সুনামগঞ্জ , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ , ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানবিক দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল : প্রধানমন্ত্রী গণহত্যাকারীদের দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে হাওরাঞ্চলের ধানের বহু জাত ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের সময়ে কর্মকর্তাদের বদলির হিড়িক দুই-এক মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন : প্রধানমন্ত্রী আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০ উদ্বোধন হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’ মানুষের ভালোবাসায় লোকালয়ে গড়ে উঠেছে পাখিদের অভয়াশ্রম ধর্মপাশা চৌকি আদালত লিগ্যাল এইড কমিটি সক্রিয়করণে সভা মঙ্গলকাটায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের আশ্বাস ওসি’র জামালগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রস্তুতিমূলক সভা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে বাধা, সুনামগঞ্জে তীব্র ক্ষোভ সুরমা নদীতে টোল আদায় করতে না পেরে বিপাকে ইজারাদার ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত তরুণ-তরুণীর বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ : আহত ২০ হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ নির্মাণকাজে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে, বন্ধ ঠিকাদারের বিল শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা প্রতি মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ
নিষেধাজ্ঞা অমান্য

পেটের তাগিদে মাছ ধরছে জেলেরা

  • আপলোড সময় : ২৪-০৬-২০২৬ ০৯:০০:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৬-২০২৬ ০৯:১৬:০২ পূর্বাহ্ন
পেটের তাগিদে মাছ ধরছে জেলেরা
বিশ্বজিত রায়::
প্রজনন মৌসুমে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ভাসান পানিতে মাছ ধরতে প্রথমবারের মতো নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। গত ২৯ মে থেকে আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত মাসব্যাপী এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। জীবিকার তাগিদে নিষেধ অমান্য করেই হাওর-বাওর, নদীনালা, খাল-বিলে মাছ ধরছেন জেলেরা। মাছ শিকার ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা আদায়সহ মাছ ধরার সরঞ্জামাদি জব্দ করছে প্রশাসন। বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা না দিয়ে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় হাওরাঞ্চলে অসন্তুষ্টি দেখা দিয়েছে।
হাওরপাড়ের মানুষেরা জানিয়েছেন, হেমন্ত মৌসুমে কৃষি ও বর্ষায় মাছ শিকারই জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন হাওর এলাকার বেশির ভাগ মানুষের। বর্ষাকালে সব তলিয়ে গেলে আয়-রোজগারের পথ অনেকটা সংকুচিত হয়ে আসে। তখন বিকল্প পেশা না পেয়ে মাছ শিকার করে বিয়ে অনুষ্ঠান, লেখাপড়া, চিকিৎসা, পোশাক-পরিচ্ছদসহ দৈনন্দিন খরচপাতি সামাল দিতে হয় তাদেরকে।
মাছের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দরিদ্র্য মৎস্যজীবীদের আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা না দেওয়ার বিষয়ে সচেতনমহলের ক্ষোভ আছে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এ বছর বোরো ফসল হারিয়ে হাওরবাসী এমনিতেই দিশেহারা। এর মাঝে মাছ ধরতে বাধা-নিষেধ থাকায় জেলে পরিবারগুলোতে হতাশা বিরাজ করছে। সুনামগঞ্জ মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৃহত্তম মিঠাপানির জলাধার সুনামগঞ্জে হাওর আছে ৯৫টি। ১০৫টি খন্ডে নদী আছে ২৬টি। মোট বিল ও জলমহালের সংখ্যা ১ হাজার ৩৫টি। জেলায় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি আছে ৬৩০টি। নিবন্ধিত মৎস্যজীবী আছে ১ লাখ ১২ হাজারের মতো। এদের বেশির ভাগ মৎস্যজীবী বর্ষাকালে মাছ শিকার ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর পারের গোলাবাড়ি গ্রামের জেলে মকবুল হোসেনের পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৮ জন। বর্ষায় মাছ আহরণ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। মাছ শিকার নিষিদ্ধের প্রশ্নে মকবুল হোসেন বলেন, ‘সরকারে মাছ মারা নিষেধ করছে। নিষেধ মানলে তো হইতাছে না। পেটে তো ভাত দেওন লাগবো। সরকারে সাহায্য করলে তো মাছ ধরতে হাওরে গেলাম নানে। আমরা গরীব মানুষ, মাছ না মাইরা কিতা করমু। দুই-চার কিয়ার জমি করছিলাম। এইডাও ডুইব্যা গেছে।’ একই অভিযোগ করে গোলাবাড়ির পার্শ্ববর্তী পীরেরগাঁও গ্রামের মৎস্যজীবী আব্দুল হক বলেন, ‘আমরার বাড়ি টাঙ্গুয়ার পাড়ও। মাছ মাইরাই খাইতে হইবো। ফসিল মাইর (ফসলের ক্ষতি) খাইলাইছি, রুজি-রোজগার নাই। বাচ্চাকাচ্চার জ্বালায় মাছ মারন লাগে। এ ছাড়া তো গতি নাই।
সুনামগঞ্জের কমরেড বরুণ রায় স্মৃতি পরিষদের সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলী আমজাদ বলেন, নিষিদ্ধ চাঁই ও জালে যেভাবে মাছ নিধন হচ্ছে তাতে নিষেধাজ্ঞা দরকার। কিন্তু দরিদ্র্য জেলেদের মাছ আহরণই রুটি-রোজির একমাত্র উপায়। তাই তাদেরকে প্রণোদনার আওতায় আনা জরুরী। নতুবা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মাছ ধরা ঠেকানো যাবে না।
দরিদ্র্য জেলে গোষ্ঠীকে প্রণোদনার আওতায় আনার দাবি জানিয়ে জামালগঞ্জের ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, আমাদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান ক্ষেত্র মাছ ও ধান। হাওরে ধানের উৎপাদন বাড়লেও মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমছে। প্রজনন মৌসুমে মাছ শিকার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ইতিবাচক। তবে কোন সহায়তা না দিয়ে জেলেদের জীবিকা নির্বাহের পথ রুদ্ধ করে দেওয়া এক ধরনের অবিচার। মাছ রক্ষার পাশাপাশি জেলেদের জীবন-জীবিকার কথাও ভাবতে হবে।
সুনামগঞ্জের মৎস্য কর্মকর্তা ড. আল মিনান নূর বলেন, হাওরাঞ্চলে প্রথমবারের মতো এক মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধের আইন হয়েছে। বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আমরা আইন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। এর ফলে মাছের নিরাপদ প্রজনন, বংশ বৃদ্ধি এবং মাছ বড় হওয়ার সুযোগ পাবে। একপর্যায়ে জেলেরা বেশি করে মাছ আহরণ করতে পারবে। এতে জেলেদের আয়-রোজগার বৃদ্ধি পাবে। প্রণোদনার প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্ষায় এখানকার মানুষের মাছ ধরা ছাড়া কোন কাজের সুযোগ নেই, এটা সত্য। হতদরিদ্র্য জেলেদের প্রশ্ন- তারা কি করে খাবে? আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রণোদনার প্রস্তাব করেছি। আগামীতে হয়তো ইতিবাচক ভালো কিছু প্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানবিক দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানবিক দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির