বাঁধের দুই পাশে ইট-বালু-পাথরের স্তূপ, একাধিক স্টোন ক্রাশার
অস্তিত্ব সংকটে পান্ডারখাল বাঁধ
- আপলোড সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ০৯:৫৪:১৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ০৯:৫৪:১৪ পূর্বাহ্ন
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি ::
দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহাসিক পান্ডারখাল বাঁধ এখন অস্তিত্ব সংকটে। বাঁধের দুই পাশে অবৈধভাবে ইট, বালু ও পাথরের স্তূপ এবং একাধিক স্টোন ক্রাশার গড়ে ওঠায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে এবং বাঁধ ধসের ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন, যাতে হুমকিতে পড়েছে দেখার হাওরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ ফসলি এলাকা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৫১ বছর আগে নির্মিত বাঁধের দুই পাশে বিশাল স্তূপে রাখা ইট-বালু-পাথর ও চালু স্টোন ক্রাশারের ভারী চাপে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে; ধুলাবালি ও শব্দদূষণে ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৭৪ সালে দেখার হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় নির্মিত এই বাঁধ একসময় সারিবদ্ধ গাছ, প্রবাহিত নদী ও বসার ছাউনি নিয়ে ছিল পর্যটনসদৃশ মনোরম স্থান। কিন্তু অবৈধ দখল ও বালু-পাথরের স্তূপে সেই সৌন্দর্য এখন প্রায় বিলীন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে বর্ষায় বাঁধ ধসে দেখার হাওরসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হতে পারে।
স্তূপের কারণে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচলেও দুর্ভোগ বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা জানান, আগে যেখানে বসে সময় কাটানো যেত, এখন সেখানে দাঁড়ানোরও জায়গা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দখল ও দূষণ নিয়ে বহুবার অভিযোগ করেছি; মাঝেমধ্যে অভিযান-জরিমানা হলেও কয়েকদিন পর আবার আগের মতো ব্যবসা শুরু হয়।
ইউপি সদস্য জুয়েল বলেন, ঐতিহ্যবাহী বাঁধটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে; সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি