স্টাফ রিপোর্টার ::
র্যাব-৯ ও র্যাব-১৪ এর যৌথ অভিযানে মানব পাচার মামলার ভিকটিম শেরপুরের যুবক শিমুল ইসলাম (২০)-কে জামালগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার সাচনা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে র্যাব।
র্যাব জানায়, শেরপুর সদর উপজেলার চরভাবনা এলাকার বাসিন্দা শিমুল ইসলামকে কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয়। অভিযুক্তরা তার পরিবারের কাছ থেকে প্রথমে ৫ লাখ টাকা নেয়। পরে আরও কয়েক দফায় টাকা দাবি করে আদায় করা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান হবি ও শামিম নামের দুই ব্যক্তি শিমুলকে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দেয়। পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য তারা দাবি করে, এর আগেও তারা বহু লোককে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়েছে। পরে শিমুলকে ঢাকায় এনে প্রশিক্ষণ করানোর পর গত বছরের ২২ নভেম্বর তাকে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে কম্বোডিয়া পাঠানো হয়।
কম্বোডিয়ায় পৌঁছে শিমুল জানতে পারেন, তাকে একটি কো¤পানির কাছে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং সিঁড়ির নিচে আটকে রাখা হয় বলে পরিবারকে জানান তিনি। এ অবস্থায় অভিযুক্তরা পরিবারকে আরও টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে তারা দাবি করে, কো¤পানির ২৫ লাখ টাকা পরিশোধ না করলে শিমুলকে মুক্তি দেওয়া হবে না।
এ ঘটনায় শিমুলের বোন বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ সিপিসি-৩ সুনামগঞ্জ এবং র্যাব-১৪ সিপিসি-১ জামালপুরের যৌথ আভিযানিক দল জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিমুল ইসলামকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
উদ্ধারকৃত শিমুল ইসলামকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শেরপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।