সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে আইসিইউ’র কার্যক্রম চালু : স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত
- আপলোড সময় : ১৪-০৬-২০২৬ ১০:৫২:৩৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-০৬-২০২৬ ১০:৫২:৩৩ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা অবশেষে পূরণ হয়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালুর মধ্য দিয়ে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ১০টি জেলা হাসপাতালে একযোগে আইসিইউ কার্যক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশেষ করে হাওরবেষ্টিত ও ভৌগোলিকভাবে চ্যালেঞ্জপূর্ণ সুনামগঞ্জের জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি অর্জন।
এতদিন জেলার কোনো রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়লে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট বা ঢাকায় স্থানান্তর করতে হতো। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ত। দূরপাল্লার যাত্রা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। নতুন আইসিইউ চালুর ফলে গুরুতর রোগীদের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা এখন নিজ জেলাতেই নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমান সময়ে আইসিইউ কোনো বিলাসিতা নয়; এটি আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। হৃদরোগ, স্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগী কিংবা জটিল সংক্রমণে আক্রান্তদের জীবনরক্ষায় আইসিইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই জেলা পর্যায়ে এই সেবা সম্প্রসারণ স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণের ক্ষেত্রে সরকারের একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা যন্ত্রপাতি স্থাপন করলেই আইসিইউ সেবার সাফল্য নিশ্চিত হয় না। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স, বায়োমেডিক্যাল প্রকৌশলী এবং সার্বক্ষণিক কারিগরি সহায়তা। দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও জনবল সংকট বা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ইউনিট কাক্সিক্ষত সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সুনামগঞ্জের ক্ষেত্রেও যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
এছাড়া আইসিইউ সেবার পাশাপাশি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ল্যাবরেটরি, অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার মানোন্নয়নও জরুরি। কারণ একটি কার্যকর আইসিইউ মূলত একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অংশ। এসব সেবা সমানভাবে শক্তিশালী না হলে আইসিইউর পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।
সুনামগঞ্জের মানুষ আজ যে অর্জনের সাক্ষী হলো, তা শুধু একটি নতুন ইউনিটের উদ্বোধন নয়; এটি উন্নত স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের বাস্তব প্রতিফলন। এখন প্রয়োজন এই সেবার ধারাবাহিকতা, মান এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করা। আমরা আশা করি, আইসিইউ চালুর মাধ্যমে জেলার স্বাস্থ্যখাতে যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পথ সুগম করবে। সুনামগঞ্জের মানুষের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক মাইলফলক।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়