সুনামগঞ্জ , সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ , ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে হঠাৎ প্রত্যাহার ইলিয়াস আলীর গুমের বিষয়ে জবানবন্দিতে যা বললেন সেনাসদস্য ইমরুল পাহাড়ি ঢলে জাফলংয়ে ভেসে গেছে দোকানপাট, সাদাপাথর বন্ধ ঘোষণা সংগীত উৎসবে মুগ্ধতা ছড়ালেন শিল্পীরা বিশ্বম্ভরপুরে চুরির অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর দাবি বাড়ছে নদ-নদীর পানি, পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রীরামচন্দ্রের বিগ্রহের অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ আমবাড়িতে ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন মাদক কারবারি সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে : ওসি রতন শেখ যাদুকাটা নদীতে ড্রেজার বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে জনসাধারণের ভূমিকা থাকতে হবে : এমপি কলিম উদ্দিন মিলন দোয়ারাবাজারে ‘স্কুল সেফটি মেলা’ অনুষ্ঠিত টাঙ্গুয়ার হাওর বাঁচানোর পরীক্ষাটা এখনই দিতে হবে সুনামকণ্ঠ সাহিত্য পরিষদের নতুন কার্যকরী কমিটি গঠিত প্রিয়াছন্দ সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের যাত্রা শুরু দোয়ারাবাজারের বাজিতপুর গ্রাম কথিত পীরের আস্তানায় মাদকের আসর বিশ্বম্ভরপুরে মাদকবিরোধী র‌্যালি অনুষ্ঠিত তাহিরপুরে গাঁজাসহ আটক ১ ইয়াবার চালানসহ জুলাইযোদ্ধা হিমেল জনতার হাতে আটক

হাউজবোটে অবৈধ বিদ্যুৎ বাণিজ্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি

  • আপলোড সময় : ২২-০৬-২০২৬ ০৯:৩৯:০৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০৬-২০২৬ ০৯:৩৯:০৮ পূর্বাহ্ন
হাউজবোটে অবৈধ বিদ্যুৎ বাণিজ্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি
পর্যটনের বিকাশ একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে গড়ে ওঠা হাউজবোট শিল্প স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং পর্যটন খাতকে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কিন্তু এই সম্ভাবনাময় খাতকে ঘিরে যদি অবৈধ বিদ্যুৎ বাণিজ্য, চুরি এবং ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগের বিস্তার ঘটে, তবে তা শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় হাউজবোট ও নৌযানে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উদ্বেগজনক। স্থানীয় বাজার, দোকান, বসতবাড়ি কিংবা পরিত্যক্ত স্থাপনার মিটার থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হলে তা সরাসরি বিদ্যুৎ চুরির শামিল। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বৈধ গ্রাহকদের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অতিরিক্ত লোডের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয় এবং লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর চেয়েও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো জননিরাপত্তা। নদী ও হাওর এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ অগ্নিকা-, শর্টসার্কিট কিংবা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানির কারণ হতে পারে। একটি দুর্ঘটনা শুধু একটি হাউজবোট নয়, আশপাশের বহু নৌযান ও মানুষের জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে। পর্যটননির্ভর অঞ্চলে এমন ঘটনা জেলার ভাবমূর্তিও ক্ষুণœ করবে। অবশ্য সব হাউজবোট মালিককে একই দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। অনেকেই নিজস্ব জেনারেটর, সোলার সিস্টেম কিংবা বৈধ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাই অভিযোগের তদন্তে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি। যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ইতোমধ্যে কিছু অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা করেছে বলে জানা গেছে। তবে বিচ্ছিন্ন অভিযান দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন বিদ্যুৎ বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ। বিশেষ করে পরিত্যক্ত মিটার ও অকার্যকর সংযোগ দ্রুত বিচ্ছিন্ন করা, নদীঘাট ও হাওর এলাকায় নিয়মিত মনিটরিং বৃদ্ধি করা এবং বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি। পর্যটনের বিকাশ অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তা কোনোভাবেই অবৈধতা কিংবা জননিরাপত্তার ঝুঁকির বিনিময়ে হতে পারে না। হাউজবোট শিল্পকে টেকসই ও সুশৃঙ্খল করতে হলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের একটি স্বচ্ছ ও বৈধ কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ বিদ্যুৎ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এর মূল্য আরও বড় ক্ষতির মাধ্যমে দিতে হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত, সমন্বিত ও কঠোর উদ্যোগ আজ সময়ের অপরিহার্য দাবি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর দাবি

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর দাবি