ইজারা বহির্ভূত একাধিক পশুর হাট

প্রভাবশালী চক্রের দাপটে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারালো সরকার

আপলোড সময় : ২৬-০৫-২০২৬ ১০:২৭:৫০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০৫-২০২৬ ১০:৩৯:৩১ পূর্বাহ্ন
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ::
পবিত্র ঈদ উল আযহাকে সামনে রেখে ছাতক উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইজারা বহির্ভূত একাধিক পশুর হাট পরিচালনা করার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকলেও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে এসব পশুর হাট বসিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণের রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি বৈধ হাটগুলোর ইজারাদারগণ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। জানাযায়, গত বছর পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে মোট ১২টি পশুর হাট অনুমোদন দেয়া হয়ে ছিল। এর মধ্যে ৩টি ছিল স্থায়ী। পৌরসভার ১টিসহ ৯টি ছিল অস্থায়ী পশুর হাট। তবে এ বছর গোবিন্দগঞ্জ ও জাউয়াবাজার দুটি স্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এছাড়া ছাতক পৌরসভায় ১টি, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ইসলামবাজার ও নোয়ারাই ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারসহ স্থায়ী অস্থায়ী মিলে ৫টি পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অজ্ঞাত কারণে উপজেলার আরও ৮টি অস্থায়ী হাটের অনুমোদন ইজারা দেয়নি কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন না থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে পশুর হাট বসানো হচ্ছে। গত রোববার (২৪ মে) উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের ধারণবাজার, কালারুকা ইউনিয়নের হাসনাবাদবাজার এবং চরমহল্লা ইউনিয়নের টেটিয়াচর চরমহল্লাবাজারে ইজারা বহির্ভূত পশুর হাট বসেছিল। এছাড়াও (২৪ মে) দিনব্যাপী যানবাহন যোগে মাইকে প্রচার করে (২৫ মে) সোমবার উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের বুরাইয়া বাজারে ইজারা বহির্ভূত পশুর হাট বসেছে। এসব অবৈধ পশুর হাটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষে প্রথম থেকে কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। তবে স্থানীয় সাংবাদিকদের তৎপরতার কারণে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এসব পশুর হাট নিয়তান্ত্রিকভাবে ইজারা দেওয়া হলে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব লাভ করতো। কিন্তু ইজারা বহির্ভূতভাবে পশুর হাট পরিচালনার কারণে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন বৈধ ইজারাদারগণ। অবৈধভাবে লাভবান হচ্ছেন অবৈধ পশুর হাট পরিচালনায় জড়িত প্রভাবশালী চক্রের সদস্যরা। এদিকে, প্রথম থেকে অবৈধ পশুর হাট বন্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় ইজারাদারসহ সচেতনমহলের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এমন পরিস্থিতিতে বৈধ ইজারাদারদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ইজারাদারদের দাবি, সরকারিভাবে ইজারা নিয়ে হাট পরিচালনা করতে গিয়ে তারা বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছেন। কিন্তু অবৈধভাবে পরিচালিত হাটগুলোর কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা সেদিকে ঝুঁকে পড়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ছাতক উপজেলা প্রাণিস¤পদ অধিদপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের দায়িত্বরত প্রাণিস¤পদ কর্মককর্তা ডা. মিলন মিয়া বলেন, কোরবানি উপলক্ষে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ ও জাউয়াবাজারসহ বিভিন্ন হাটে গত ৫দিন থেকে কোরবানির পশু পরিক্ষা নিরিক্ষা করে চিকিৎসা ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছি। তবে বর্তমান সময়ে খুব বেশি ভাইরাস সংক্রামক জনিত, লা¤িপং (গুটি) রোগ এবং বাতা (ক্ষুরা) রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছে । বাতা (ক্ষুরা) ও লা¤িপং (গুটি) রোগে আক্রান্ত পশু কোরবানি বা জবাই না করার জন্য পরমর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া এ রোগের শিকার হয় বেশি। আক্রান্ত পশুকে ১ লিটার পানিতে ৪ চা চামচ পটাস মিশিয়ে পশুর পা ও মুখ পরিষ্কার করে রাখতে হবে। পাশাপাশি প্যারাসিটামলসহ ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে এবং রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে স্থানীয় পশু চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চিকিৎসা করাতে হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, উপজেলায় স্থায়ী পশুর হাট গোবিন্দগঞ্জ ও জাউয়াবাজার। অস্থায়ী হাটের সংখ্যা ৩টি। এর মধ্যে ছাতক পৌরসভা, ইসলামবাজার ও চৌমুহনী বাজার। এছাড়া উপজেলার আর কোথাও স্থায়ী অস্থায়ী কোন পশুর হাট নেই। অবৈধ পশুর হাটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসিল্যান্ড মঈনপুরবাজার, বুরাইয়া বাজার ও চরমহল্লাবাজারে অভিযান করেছেন। তিনি বলেন, এখানে অবৈধভাবে যে কেউ পশুর হাট বসালে বিধি মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com