ডিলার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সার পাচারের অভিযোগ

তিন মাস ধরে নৌকায় পড়ে আছে ৫০০ টন সার

আপলোড সময় : ০১-০৬-২০২৬ ১১:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০৬-২০২৬ ১১:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
বিএডিসির নিয়োগকৃত নির্দিষ্ট শ্রমিক থাকলেও প্রায় তিন মাস ধরে সুনামগঞ্জ বিএডিসি সার গোডাউনের প্রায় ৫০০ টন সার নৌকায় পড়ে আছে। নৌকার মধ্যে থাকায় নষ্ট হচ্ছে সারের গুণাগুণ। নিয়মানুযায়ী নৌকায় সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় অনেক সার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ আছে সরবরাহকারী কোম্পানির সঙ্গে আঁতাত করে বিএডিসি’র কিছু কর্মকর্তা, বিএডিসির নিয়োগকৃত কয়েকজন ডিলার ও লেবার নেতারা মিলে নৌকা থেকেই এসব সার বাইরে পাচার করে সরকারের ভর্তুকির বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও সারের চালান সুরমা নদীতে ভাসমান নৌকায় পড়ে থাকায় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সুনামগঞ্জ বিএডিসি (সার গোডাউন) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাসে ডেইলি ট্রেডিং নামের একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ৫০০ টন বিএপি সার বাল্কহেড নৌকায় করে সুরমা নদী দিয়ে সুনামগঞ্জ বিএডিসি’র সার গোডাউনের উদ্দেশ্যে পাঠায়। মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে নৌকাটি ঘাটে লাগে। বাল্কহেড নৌকায় নিয়ে আসলেও উপরে ঢাকনার ব্যবস্থা না থাকায় রোদে ও বৃষ্টিতে অনেক সার নষ্ট হয়ে যায়। এ সময় বিএডিসির নিয়োগকৃত শ্রমিক থাকলেও কারণ ছাড়াই লেবাররা সারগুলো গুদামে উত্তোলন করেনি। এই সময় নিয়ম ভঙ্গ করে লেবারদের অন্য কাজ করতে দেখা গেছে। অভিযোগ আছে নিয়োগকৃত লেবার প্রতিষ্ঠান কয়েকজন ডিলারের সঙ্গে আঁতাত করে সার গুদামে না দিয়েই ডিলারের নৌকায় করে এই সার বাইরে পাচার করে দেয়। ডিলারের গুদামেও যায়না সার। কিন্তু কৃষি অফিসাররা সুবিধা নিয়ে ডিলারের হয়ে এরাইভাল রিপোর্ট দিয়ে সার পাচারে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ আছে। এই সার আবার সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর কাছেই চলে যায়। তারা সরকারের ভর্তুকির (প্রতি বস্তা প্রতি ৫ হাজার টাকা) লোপাট করে নিচ্ছে এভাবে। এই সারও গোপনে বাইরে পাচারের চেষ্টা হলেও নানা কারণে পাচার করতে না পারায় ঘাটে পড়ে আছে এমন অভিযোগ আছে। জানা গেছে গত ১০ মে সুনামগঞ্জ মল্লিকপুরস্থ বিএডিসি’র সার গুদাম থেকে সার পাচারের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযানকালে অবৈধ মজুদের একটি অংশ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বিএডিসি’র উপ-সহকারী পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গত ১১ মে চিঠি দিয়েছেন। তিনি এ ঘটনায় গুদাম রক্ষক ও লেবার সরদারের সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করেছেন এবং কতিপয় ডিলারও জড়িত বলে উল্লেখ করেছেন। এই সার পাচারে জামালগঞ্জের ডিলার আবুল কালামের নাম ওঠে আসে।
এছাড়াও অন্যান্য সময়ে সার পাচারে আবুল কালামের পাশাপাশি তাহিরপুরের হাফিজুর রহমান এবং ধর্মপাশার শামসুল হকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও রয়েছে। জানা গেছে ডিলারের নামে নৌকা থেকেই লেবাররা গুদামে সার না তুলে আলাদা নৌকায় তুলে দেয়। একটি নৌকা থেকে লাখ খানেক টাকা সুবিধা নিয়ে সরবরাহকারী কোম্পানির কিছু প্রতিনিধির মাধ্যমে আবারও তাদের কাছে চলে যায় সরকারের ভর্তুকির সার। প্রতিটি নৌকা ও ট্রাক থেকে ১-২ লাখ টাকা সুবিধা নেয় ডিলার, লেবার, কৃষি অফিসার ও বিএডিসির গুদাম সংশ্লিষ্ট একটি চক্র। এছাড়াও পাচারের সময় পরিবহন ম্যানেজ করে দেয় কাউসার নামের এক ড্রাইভার। গত ১০ মে সুনামগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল গুদামে অভিযান চালিয়ে ৩২৬ বস্তা সার জব্দ করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযানের পর তিনি এ বিষয়টি বিএডিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য লিখিতপত্র দেওয়ার নির্দেশনা দেন উপসহকারী পরিচালককে। গত ১১ মে উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম উপ-পরিচালক বরাবরে এসব উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছেন।
এদিকে চিঠি পাবার পর সিলেট বিএডিসি’র উপ-পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির (সার) গত ১৩ মে সুনামগঞ্জ বিএডিসি সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন। তিনি তখন জামালগঞ্জের ডিলারদের গুদামে থাকা মুজদ সারের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা এই সার তাদের নয় বলে জানান। এদিকে গুদামে সার রেখে কৃষি অফিস এরাইভাল রিপোর্ট দেওয়ায় কর্মকর্তারাও অনিয়মে জড়িত অভিযোগে গত ১৩ মে জামালগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। সুনামগঞ্জ বিএডিসি’র উপসহকারী পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত এপ্রিল মাসের সারের বরাদ্দ উত্তোলন হয়েছে মর্মে কৃষি বিভাগ আমাকে এরাইভাল রিপোর্ট দিয়েছে। গত ১০ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে মজুদ খুঁজে পাওয়ায় একজন ডিলার বলছে এটা তার সার। কিন্তু আমাদের ডিডি স্যার ডিলারদের সঙ্গে কথা বলার পর তারা জানিয়েছেন এই সার তাদের নয়। তাদের বরাদ্দের সার উত্তোলন করেছেন। আমি এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত দিয়েছি। এছাড়াও তিন মাস ধরে ঘাটে পড়ে থাকা ৫০০ টন সার এখনো ঘাটে পড়ে আছে। লেবাররা উত্তোলন করছেনা। আমাদের নিয়োগকৃত লেবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছেন।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com