সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

ঐতিহ্যের নৌকা শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ১১:১৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ১১:১৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
ঐতিহ্যের নৌকা শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন
হাওরাঞ্চলের জীবন-সংস্কৃতি, যোগাযোগ ও অর্থনীতির সঙ্গে নৌকার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। বিশেষ করে সুনামগঞ্জে বর্ষা এলেই নৌকাই হয়ে ওঠে মানুষের প্রধান বাহন। সেই প্রয়োজন পূরণে সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের শত শত কারিগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নৌকা নির্মাণ করে আসছেন। আজ এই গ্রাম শুধু একটি জনপদ নয়, বরং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রতি বছর প্রায় ২২ কোটি টাকার নৌকা উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে সচ্ছল নন। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কাঠের সংকট, পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব এবং মহাজননির্ভর ব্যবসা তাদের লাভের বড় অংশ কেড়ে নিচ্ছে। ফলে যে শিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, সেই শিল্পের মূল চালিকাশক্তি কারিগররাই বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের উন্নয়নের কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে অনেক ঐতিহ্যবাহী শিল্প এখনো প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত। মাইজবাড়ির নৌকা শিল্প তার একটি বাস্তব উদাহরণ। সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তা এবং দেশব্যাপী বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প আরও বিকশিত হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আগ্রহী হবে, যা একটি ঐতিহ্যকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর চলমান উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। তবে প্রশিক্ষণ ও সীমিত ঋণ কর্মসূচির বাইরে গিয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের সময় এসেছে। প্রয়োজন নৌকা শিল্পকে সম্ভাবনাময় গ্রামীণ শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ, সহজ অর্থায়ন, কারিগরদের নিবন্ধন, সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বাজারজাতকরণে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা। নৌকা কেবল একটি যানবাহন নয়; এটি হাওরাঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার প্রতীক। এই শিল্প টিকে থাকলে যেমন হাজারো পরিবারের জীবিকা সুরক্ষিত হবে, তেমনি সংরক্ষিত হবে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। তাই কোটি টাকার এই শিল্পকে শুধু পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, এর সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স