সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল : রোগীর চাপ সামলাতে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন
- আপলোড সময় : ০৬-০৭-২০২৬ ১২:০৯:০২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৬-০৭-২০২৬ ১২:০৯:০২ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে বর্তমানে ৮০২ জন রোগী ভর্তি থাকার তথ্য শুধু একটি জেলার স্বাস্থ্যসেবার সংকটকেই তুলে ধরে না, এটি দেশের জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর বাস্তব চিত্রও সামনে আনে। একটি হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এর সঙ্গে যদি যুক্ত হয় চিকিৎসক সংকট, ওষুধের ঘাটতি, শয্যার অপ্রতুলতা এবং দীর্ঘদিন ধরে তত্ত্বাবধায়কের পদ শূন্য থাকা - তাহলে চিকিৎসাসেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই স্বাভাবিক।
বর্তমানে হাসপাতালে হাম, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মৌসুমি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এমন সময়ে একসঙ্গে সাতজন চিকিৎসকের বদলি স্বাস্থ্যসেবাকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। চিকিৎসকদের আন্তরিকতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
রোগীরা যখন একটি শয্যায় একাধিক ব্যক্তি মিলে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন, অনেককে মেঝে কিংবা বারান্দায় থাকতে হয়, তখন তা শুধু মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী নয়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও বড় ঝুঁকি তৈরি করে। হামের মতো সংক্রামক রোগের রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত আইসোলেশন ব্যবস্থা না থাকলে রোগ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ- বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য হওয়া, চিকিৎসকের স্বল্পতা এবং প্রয়োজনীয় তদারকির অভাব - সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে দুর্বল করে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। একটি বৃহৎ সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক নেতৃত্ব অনুপস্থিত থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় ব্যাহত হওয়াই স্বাভাবিক। স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল খাতে এমন শূন্যতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অবিলম্বে শূন্য চিকিৎসক পদে নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ, অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনে অস্থায়ী অতিরিক্ত ওয়ার্ড চালু এবং সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। সুনামগঞ্জের মতো প্রত্যন্ত জেলার মানুষের একমাত্র প্রধান সরকারি হাসপাতাল যদি প্রয়োজনীয় সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন নি¤œ ও মধ্যবিত্ত মানুষ, যাদের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই বিষয়টিকে কেবল একটি হাসপাতালের সংকট হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্যের জরুরি ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়