‘জাল যার, জলা তার’ নীতিতে চলবে হাওর ও নদী ব্যবস্থাপনা : মৎস্য প্রতিমন্ত্রী
- আপলোড সময় : ০৪-০৭-২০২৬ ০৮:১৮:০৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৪-০৭-২০২৬ ০৮:১৮:০৪ পূর্বাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
হাওর ও নদীর জলাশয় ব্যবস্থাপনায় ‘জাল যার, জলা তার’ নীতি বাস্তবায়ন করার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিত করে দেশের হাওর ও নদী ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোণার মদন উপজেলার উচিতপুর হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় সরকার দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে বলেও জানান মৎস্য প্রতিমন্ত্রী।
জলাশয় ও নদী-খাল সংস্কার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি প্রথম শুরু করেছিলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের নদী-খাল খনন, জলাশয় সংরক্ষণ এবং নাব্যতা রক্ষায় বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদী ও খাল খনন করা হয়েছে, যার ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন, জলাশয় সংরক্ষণ এবং সার্বিক মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির এক বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের জলাশয়গুলোকে প্রভাবশালী মুক্ত ও উন্মুক্ত রাখা, যেন প্রান্তিক ও প্রকৃত জেলেরা কোনো বাধা ছাড়াই মাছ আহরণ করে তাদের অধিকার ও জীবিকা নিশ্চিত করতে পারেন।
এর আগে মদন উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত উচিৎপুর হাওরের ঘাটে এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য প্রতিমন্ত্রী। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।
সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বলেন, সরকারের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকলেও জনগণের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধান সড়ক, রেললাইন, লোকোমোটিভ, কোচ, রেলস্টেশন আধুনিকায়ন এবং সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার ও সর্বোচ্চ উপকার নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রকল্প ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) করেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
হাওর পরিদর্শনে এসে মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে কৃষক ও জেলেদের নিয়ে পৃথক সমাবেশে অংশ নেন অতিথিরা। এ সময় তারা স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং হাওরের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
সমাবেশগুলোতে বক্তারা হাওরাঞ্চলের মৎস্যস¤পদ সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জেলে-কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর সম্প্রতি জলাবদ্ধতায় হাওরের ফসলহানিতে ক্ষত্রিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা তালিকায় অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এই তালিকাটা করা হয়েছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে। মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন প্রশাসন সময় পেয়েছে। এর মধ্যেই করছে। এতে কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে আমিও জানি। যেগুলো ভুলভ্রান্তি আছে-একই পরিবারের অনেকের নামে হয়েছে ওগুলো সব স্থগিত করা হয়েছে। নতুন করে তালিকা করা এখন আর সম্ভব না। আর ক্ষতিগ্রস্ত মোটামুটি সবাই পেয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক