সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ , ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা প্রতি মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি কার্যালয়ে বীজের মজুত ও বিক্রির অভিযোগ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি আড়াল করতেই এমপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার, লুটপাটকারীদের বিচারের দাবি জন্মান্ধ স্বামী, এক চোখে দেখেন স্ত্রী, মানুষের সাহায্যে চলে সংসার শঙ্কা মাথায় নিয়ে বোরো আবাদের প্রস্তুতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা পোশাক কারখানা সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাবা-মা-ভাইবোনসহ ছাত্রলীগ নেতার পুরো পরিবার গ্রেফতার, সঙ্গে ৩ বন্ধুও শীতকালীন সবজি চাষে নেই প্রণোদনা, ভালো দাম, প্রকৃতি ভরসা কৃষকের জাতীয় যুব দিবস পালিত ছাতকে আমন ধান কাটা উৎসব তাহিরপুরে নামমাত্র শিশু পার্ক, দুই বছরেও চালু হয়নি কার্যক্রম জমকালো আয়োজনে পর্দা উঠল গাগলী সুপার লীগ সিজন-৪ এর এইচএসসিতে সুনামগঞ্জের দুই কলেজে পাস করেনি কেউ শাল্লায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ তাহিরপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়, অর্ধেকই ফেল, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬ জন এমপি নূরুলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, প্রতিবাদে সোচ্চার বিএনপি নেতাকর্মীরা

দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নিজেই রোগী

  • আপলোড সময় : ০১-০৫-২০২৬ ১২:৩৩:০৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০১-০৫-২০২৬ ১২:৩৩:০৭ পূর্বাহ্ন
দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নিজেই রোগী
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী :: দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রুগ্ণদশা কাটছেই না। প্রায় ৩ লাখ মানুষের এই জনপদে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এখন অস্তিত্ব সংকটে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালটি এখন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তাদের (স্যাকমো) ওপর ভর করে চলছে। এদিকে হাসপাতাল চত্বর ও ওয়ার্ডগুলোর ভেতরে স্যানিটেশন ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ওয়ার্ডের ভেতরে দুর্গন্ধের কারণে রোগী ও স্বজনদের থাকা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল না থাকায় বৃষ্টির দিনে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পানি জমে দুর্ভোগ আরও বাড়ায়। রাতের বেলা জরুরি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের পাওয়া নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স সেবা থাকলেও জ্বালানি বা চালক সংকটের অজুহাতে জরুরি মুহূর্তে রোগীরা সেটি ব্যবহার করতে পারেন না। অনুসন্ধানে জানাযায়, ১৯৯৯ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই হাসপাতালটি ২০২৩ সালে কাগজে কলমে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে জনবল কাঠামো ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ এখনো ৩১ শয্যারই রয়ে গেছে। ফলে সম্প্রসারিত সেবার বদলে বিদ্যমান সেবাই এখন লাটে উঠেছে। জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও এনেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট নেই। শুধুমাত্র গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন। ফলে হাওর ও দুর্গম সীমান্তের গর্ভবতী মায়েদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলা সদর বা বিভাগীয় শহরে ছুটতে হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদেরও ভাগ্যে জোটে না পর্যাপ্ত সেবা; গুরুতর বা সাধারণ - সব রোগীকেই পাঠানো হয় উন্নত চিকিৎসার নাম করে ‘রেফার’ কার্ড ধরিয়ে। হাসপাতালের প্রশাসনিক কাঠামো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সালেহীন খান বদলি হওয়ায় হাসপাতালটি অভিভাবক শূন্য ধরা যায়। এছাড়াও হাসপাতালে নার্স ২৫ জন পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১৩ জন, যার মধ্যে ৪ জন আবার শিক্ষা ছুটিতে। সুইপার ৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১ জন। অফিস সহায়ক ৭টি পদের সবগুলোই শূন্য। বাবুর্চি পদটি দীর্ঘদিন শূন্য। এছাড়া মিড-ওয়াইফ ৭ জন এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) পদও খালি পড়ে আছে। হাসপাতালটিতে এক্স-রে মেশিন থাকলেও প্রয়োজনীয় টেকনোলজিস্ট ও চিকিৎসকের অভাবে সেগুলো বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এনসিডি কর্নারে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ওষুধ বরাদ্দের কারণে রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না। সরেজমিন পরিদর্শনে রোগীরা অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালে এসেও প্রায় সব ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়ার্ডে ডাক্তার না থাকা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ জানান ভুক্তভোগীরা। অপরদিকে, উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে বর্তমানে ৭৬টি পদই শূন্য রয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মতিউর রহমান জানান, জনবল সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত প্রকট। তবে আগে ডাক্তার সংকট প্রকট ছিল এখন ২৮ জনের মধ্যে ১১ জন ডাক্তার কর্মরত আছেন। তবে কনসালটেন্ট নেই। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের শূন্য পদের তালিকা দিয়ে আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। প্রয়োজনীয় জনবল পেলে আমরা পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে সক্ষম হবো।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রতি মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ

প্রতি মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ