মোহাম্মদ সামসুদ্দিন::
‘চক্ষুশীতলকারী’ বলতে সাধারণত এমন সন্তানকে বোঝায়, যাদের দেখে চোখ ও মন জুড়িয়ে যায়। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ফুরক্বানের ৭৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আমাদের এমন সন্তান ও স্ত্রী লাভের বিশেষ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যা পারিবারিক সুখের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান মহান আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ আমানত এবং পার্থিব জীবনের শোভা। সুসন্তান দুনিয়াতে সুখের কারণ এবং মৃত্যুর পর মা-বাবার জন্য পরকালীন পুরস্কারের উসিলা। “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে” - এই চিরন্তন বাণীটি বাঙালির চিরায়ত অপত্য স্নেহের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সন্তান যেন অভাবহীন ও সুস্বাস্থ্যের সাথে সার্থক জীবন অতিবাহিত করে, সেটিই সকল মা-বাবার চরম আকাক্সক্ষা। সন্তান মানেই তো বেঁচে থাকার শক্ত অবলম্বন এবং সহস্র হতাশার মাঝে আশার ফোয়ারা। জীবনের শেষ বেলায় সন্তানই চশমা হয়ে পথ দেখায় এবং লাঠি হয়ে ভার নেয়। কিন্তু, এতসব প্রাপ্তির তৃপ্তি পেতে সন্তানকে মানুষের মত মানুষ বানাতে হয়। জন্মের পর থেকেই সন্তানকে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনার শেষ নেই। তাকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বানাতে আমরা যতটা উদ্বিগ্ন, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ততটা সচেষ্ট নই। অনেক সময় আমাদের সেই চাওয়া কেবল ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে; উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে আমরা উদাসীন হয়ে পড়ি। সন্তানের সাথে মা-বাবার সম্পর্ক হওয়া উচিত বন্ধুসুলভ। সে কোথায় যায়, কার সাথে মিশে বা কী শিখছে - সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর কিছু উপায়:
১. আচরণ সংশোধন: সন্তান অনুকরণপ্রিয়। তাই তাদের সামনে নিজেদের মার্জিত আচরণ ও ধৈর্য্য বজায় রাখা উচিত।
২. গুণগত সময় দান: ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন সন্তানের জন্য কিছুটা সময় রাখা, তাদের সাথে গল্প করা ও এক সাথে খাবার খাওয়া।
৩. নৈতিক শিক্ষা: শৈশব থেকেই সত্যবাদিতা, বিনয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া প্রতিটি মা-বাবার দায়িত্ব।
৪. নিয়মানুবর্তিতা: পড়াশোনা, খেলাধুলা ও ঘুমের জন্য একটি সঠিক রুটিন তৈরি করে দেওয়া।
৫. অনুপ্রেরণা: সন্তানের ভালো কাজের প্রশংসা করা এবং তাদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ দিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো।
৬. শিক্ষাঙ্গনের খোঁজ: নিয়মিত শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ রাখা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি তার সৃজনশীল বিকাশে সহায়তা করা। পরিবারই হলো সন্তানের প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র, তাই এর পরিবেশ হতে হবে ইতিবাচক।
আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, সন্তানের জন্য অঢেল সম্পদ রেখে যাওয়ার চেয়ে সন্তানকেই ‘সম্পদ’ হিসেবে গড়ে তোলা শ্রেষ্ঠ অর্জন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে- “তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ, আর আল্লাহর কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার” (সূরা আনফাল: ২৮)।
আমাদের সন্তানরা হোক প্রকৃত চক্ষুশীতলকারী এবং ইহকাল ও পরকালের পরম পাথেয়- নাজাতের উসিলা।
[লেখক মোহাম্মদ সামসুদ্দিন, সহকারী শিক্ষক, সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়]
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
সন্তান হোক চক্ষুশীতলকারী
- আপলোড সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ১১:৫৮:২৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ১২:০৩:৩২ অপরাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক