সুনামগঞ্জ , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন সফর সংক্ষিপ্ত, কূটনৈতিক কর্মসূচি বিস্তৃত: নিউইয়র্কে তারেক রহমান নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি ঢাকা-সিলেট সড়কের ৬ লেনের নির্মাণকাজ শেষ হবে ২৯ সালে : সড়কমন্ত্রী দিরাই সরকারি ডিগ্রি  কলেজে ‎"অধ্যক্ষ বিহীন ১৭ বছর" ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক উন্নয়নে ১৭৪ কোটি টাকার কাজ উদ্বোধন ভিপি জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ বেগম ছাতকে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান পণ্যসহ আটক ১ ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? ‎তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর বাবারও বিষপান, তাহিরপুরে তিন শিশুর মৃত্যু সংকটে ধুঁকছে সদর হাসপাতাল শহরের পাসপোর্ট অফিস রোড এলাকায় ঘনঘন চুরি বাংলাদেশ হয়ে উঠার ঐতিহাসিক গল্প আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা ছাতকের চরমহল্লায় মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৯ ওয়ার্ডে ৯ সেলাই মেশিন বিতরণ তাহিরপুরে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ‎হ্যান্ডবলে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন জামালগঞ্জের আলাউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় দোয়ারাবাজারে নদীভাঙনে অস্তিত্ব হারাচ্ছে কবরস্থান তাহিরপুরে সড়কের বেহাল দশা,দুর্ভোগে পর্যটক-স্থানীয়রা ভূমি অফিস শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা এসিল্যান্ডের
৩৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের মিলনমেলা

সংগীত উৎসবে মুগ্ধতা ছড়ালেন শিল্পীরা

  • আপলোড সময় : ২২-০৬-২০২৬ ০৯:৩১:২৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০৬-২০২৬ ০৯:৩৬:২৭ পূর্বাহ্ন
সংগীত উৎসবে মুগ্ধতা ছড়ালেন শিল্পীরা
স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ যেন আবারও প্রমাণ করল, এই জনপদ শুধু হাওর-নদীর নয়, সুর-সংগীতেরও এক চিরসবুজ ভুবন। বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে রবিবার বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংগীত উৎসব পরিণত হয় জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক বিরল মিলনমেলায়। জেলার ৩৪টি সাংস্কৃতিক ও সংগীত সংগঠনের অংশগ্রহণে এই আয়োজন হয়ে ওঠে সুর, আবেগ ও ঐতিহ্যের এক অনন্য উৎসব। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন ভরে ওঠে শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, সংগীতপ্রেমী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে। মঞ্চে একের পর এক পরিবেশনায় উঠে আসে বাংলার সংগীত ঐতিহ্যের নানা রূপ। লোকসংগীত, বাউল, ধামাইল, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গানের সম্মিলনে সৃষ্টি হয় এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক আবহ। সংগীত উৎসবের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল। উদ্বোধনী পর্বে বক্তারা বলেন, সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের আত্মিক বিকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম শক্তিশালী বাহন। বিশ্বায়নের এ সময়ে নিজস্ব সংগীত ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক বিজন সেন রায়, দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক সম্পাদক ও প্রকাশক এবং সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) শেরগুল আহমেদ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পরিষদের সদস্য শাহ নুর জালাল, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব মুহাম্মদ মুনাজ্জির হোসেন সুজন এবং জেলা বিএনপির সদস্য রেজাউল হক। সভাপতিত্ব করেন জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সৌরভ অধিকারী অয়ন ও দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী। বিশ্ব সংগীত দিবসের এই আয়োজনের একটি আবেগঘন মুহূর্ত ছিল প্রয়াত গীতিকার জবান আলীকে স্মরণ। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শিল্পীরা তাঁর জনপ্রিয় গান ‘প্রেমের মানুষ ঘুমাইলে চাইয়া থাকে’ পরিবেশন করলে মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক উর্বর জনপদ। হাছন রাজা, রাধারমণ দত্ত, শাহ আবদুল করিম, দুর্ব্বিণ শাহসহ অসংখ্য মরমী সাধক, বাউল ও লোকসংগীত শিল্পীর পদচারণায় এ অঞ্চল সমৃদ্ধ হয়েছে। এখান থেকেই বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের বহু খ্যাতিমান শিল্পীর উত্থান ঘটেছে। বক্তারা আরও বলেন, গুণীজনদের স্মৃতি ও কর্মকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রচার করা গেলে নতুন প্রজন্ম সংস্কৃতি চর্চায় আরও বেশি আগ্রহী হবে। এতে সংগীত, সাহিত্য ও শিল্পকলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী শুক্লা রায়, শামীম সারোয়ার, রূপশ্রী রায়, সন্তোষ কুমার চন্দ, সিনিয়র সাংবাদিক আকরাম উদ্দিন, শিল্পী সোহেল রানা, তপন কর, অমিত বর্মণ প্রমুখ। এই সংগীত উৎসবে জেলার ৩৪টি সাংস্কৃতিক ও সংগীত সংগঠন অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর পরিবেশনায় উঠে আসে লোকসংগীত, নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, দেশাত্মবোধক গান, ধামাইল, বাউল ও আধুনিক সংগীতের বৈচিত্র্যময় আয়োজন। এক মঞ্চে জেলার এত সংখ্যক সংগঠনের অংশগ্রহণ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। উৎসবে অংশ নেওয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বুলবুল সংগীত নিকেতন, সপ্তক সংগীত বিদ্যালয় (ছাতক), সুর নিকেতন একাডেমি (ছাতক), আনন্দলোক সংগীত একাডেমি (দিরাই), মেঠোসুর সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ, সুরালোক সংগীত বিদ্যালয় ও সাংস্কৃতিক সংস্থা, সুন্দরম শিল্পীগোষ্ঠী, জেলা খেলাঘর, বাউল স¤্রাট শাহ আবদুল করিম পরিষদ, জ্ঞানের সাগর বাউল ফকির দুর্ব্বিণ শাহ পরিষদ, লোকদল শিল্পীগোষ্ঠী ও লোকজ সংগীত বিদ্যালয়, বাউল কামাল পাশা সংস্কৃতি পরিষদ, স্বরবিতান সংগীত নিকেতন, স্পন্দন সাংস্কৃতিক সংস্থা, সোহিনী সংগীত বিদ্যালয়, ধ্রুবতারা শিল্পীগোষ্ঠী, সপ্তসুর সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, সুনামগঞ্জ কালচারাল ফোরাম, লোকসংগীত একাডেমি, মনোরঞ্জন সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, মাটিরালয় সংগীত একাডেমি, জালালী বাউল সমাজকল্যাণ সংস্থা, সফর আলী শিল্পীগোষ্ঠী, সুনামগঞ্জ জেলা বাউল সমিতি, বাংলাদেশ ধামাইল উন্নয়ন পরিষদ, ফ্রেন্ডস টার্গেট ব্যান্ড, লাল শাহ সংগীতালয়, টাঙ্গুয়া শিল্পীগোষ্ঠী এবং জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা। সংগীত পরিবেশনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে বাদ্যযন্ত্রে সহযোগিতা করেন কীবোর্ডে সন্তোষ কুমার চন্দ, ঢোলে শৈলেন দাশ, হারমোনিয়ামে সোহেল রানা, তবলায় কপিল ঋষি ও অমিত বর্মণ, গিটারে অনুপম প্রতীক, বাঁশিতে প্রণয় এবং অক্টোপ্যাডে উত্তম দাশ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন

কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন