সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ , ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধর্মপাশায় অবৈধ দখলদারদের হাতে জলমহাল হস্তান্তরের অভিযোগ ধানের স্বল্পমেয়াদি জাত বিনা ধানের চাষাবাদ সম্প্রসারণে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত ‎উমরাহ পুরষ্কার বিজয়ী হাফিজ এহসানুলকে সুনামগঞ্জে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা শান্তিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আনসার সদস্যের মৃত্যু এক যুগে দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বেড়েছে ৬৫ শতাংশ, বাড়ছে দৃষ্টিহীনতার ঝুঁকি শাল্লায় বিতর্ক প্রতিযোগিতা উদ্বোধন দেখার হাওর রক্ষায় মহাসিং নদী খনন ও স্লুইস গেট স্থাপনের দাবি কর্মহীন হাজারো শ্রমিক, কমছে ব্যবসা-রাজস্ব প্রতিবাদের মুখে বন্ধ হলো চার হাজার বৃক্ষ কর্তন, তদন্ত কমিটি গঠন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুনামগঞ্জ-সাচনা বাজার সড়কে পরিপক্ব অজুহাতে ৪ সহস্রাধিক গাছ কর্তন দখলে অস্তিত্ব সংকটে মৌলা খাল বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে দেশব্যাপী বেতার শ্রোতাদের কর্মসূচি বন বিভাগের ‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সুনামকণ্ঠ সাহিত্য পরিষদের সাপ্তাহিক সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত দিরাইয়ে পরোয়ানা ভুক্ত তিন আসামি গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : প্রেস সচিব শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ জনের ১৮ জনই সুনামগঞ্জের, ৯ বাংলাদেশির মৃত্যুর শঙ্কা জয়শ্রী ইউনিয়ন বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন

ঐতিহ্যের নৌকা শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ১১:১৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ১১:১৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
ঐতিহ্যের নৌকা শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন
হাওরাঞ্চলের জীবন-সংস্কৃতি, যোগাযোগ ও অর্থনীতির সঙ্গে নৌকার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। বিশেষ করে সুনামগঞ্জে বর্ষা এলেই নৌকাই হয়ে ওঠে মানুষের প্রধান বাহন। সেই প্রয়োজন পূরণে সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের শত শত কারিগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নৌকা নির্মাণ করে আসছেন। আজ এই গ্রাম শুধু একটি জনপদ নয়, বরং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রতি বছর প্রায় ২২ কোটি টাকার নৌকা উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে সচ্ছল নন। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কাঠের সংকট, পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব এবং মহাজননির্ভর ব্যবসা তাদের লাভের বড় অংশ কেড়ে নিচ্ছে। ফলে যে শিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, সেই শিল্পের মূল চালিকাশক্তি কারিগররাই বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের উন্নয়নের কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে অনেক ঐতিহ্যবাহী শিল্প এখনো প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত। মাইজবাড়ির নৌকা শিল্প তার একটি বাস্তব উদাহরণ। সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তা এবং দেশব্যাপী বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প আরও বিকশিত হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আগ্রহী হবে, যা একটি ঐতিহ্যকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর চলমান উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। তবে প্রশিক্ষণ ও সীমিত ঋণ কর্মসূচির বাইরে গিয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের সময় এসেছে। প্রয়োজন নৌকা শিল্পকে সম্ভাবনাময় গ্রামীণ শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ, সহজ অর্থায়ন, কারিগরদের নিবন্ধন, সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বাজারজাতকরণে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা। নৌকা কেবল একটি যানবাহন নয়; এটি হাওরাঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার প্রতীক। এই শিল্প টিকে থাকলে যেমন হাজারো পরিবারের জীবিকা সুরক্ষিত হবে, তেমনি সংরক্ষিত হবে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। তাই কোটি টাকার এই শিল্পকে শুধু পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, এর সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
কর্মহীন হাজারো শ্রমিক, কমছে ব্যবসা-রাজস্ব

কর্মহীন হাজারো শ্রমিক, কমছে ব্যবসা-রাজস্ব