সুনামগঞ্জ , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিরাই সরকারি ডিগ্রি  কলেজে ‎"অধ্যক্ষ বিহীন ১৭ বছর" ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক উন্নয়নে ১৭৪ কোটি টাকার কাজ উদ্বোধন ভিপি জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ বেগম ছাতকে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান পণ্যসহ আটক ১ ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? ‎তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর বাবারও বিষপান, তাহিরপুরে তিন শিশুর মৃত্যু সংকটে ধুঁকছে সদর হাসপাতাল শহরের পাসপোর্ট অফিস রোড এলাকায় ঘনঘন চুরি বাংলাদেশ হয়ে উঠার ঐতিহাসিক গল্প আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা ছাতকের চরমহল্লায় মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৯ ওয়ার্ডে ৯ সেলাই মেশিন বিতরণ তাহিরপুরে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ‎হ্যান্ডবলে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন জামালগঞ্জের আলাউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় দোয়ারাবাজারে নদীভাঙনে অস্তিত্ব হারাচ্ছে কবরস্থান তাহিরপুরে সড়কের বেহাল দশা,দুর্ভোগে পর্যটক-স্থানীয়রা ভূমি অফিস শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা এসিল্যান্ডের দুই বছর ধরে ঝুলে আছে ১৩ নদী পুনঃখনন প্রকল্প হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলে পুরস্কার দিবে এসআরবি শান্তিগঞ্জে মহাসড়কে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৯ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন

দোয়ারাবাজারের বাজিতপুর গ্রাম কথিত পীরের আস্তানায় মাদকের আসর

  • আপলোড সময় : ১৯-০৬-২০২৬ ১০:৫৩:০৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-০৬-২০২৬ ১০:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন
দোয়ারাবাজারের বাজিতপুর গ্রাম কথিত পীরের আস্তানায় মাদকের আসর
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী::
মাথায় সাদা পাগড়ি, হাতে লোহার রড। গলায় পীরের ভূমিকা, পেছনে হত্যা মামলা। দোয়ারাবাজার উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে শতবর্ষী পঞ্চায়েতি কবরস্থানের নির্জন জঙ্গলে এভাবেই দিন কাটাচ্ছেন গয়াছ মিয়া (৩৫)। ‘স্বপ্নাদিষ্ট পীর’ পরিচয়ের আড়ালে চলছে গাঁজা-মদের রমরমা আসর। পবিত্র কবরস্থানে এই অপতৎপরতায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্র ও ইউপি সদস্যের তথ্য অনুযায়ী, গয়াছ মিয়া সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি। দীর্ঘ কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফেরেন। এরপরই শুরু হয় নতুন নাটক। বাজিতপুর ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া সরাসরি বলেন, গয়াছ জামিনে মুক্ত হয়ে এসে জঙ্গলে আস্তানা গেড়েছে। এতে গোটা এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটতে পারে। কারামুক্তির পর গয়াছ দাবি করেন, স্বপ্নে ‘অজ্ঞাত পীরের নির্দেশে’ তিনি কবরস্থানে এসেছেন। এখানে তিনি জিন সাধন করেন এবং মানুষজনকে আধ্যাত্মিক সহযোগিতা করেন। গয়াছ মিয়া এই আধ্যাত্মিক আবরণ ব্যবহার করে বাজিতপুরের জঙ্গলে শতবর্ষী বটবৃক্ষের নিচে বাঁশ-বেত দিয়ে গড়ে তোলেন দোতলা ছাপড়ি ঘর। কিন্তু এলাকাবাসীর ভাষ্য ভিন্ন। বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহীন আলম বলেন, গয়াছ পীর সেজে মাদকের আখড়া গড়েছে। সন্ধ্যা হলেই জঙ্গলে শুরু হয় তুঘলকি কা-। স্থানীয় মাদকসেবী ও জুয়াখোরদের ছত্রছায়ায় চলে রাতভর গাঁজা-মদের আসর। বাজিতপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি সুনুর মিয়া বলেন, এটি শত বছরের পবিত্র কবরস্থান। এখানে মৃতদের আত্মার শান্তির জন্য আমরা দোয়া করি। সেই পবিত্র জায়গায় মদ-গাঁজার আসর বসানো সম্পূর্ণ হারাম এবং অগ্রহণযোগ্য। শ্যামলবাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি বাবুল মিয়া জানান, কবরস্থানের পাশ দিয়েই তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করে। সেখানে মাদক কারবার ও সমাজবিরোধী তৎপরতা চলতে থাকলে এলাকায় বিশৃঙ্খলা অনিবার্য। স্থানীয়রা জানান, পরিস্থিতির সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা। ছোট শিশু বা কিশোরী দেখলেই গয়াছ জঙ্গল থেকে বেরিয়ে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তেড়ে আসেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বাজিতপুরের বাসিন্দা নাবিল আরাফাত বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামিনে এসে জঙ্গলে আস্তানা গেড়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এলাকার মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, গয়াছের হাতে সবসময় লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র থাকায় তারা স্কুল-মাদরাসায় যেতে ভয় পাচ্ছে। বাজিতপুর-শ্যামলবাজার সড়ক এখন শিশুদের কাছে আতঙ্কের পথ। গত বৃহ¯পতিবার বিকেলে এই প্রতিবেদকসহ গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিন যান বাজিতপুর কবরস্থানে। চারদিকে কবর, ঘন বাঁশঝাড় ও গাছপালার মাঝে শতবর্ষী বটবৃক্ষের নিচে দোতলা ছাপড়ি ঘর। জঙ্গলের পাশে যেতেই বেরিয়ে আসেন গয়াছ, মাথায় পাগড়ি, হাতে নথ লাগানো লোহার রড, ধান কাটার কাঁচি ও দেশীয় অস্ত্র। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কারাগারে থাকাকালে তার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় ও ভিটামাটি বিক্রি হয়ে যায়। ফলে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। মাদকের আখড়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। এদিকে, গত বুধবার এলাকাবাসী দোয়ারাবাজার মডেল থানার ওসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অনুলিপি পাঠানো হয় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে। দাবি- অবিলম্বে আস্তানা উচ্ছেদ, মসজিদের সম্পত্তি উদ্ধার এবং পবিত্র কবরস্থান রক্ষা।

দোয়ারাবাজার মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‎তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর বাবারও বিষপান, তাহিরপুরে তিন শিশুর মৃত্যু

‎তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর বাবারও বিষপান, তাহিরপুরে তিন শিশুর মৃত্যু