটবলের হাজারো আয়োজন হতো। আজ মাঠের খেলাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে আমরা সপরিবারে টিভিসেটের সামনে বসে পড়েছি! সন্তানদের খেলতে মাঠে না পাঠিয়ে ফুটবল নিয়ে টিকটক করাচ্ছি। গতকাল দেখলাম এক শিশু অতি আবেগে মেসিকে ‘আব্বা’ ডাকছে। অথচ সেই শিশুটি হয়তো বাংলাদেশের তিনজন ফুটবলারের নাম জানে না! তাহলে কখন, কেন ও কীভাবে আমরা এতটা আত্মবিস্মৃত জাতিতে পরিণত হলাম? ফুটবলকে সত্যিই ভালোবাসলে আমরা কি তার বিস্তার বা প্রসারে উদ্যোগী হতাম না? নিজে চর্চার পাশাপাশি অন্যেরা যেন ফুটবল খেলতে পারে তেমন পরিবেশ তৈরি করতাম না? তার চেয়েও বড় কথা হলো, দেশের ফুটবলে বহুগুণ বরাদ্দ বেড়েছে, ক্লাবগুলো এখনো নানা কায়দায় অর্থ বানাচ্ছে কিন্তু তাদের ফুটবলে অধঃপতন থামছে না - এ বিষয়ে আমরা কি সোচ্চার হচ্ছি? আমাদের জাতীয় ফুটবল দলের উন্নতি হচ্ছে না - সে বিষয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা আছে কি? ১৯৮৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট’স গোল্ডকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ ফুটবল দল দক্ষিণ কোরিয়াকে হারায়! সেই জায়গা থেকে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপের (২০০২ সালে) সেমিফাইনাল খেলে। অথচ আমাদের দল ক্রমে তলানীতে যাচ্ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের (১৭১তম) চেয়ে আমরা ফুটবল র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে রয়েছি-এগুলো নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা আছে? গত এক মাসে যে পরিমাণ মানুষ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ফুটবলের জন্য রাস্তায় নেমেছে তারা যদি বাংলাদেশের ফুটবলের মানোন্নয়নে রাজপথে নামত আমাদের ফুটবল কর্তাদের টনক নড়ত। তারা নিয়মিত বরাদ্দ পাচ্ছে, স্পন্সরশিপ বেড়েছে, মিডিয়া কাভারেজ বেড়েছে, তাহলে ফুটবলের মান কেন বাড়বে না এ প্রশ্ন সামনে আসত। বাংলাদেশ একসময় ডানা ও গোথিয়া কাপে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল। সেদিন আমাদের কিশোর ফুটবলাররা ইতালি, জার্মানি, ডেনমার্ক, সুইডেন ও ব্রাজিল দলকে হারিয়েছিল। সেই অর্জনের মাধ্যমেই বিকেএসপি দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিল। তারপর কোথায় হারিয়ে গেল সেই ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান? আসলে আমরা আবেগে চলি, তাই প্রতিষ্ঠান গড়া বা তার নার্সিংয়ে সেভাবে মনোযোগ দিই না। আমাদের ফুটবলের মানোন্নয়ন করতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করতে হবে। জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত অসংখ্য ক্লাব রয়েছে। সেগুলো প্রতি বছর সরকারি বরাদ্দ পায়। কিন্তু সেগুলো গুটিকতক মানুষের পেটে যায়। ফুটবলের উন্নতি হয় না। আবার ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ্য প্রশিক্ষকের অভাব, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকা, সর্বোপরি দুর্নীতির কারণে আমাদের শিশু-কিশোর-তরুণ ফুটবলাররা উঠে আসতে পারে না। অন্যদিকে প্রকৃত ক্রীড়ানুরাগীদের পরিবর্তে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় অযোগ্য লোকেরা ফেডারেশনগুলো দখল করে বসে থাকে। ফলে আমরা নিজেরা খেলায় অংশ নেয়ার পরিবর্তে অন্যের খেলার দর্শক হয়ে ধন্য হই! বুঝলাম, রাতারাতি খেলার মান উন্নত হবে না। কিন্তু সেই স্বপ্ন বা চেষ্টা তো থাকতে হবে। এ বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে তেমন সচেতনতা লাভ হলে সেটাই বা কম কী? কিন্তু সেটা কি আদৌ হয়েছে? তা না হলে মাসভর রাত জেগে হইচই করে আসলে আমরা কী অর্জন করলাম? [ড. মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) অতিরিক্ত পরিচালক]

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সক্রিয় মাদক কারবারি চক্র মাদক, ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে

সক্রিয় মাদক কারবারি চক্র মাদক, ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে