স্টাফ রিপোর্টার ::
প্রতি ইউনিয়নে ধান ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান কেনা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা এবং কৃষি উপকরণে ভর্তুকি বৃদ্ধিসহ ৯ দফা দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি, সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি। রবিবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরে সংগঠনের নেতারা সাংবাদিকদের জানান, চলতি বছর সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ জমির ধান নষ্ট হয়েছে এবং কৃষকরা মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়েছেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় জেলায় প্রতি বিঘা ধানের উৎপাদন ব্যয় বর্তমানে ২৪ থেকে ২৯ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এর সঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক কৃষক শুকনো অবস্থায় ধান কাটতে পারেননি। কোথাও ধান ঝরে গেছে, কোথাও পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও ধানগাছ পড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে। অথচ বাজারে ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮৫০ থেকে ১১০০ টাকা মণ দরে। এতে প্রতি বিঘায় গড়ে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। কৃষক নেতারা বলেন, সরকার কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দরে ধান ক্রয়ের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে অধিকাংশ কৃষক সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। ব্লক সুপারভাইজারের সুপারিশ, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং দূরবর্তী সরকারি গুদামে ধান সরবরাহের জটিলতার কারণে সাধারণ কৃষকের পক্ষে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ কারণে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হলেও প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হচ্ছেন। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম কমলেও দেশে গত বছর সারের দাম বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজেল, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় লাগামহীনভাবে বেড়েছে। স্বল্প সুদের কৃষিঋণ বাস্তবে কৃষকের নাগালে না থাকায় অনেকেই এনজিও ও মহাজনী ঋণের ফাঁদে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কৃষক ও কৃষি ধ্বংস হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়বে। তাই কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বছরব্যাপী সহায়তা কর্মসূচি চালু, জলমহালে ইজারা প্রথা বাতিল, হাওরাঞ্চলে খাল-বিল ও নদী-নালা খননের মাধ্যমে স্থায়ী হাওর রক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, প্রতি ইউনিয়নে ধান ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন, হাট-বাজারে অতিরিক্ত টোল ও ওজনে কারচুপি বন্ধ, কৃষিতে ভর্তুকি বৃদ্ধি, সার-ডিজেল-কীটনাশক নামমাত্র মূল্যে সরবরাহ, সেচে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রদান, ভূমিহীন কৃষকদের জমি ও কাজের ব্যবস্থা এবং সার্বজনীন রেশনিং ব্যবস্থা চালু। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিরঞ্জন তালুকদার, সাধারণ স¤পাদক সাইফুল আলম ছদরুল, সুরঞ্জিত দাস, মনির মিয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রতি ইউনিয়নে ধান ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান কেনা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা এবং কৃষি উপকরণে ভর্তুকি বৃদ্ধিসহ ৯ দফা দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি, সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি। রবিবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরে সংগঠনের নেতারা সাংবাদিকদের জানান, চলতি বছর সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ জমির ধান নষ্ট হয়েছে এবং কৃষকরা মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়েছেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় জেলায় প্রতি বিঘা ধানের উৎপাদন ব্যয় বর্তমানে ২৪ থেকে ২৯ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এর সঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক কৃষক শুকনো অবস্থায় ধান কাটতে পারেননি। কোথাও ধান ঝরে গেছে, কোথাও পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও ধানগাছ পড়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে। অথচ বাজারে ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮৫০ থেকে ১১০০ টাকা মণ দরে। এতে প্রতি বিঘায় গড়ে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। কৃষক নেতারা বলেন, সরকার কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা দরে ধান ক্রয়ের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে অধিকাংশ কৃষক সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। ব্লক সুপারভাইজারের সুপারিশ, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং দূরবর্তী সরকারি গুদামে ধান সরবরাহের জটিলতার কারণে সাধারণ কৃষকের পক্ষে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ কারণে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হলেও প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হচ্ছেন। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম কমলেও দেশে গত বছর সারের দাম বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজেল, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় লাগামহীনভাবে বেড়েছে। স্বল্প সুদের কৃষিঋণ বাস্তবে কৃষকের নাগালে না থাকায় অনেকেই এনজিও ও মহাজনী ঋণের ফাঁদে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কৃষক ও কৃষি ধ্বংস হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়বে। তাই কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বছরব্যাপী সহায়তা কর্মসূচি চালু, জলমহালে ইজারা প্রথা বাতিল, হাওরাঞ্চলে খাল-বিল ও নদী-নালা খননের মাধ্যমে স্থায়ী হাওর রক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, প্রতি ইউনিয়নে ধান ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন, হাট-বাজারে অতিরিক্ত টোল ও ওজনে কারচুপি বন্ধ, কৃষিতে ভর্তুকি বৃদ্ধি, সার-ডিজেল-কীটনাশক নামমাত্র মূল্যে সরবরাহ, সেচে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রদান, ভূমিহীন কৃষকদের জমি ও কাজের ব্যবস্থা এবং সার্বজনীন রেশনিং ব্যবস্থা চালু। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিরঞ্জন তালুকদার, সাধারণ স¤পাদক সাইফুল আলম ছদরুল, সুরঞ্জিত দাস, মনির মিয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।