হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি

আপলোড সময় : ০৪-০৬-২০২৬ ১১:৪৯:৫১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৬-২০২৬ ১২:২২:৪৭ পূর্বাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে হাওর অঞ্চলের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা (পোহাস)। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ও চলতি বছরের ব্যাপক ফসলহানির প্রেক্ষাপটে হাওরবাসীর জন্য বিশেষ সুরক্ষা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সিলেটে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: হাওরবাসীর প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা এবং পরিচালনা করেন সাধারণ স¤পাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটু। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদ আলম। সভার শুরুতে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা। তিনি হাওরবাসীর পক্ষ থেকে ২০ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, চলতি বছরের ব্যাপক ফসলহানির কারণে হাওরাঞ্চলের কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। এ অবস্থায় জাতীয় বাজেটে হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন। পাশাপাশি জলবায়ু খাতে জিডিপির অন্তত ৩ শতাংশ বরাদ্দ, কৃষি বীমা চালু, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা, বিল ও নদী খনন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে আধুনিক ড্রায়ার ও কমিউনিটি মাড়াই কেন্দ্র স্থাপনসহ একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়। তিনি আরও বলেন, বজ্রপাত মোকাবিলায় বিশেষ কর্মসূচি, মৎস্য গবেষণাগার ও অভয়াশ্রম স্থাপন, কৃষক ও জেলেদের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি এবং হাওরাঞ্চলে পূর্ণাঙ্গ আবহাওয়া অফিস স্থাপন জরুরি। প্রধান আলোচক অধ্যাপক ড. মাসুদ আলম বলেন, হাওরের ফসলহানি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি খাল খনন, জলাধার সৃষ্টি ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে হাওরভিত্তিক গবেষণা বৃদ্ধি ও প্রকৃত কৃষক-জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করে ডাটাবেজ তৈরির আহ্বান জানান। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি অ্যাডভোকেট শিরীন চৌধুরী বলেন, হাওরের জনগোষ্ঠীর বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আগাম ও নির্ভুল আবহাওয়া পূর্বাভাস নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান। সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির বলেন, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ না হলে হাওরবাসীর দুর্ভোগ কমবে না। তিনি নীতিনির্ধারকদের হাওরের প্রান্তিক মানুষের বাস্তবতা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। বিআইডিডির গবেষণা পরিচালক ড. শরীফ আহমদ চৌধুরী আগাম জাতের ধান চাষ সম্প্রসারণ, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বাড়ানো এবং কৃষি বীমা চালুর দাবি জানান। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মধ্যনগর উন্নয়ন পরিষদ সিলেটের সাবেক সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম এবং শিক্ষক লায়ন মো. মুস্তাফিজুর রহমান। বক্তারা বলেন, হাওরাঞ্চল দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্যস¤পদ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই অঞ্চলের উন্নয়ন, গবেষণা, অবকাঠামো ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ বাজেট বরাদ্দ এখন সময়ের দাবি।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com