অবহেলায় বন্ধ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয় : অবিলম্বে চালু হোক শিক্ষা কার্যক্রম
- আপলোড সময় : ০৪-০৭-২০২৬ ০৮:২৬:১৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৪-০৭-২০২৬ ০৮:২৬:১৭ পূর্বাহ্ন
একটি সভ্য রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম সূচক হলো- সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য শিক্ষা ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা। বিশেষ চাহিদাস¤পন্ন শিশুদের জন্য শিক্ষা শুধু একটি অধিকার নয়, বরং তাদের আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ভিত্তি। অথচ অত্যন্ত দুঃখজনক যে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের উজানীগাঁও গ্রামে হাওরাঞ্চলের একমাত্র সরকারি সমন্বিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয় নির্মাণের প্রায় এক দশক পরও চালু হয়নি।
প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যালয়টি আজ শিক্ষার্থীর কোলাহলহীন এক পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। অব্যবহারে ভবনের অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, শিক্ষাসামগ্রী ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এমনকি অসামাজিক কর্মকা-েরও আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে। এটি শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়; এর চেয়েও বড় ক্ষতি হচ্ছে সেইসব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের, যারা এই প্রতিষ্ঠান চালু থাকলে শিক্ষা, আবাসন, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের সুযোগ পেতে পারত।
কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থী সংকটের কারণে বিদ্যালয়টি চালু করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন হলো- শিক্ষার্থী খুঁজে বের করা এবং তাদের অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করা কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব নয়? শুধু পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ইউনিয়ন পর্যায়ে সমাজসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং প্রতিবন্ধী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে প্রকৃত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করা সম্ভব।
বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইন, নীতি ও কর্মপরিকল্পনাও রয়েছে। সেই বাস্তবতায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি পরিকল্পনার দুর্বলতা, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব এবং জবাবদিহির সংকটেরও প্রতিফলন।
হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য এমন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দূরবর্তী অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সন্তানকে অন্য জেলায় বিশেষ বিদ্যালয়ে পাঠানো প্রায় অসম্ভব। ফলে বিদ্যালয়টি চালু না থাকায় অনেক শিশুই শিক্ষা থেকে স্থায়ীভাবে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এটি সংবিধানে স্বীকৃত সমান শিক্ষার অধিকার এবং মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য- উভয়ের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক।
সরকারের উচিত অবিলম্বে বিদ্যালয়টির সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে কার্যক্রম চালুর জন্য সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা। প্রয়োজনীয় শিক্ষক, ব্রেইল প্রশিক্ষক, আবাসিক তত্ত্বাবধায়ক ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ ভর্তি অভিযান পরিচালনা করে প্রকৃত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের বিদ্যালয়ের আওতায় আনতে হবে। ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও জোরদার করা জরুরি।
কোটি টাকার ভবন নির্মাণই কোনো প্রকল্পের সাফল্য নয়; প্রকৃত সাফল্য তখনই, যখন সেই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের জীবন বদলে যায়। সুনামগঞ্জের সরকারি সমন্বিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি আর অবহেলার প্রতীক হয়ে থাকবে না - এটাই হোক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অঙ্গীকার। হাওরাঞ্চলের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়