বাদল কৃষ্ণ দাস::
দীর্ঘদিন যাবৎ তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামালগঞ্জে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নেই। নেইমপ্লেইটে মো. আফজাল হোসেন নামে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম লেখা থাকলেও তার উপস্থিতি আশপাশের বিভিন্ন দফতরের কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। উনি এই অফিসে আসেন না। মো. মোজাম্মেল হক নামে জনৈক অফিস সহকারী দায়িত্বে থাকলেও তাকে দিনের বেলা কোন কার্যদিবসে উক্ত কার্যালয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন। মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন দফতরের লোকজনের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, মোজাম্মেল হককে তারা কোনদিনও অফিস করতে দেখেননি। তার অবস্থানও নিশ্চিত করে কেউ জানেন না। এদিকে বিগত কয়েক মাস যাবৎ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া যাচ্ছে। দরজার পাশে বাহিরে দেয়ালে এক টুকরো কাগজে প্রিন্ট করা অফিস সহকারী মো. মোজাম্মল হকের নাম ও ঐ ব্যক্তির মোবাইল নাম্বার দেওয়া আছে। কিন্তু তিনি কোথায় থাকেন, কি কাজ করেন, তাও কেউ জানেন না।
খোঁজ নিয়ে আরো জানাযায়, অফিস সহকারী ওই মোজাম্মেল হক রাতের বেলা নাকি অফিসের দরজা খুলে কিছুক্ষণ বসে থেকে চলে যান। এদিকে দিনের বেলা অফিস সময়ে মহিলা বিষয়ক বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে লোকজন এসে ফিরে যাচ্ছেন।
সদর ইউনিয়নের নয়াহালট গ্রামের আরিফ মিয়া, জামালগঞ্জ নতুন পাড়ার জয়নব খাতুন, বেহেলী ইউপি সদস্যা হাফছা আক্তারসহ আরো কয়েকজন অভিযোগ জানিয়ে বলেন, মহিলা বিষয়ক জরুরি কাজে মো. মোজাম্মেল হক নামক অফিস সহকারীর ও কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের সাক্ষাত পাবার জন্য দুইমাস যাবৎ তারা আসা-যাওয়া করছেন। কিন্তু কাউকেই পাচ্ছেন না। এরকম অনেক মহিলারা মাসের পর মাস মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে বার বার এসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, অসংখ্য বার অফিস সহকারী মোজাম্মেল হকের মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন ভুক্তভোগী নারীরা। ফোন করলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেন না। কদাচিৎ ফোন রিসিভ করলেও কোন কথা না বলেই কিছুক্ষণ পর লাইন কেটে দেন।
এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার একেবারে সম্মুখে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় কিভাবে মাসের পর মাস তালাবদ্ধ থাকে তা জনসাধারণের বোধগম্য নয়। এতে মহিলা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট উপকারভোগী জনসাধারণ হয়রানির শিকার হয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করছেন।
এ ব্যাপারে বিগত সময়ে উপজেলা নির্বাহী (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তার কাছে স্থানীয় সাংবাদকর্মীরা বিষয়টি অবগত করলেও কোনো সুফল আসেনি।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এজেএম রেজাউল আলম বিন আনছারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জামালগঞ্জ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও অফিস সহকারী মোজাম্মেল দুজনেরই এক্টিভিটি ভাল না, খুবই খারাপ। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে কেবল আমাদের প্রধান কার্যালয়, মন্ত্রণালয়। সেজন্য লিখিত অভিযোগ না পেলে তো আমরা কিছু করতে পারি না। চেয়ারম্যান, মেম্বার সবাই মৌখিক অভিযোগ করেন। লিখিতভাবে কেউ অভিযোগ করেন না। এসমস্যা শুধু জামালগঞ্জ নয়। জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর, সব জায়গাতেই এই অপকর্মগুলো করতেছে। আপনারা যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেন, তবে আমি মন্ত্রণালয়ে লিখব, তখন যদি কিছু একটা হয়।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক বলেন, আমি আগামীকালই ( আজ রবিবার) উনাকে ডাকবো।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
জামালগঞ্জ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়
দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অফিস, দেখা নেই কর্মকর্তা-কর্মচারীর
- আপলোড সময় : ০৫-০৭-২০২৬ ১০:৩৫:৫১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৫-০৭-২০২৬ ১০:৩৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
ছবি: জামালগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়।
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ