বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ শহরে সম্প্রতি চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক বেড়েছে। এতে পৌর নাগরিকরা উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। সংঘবদ্ধ চোর চক্র প্রথমেই সিসি ক্যামেরা অকেজো করে মাস্ক ও মাথায় ক্যাপ পরে নির্বিঘ্নে চুরি করে পালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ তাদের টিকিটিও স্পর্শ করতে পারছেনা। এই অবস্থায় নাগরিক ক্ষোভের সঙ্গে বিব্রত পুলিশও। তবে বুধবার সকালে কালিবাড়ি এলাকায় একটি স্বর্ণের দোকানে চুরির সময় সিসি ক্যামেরার বিশেষ এলার্ম বেজে ওঠায় দোকান মালিক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সহযোগিতায় একজনকে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। গ্রেপ্তারকৃত চোর ও তার সঙ্গে থাকা পলাতক চোররা আন্তঃদেশীয় ডাকাতদলের সক্রিয় সদস্য। তাদের নামে ঢাকা নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা কিছুদিন ধরে সুনামগঞ্জে অবস্থান করে এভাবে চুরি করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখন তাদের ওই পলাতক চক্র ও স্থানীয় সহযোগিতাকারীদের গ্রেপ্তারে মাঠে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ ও পৌর শহরের নাগরিকরা জানান, সম্প্রতি তালা ভেঙে, গ্রিল কেটে, দরোজা ভেঙে কিংবা টিনের চাল কেটে পৌর শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চোরেরা। একের পর এক এমন চুরির ঘটনায় একদিকে সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, অন্যদিকে চুরির ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে পুলিশ। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বুধবার সকাল পৌনে ৭টায় পৌর শহরের কালীবাড়ি মন্দিরের বিপরীতে উষান জুয়েলারি দোকানে চুরির সময় নরসিংদীর রায়পুরা থানার পাড়াতলি ইউনিয়নের মধ্যনগর উত্তরপাড়ার ইছুব মিয়ার ছেলে বিল্লাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। দোকান মালিক নির্ভীক বণিকের মোবাইলে সিসি ক্যামেরার বিশেষ এলার্ম বেজে ওঠায় তিনি ঘুম থেকে তড়িঘড়ি করে ওঠে পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে সহযোগিতা নিয়ে চোরকে আটকে সক্ষম হন। সদর থানা পুলিশের ফেসবুক আইডি থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় চারজন যুবক ক্যাপ পরে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একজনকে বসিয়ে রেখে তালা ভাঙার চেষ্টা করছে। পরে তালা ভেঙে চেক শার্ট পরা একজন যুবককে ভিতরে প্রবেশ করে বাইরের দাঁড়ানো তিন চোর আশপাশে নজর রাখছিল। এসময় দোকান মালিকের মোবাইলে সিসি ক্যামেরার এলার্ম বেজে ওঠলে তিনি তার ভাইকে নিয়ে দ্রুত দোকানে চলে আসেন এবং পুলিশের সহযোগিতা নেন। এসময় ভিতরে আটকা পড়ে চোর বিল্লাল মিয়া। বাকিরা তাদেরকে দেখে পালিয়ে যায়। এদিকে এই চুরির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার পাওয়ায় এবং একজন চোর ধরা পড়ায় জেলা শহরে বাইরের জেলার আন্তঃজেলা চোররা প্রবেশ করেছে বলে রটে যায়। স্থানীয়রা তাদের সহযোগিতাকারী চক্রকে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসার দাবি তুলেছেন। তবে গ্রেপ্তারকৃত চোর নানাভাবে ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। কখনো মায়ের নাম, কখনো বাপের নাম এবং কখনো ঠিকানাও ভুল বলছে। পলাতক অন্যদের স¤পর্কেও ভুল তথ্য দিচ্ছে বলে জানা গেছে। সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, একজনকে গ্রেপ্তারের পর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তারা আন্তজেলা চোর চক্রেরর সদস্য। তাদের নামে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মামলা রয়েছে। তারা এখন সংঘবদ্ধভাবে সুনামগঞ্জে অবস্থান করছে এবং এভাবে চুরি করছে। সুনামগঞ্জে যারা তাদের সহযোগিতা করছে তাদের গ্রেপ্তারেও কাজ শুরু করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত চোর পুলিশকে জানিয়েছে কিছুদিন ধরে সুনামগঞ্জ জেলা শহর ও এর আশপাশের এলাকায় আস্তানা গেড়েছে তারা। স্থানীয় একটি চোরচক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির ওপর নজরদারি করছে। স্থানীয় ওই চক্রটিই মূলত বহিরাগত এই চোরদের তথ্য ও আশ্রয় দিয়ে চুরিতে সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে ব্যবসায়ী নির্ভীক বণিক সুনামগঞ্জ সদর থানার মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত চোর বিল্লাল মিয়া (৩২) ও কুমিল্লার মুরাদনগর জেলার ১৬ নং ধামগর দারোরাবাজার ইউনিয়নের মৃত আলী হোসেনের ছেলে আলা উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে। এই চুরির ঘটনায় আলা উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন রয়েছে বলে মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন। সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত চোরকে জিজ্ঞাবাদ করা হচ্ছে। সে ঢাকার চুরির মামলার আসামি এবং তার সঙ্গে থাকা পলাতক অপরজনও ৬টি চুরির মামলার আসামি। এরা আন্তজেলা চোরদলের সদস্য। তারা এখন সুনামগঞ্জে প্রবেশ করে চুরি করছে। তাকে ধরার মাধ্যমে এই চক্রের অন্যদেরও এমনকি স্থানীয় সহযোগীদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
শহরে সক্রিয় আন্তঃজেলা চোর চক্র
বিশেষ এলার্মে রক্ষা পেল স্বর্ণের দোকান, স্বর্ণসহ চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার
- আপলোড সময় : ২৫-০৬-২০২৬ ০২:০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-০৬-২০২৬ ০২:০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি