সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট একজনের মৃত্যুদন্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ দাবদাহে যুক্তরাজ্যে ২৭০০ জনের প্রাণহানি খাসিয়ামারা নদী গিলছে ভিটেমাটি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক সভা একটি দল জনগণের বিপক্ষে ছিল, তাদের রাজাকার বলা হয় : সুলতান সালাউদ্দিন জনগণের সমর্থন থাকলে কোনো বাধাই বিএনপিকে থামাতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে পিতা-পুত্রের পাল্টাপাল্টি মামলা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি আড়াই কোটি টাকার ৪ নৌ-অ্যাম্বুলেন্স অকেজো, একদিনও সেবা পাননি হাওরবাসী বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, মামলা-হামলায় থমথমে শ্যামনগর গ্রাম মধ্যনগরে বিএনপি নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল এমপি হান্নান মাসউদের জন্য মাঝ নদী থেকে ঘাটে ফেরানো হলো ফেরি সবচেয়ে বেশি বৃত্তি সদরে, কম শাল্লায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় জেলায় সেরা জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে ৮ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের আলোচনায় জেলা প্রশাসক, জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে উজানের ঢলে বেড়েছে সুরমা নদীর পানি সাত জেলায় বন্যায় ৫১ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ মানুষ

পথে যেতে যেতে: পথচারী

  • আপলোড সময় : ১৫-০৭-২০২৬ ০৯:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৭-২০২৬ ০৯:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন
পথে যেতে যেতে: পথচারী
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক আবুল ফজলের জন্ম ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দের ১ জুলাই চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেউচিয়া ইউনিয়নে। পিতা মৌলভী ফজলুর রহমান, মাতা গুলশান আরা ছিলেন গৃহিণী। তাঁর স্কুল জীবন কাটে সরকারি মাদ্রাসা চট্টগ্রামে। ১৯২৩ সালে এসএসসি এবং ১৯২৫ সালে ঢাকা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (বর্তমানে কবি নজরুল ইসলাম সরকারি কলেজ) হতে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯২৮ সালে বিএ এবং ১৯৪০ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমএ পাশ করেন। মহান এই পুরুষ ছিলেন খুবই মেধাবী। শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের সর্বত্রই দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় চট্টগ্রামে স্কুল শিক্ষক হিসেবে। পরে কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। দেশ বিভাগের পরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) এসে যুক্ত হন অধ্যাপনা কাজে। এক পর্যায়ে সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। কর্মের ব্যস্ততার ভেতরও তিনি বিশ্বাস করেন একজন মানুষের বিশ্বস্ত সঙ্গী কেবল বই আর বই। খাবার মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজন, কিন্তু মনের সজীবতার জন্য প্রয়োজন কেবল বই আর বই। একজন উত্তম সঙ্গী হিসেবে বইয়ের বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না। জনাব আবুল ফজল একজন সু-সাহিত্যিক হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন। তাঁর অনেক সমৃদ্ধ রচনা আজও পাঠক প্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। তাঁর রচিত উপন্যাস ‘চৌচির’ ও ‘রাঙা প্রভাত’ তৎকালীন পাঠক মহলে ব্যাপক সারা জাগিয়েছিলেন। অন্যান্য রচনা ‘পথের যাত্রী’, ‘সাহসিকা’, ‘প্রদীপ ও পতঙ্গ’, ‘পরিবর্তন’, ‘বিচিত্র কথা’, ‘মাটির পৃথিবী’, ‘প্রবন্ধ সংকলন’ ইত্যাদি। তিনি একজন স্বাধীন চিন্তার মানুষ। সমাজ সচেতনতা তাঁর রচনায় আমরা পাই। তাঁর কর্মজীবন অনেক আলো উজ্জ্বল প্রভায় দীপ্ত। অধ্যাপক আবুল ফজল এক পর্যায়ে শিক্ষা ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা নিয়োজিত হয়েছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ের ৪র্থ উপাচার্য নিয়োগ হওয়ার পর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর দায়িত্বকাল ছিল ৯ এপ্রিল ১৯৭৩ থেকে ২৭ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত। আবুল ফজল একটি ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেছিলেন। তাঁর পিতা মৌলভী ফজলুর রহমান এবং পিতামহ মৌলভী হায়দার আলী। মৌলভী হায়দার আলী চট্টগাম জামে মসজিদে দীর্ঘদিন পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ে অধ্যায়নকালে আবুল ফজল ‘ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ সামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন এই প্রতিষ্ঠানের হয়ে অনেক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করেন। এক পর্যায়ে ১৯৩০ সালে এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। ব্যক্তিগত জীবনে আবুল ফজল এক পুত্র সন্তানের জনক। পুত্র সন্তানের নাম আবুল মোমেন প্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ আবুল ফজল বাংলা একাডেমি সাহিত্য পদক (১৯৬২) এবং স্বাধীনতা পদক (২০১২) ছাড়াও অন্যান্য যে সকল পদক পানÑ রাষ্ট্রপতি জাতীয় পদক (১৯৬৬), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৮০), মুক্তধারা সাহিত্য পদক (১৯৮১) আব্দুল হাই সাহিত্য পদক (১৯৮২)। চিন্তাশীল সাহিত্য সাধনার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে তাঁকে সম্মাননাসূচক ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি প্রদান করে। অধ্যাপক আবুল ফজলের পুরো নাম আবুল ফজল ইবনে মোবারক। তিনি ছদ্মনামেও অনেক রচনা লিখেছেন। তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘শমসের উল আজাদ’। তাঁর বিখ্যাত রচনা ‘রেখাচিত্র’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। এছাড়া ১৯৭২ সালে প্রকাশিত ‘দুর্দিনে দিনলিপি’ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। মুঘল স¤্রাট আকবরের রাজত্বকালের ইতিহাস নিয়ে গ্রন্থ ‘আকবরনামা’ উল্লেখযোগ্য একটি রচনা। তেমনি অপর একটি রচনা ‘আইন-ই আকবরী’। আবুল ফজল বাংলা সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় নাম। চিন্তাশীল লেখক হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি চির অম্লান। ১৯৮৩ সালের ৪ মে ৭৯ বছর বয়সে এই মহান প্রতিভার জীবনের ইতি ঘটে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স