মোহাম্মদ নূর::
একসময় যে নদীর বুকে চলত নৌকা, জেলেদের জালে ধরা পড়ত নানা প্রজাতির মাছ, সেই নদী এখন কচুরিপানার দখলে মৃতপ্রায়। বুকজুড়ে আর নেই পানির প্রবাহ, চারদিকে শুধু সবুজ কচুরিপানার স্তর। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এটি কোনো নদী নয়, যেন পরিত্যক্ত সবুজ মাঠ। সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের নতুন হাছননগর এলাকার ঐতিহ্যবাহী সোনাখালী নদীর বর্তমান চিত্র এখন এমনই। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও তদারকির অভাবে নদীটি পুরোপুরি কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। এতে বন্ধ হয়ে পড়েছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রব, পাশাপাশি বিষধর সাপের আতঙ্কে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (২২ মে) সরেজমিনে নতুন হাছননগর এলাকার সোনাখালী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের নিচ থেকে শুরু করে নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে জমে আছে ঘন কচুরিপানা। কোথাও পানির স্রোতের চিহ্ন নেই। স্থির পানিতে পচন ধরে সৃষ্টি হচ্ছে দুর্গন্ধ। নদীর এমন বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এই নদী ছিল এলাকার জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। মাছ ধরা, গোসল, কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে হাওরাঞ্চলে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন - সবকিছুতেই ব্যবহৃত হতো নদীটি। কিন্তু বছরের পর বছর কচুরিপানা পরিষ্কার না করায় নদীটি এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় যুবক সারোয়ার মিয়া বলেন, আগে আমরা এই নদীতে সাঁতার কাটতাম, গোসল করতাম। এখন পচা পানির দুর্গন্ধ আর মশার উপদ্রবে ঘরে থাকাই কষ্টকর হয়ে গেছে। নদীর পানি ব্যবহার করা তো দূরের কথা, আশপাশে দাঁড়ানোও দায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীটি এখন মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি কচুরিপানার ভেতর আশ্রয় নিচ্ছে বিষধর সাপ ও বিচ্ছু। এতে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এলাকার সালিশ ব্যক্তিত্ব মফিজুর রহমান বলেন, নদীতে কচুরিপানা জমে থাকায় এখন প্রায়ই সাপ-বিচ্ছু বাড়ির আঙিনায় চলে আসে। সন্তানদের নিয়ে আমরা আতঙ্কে থাকি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নদীটির অচলাবস্থার কারণে স্থানীয় অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী ছিল। আগে এই নদীকে কেন্দ্র করে বহু মানুষ মাছ ধরা, হাওরের মাটি কাটা ও বিভিন্ন শ্রমভিত্তিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নদীটি ভরাট ও অচল হয়ে যাওয়ায় সেই কর্মসংস্থানও বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, সাবেক মেয়রের আমলে প্রতি বছর বরাদ্দ দিয়ে নদীটি পরিষ্কার করা হতো। বর্তমান পৌর প্রশাসক দ্রুত উদ্যোগ নিলে এলাকাবাসী বড় ধরনের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে। এদিকে এ বিষয়ে জানতে পৌর প্রশাসকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কল রিসিভ করেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করে নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় ঐতিহ্যবাহী সোনাখালী নদী অচিরেই পুরোপুরি অস্তিত্ব হারাবে।
একসময় যে নদীর বুকে চলত নৌকা, জেলেদের জালে ধরা পড়ত নানা প্রজাতির মাছ, সেই নদী এখন কচুরিপানার দখলে মৃতপ্রায়। বুকজুড়ে আর নেই পানির প্রবাহ, চারদিকে শুধু সবুজ কচুরিপানার স্তর। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এটি কোনো নদী নয়, যেন পরিত্যক্ত সবুজ মাঠ। সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের নতুন হাছননগর এলাকার ঐতিহ্যবাহী সোনাখালী নদীর বর্তমান চিত্র এখন এমনই। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও তদারকির অভাবে নদীটি পুরোপুরি কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। এতে বন্ধ হয়ে পড়েছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রব, পাশাপাশি বিষধর সাপের আতঙ্কে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (২২ মে) সরেজমিনে নতুন হাছননগর এলাকার সোনাখালী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের নিচ থেকে শুরু করে নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে জমে আছে ঘন কচুরিপানা। কোথাও পানির স্রোতের চিহ্ন নেই। স্থির পানিতে পচন ধরে সৃষ্টি হচ্ছে দুর্গন্ধ। নদীর এমন বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এই নদী ছিল এলাকার জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। মাছ ধরা, গোসল, কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে হাওরাঞ্চলে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন - সবকিছুতেই ব্যবহৃত হতো নদীটি। কিন্তু বছরের পর বছর কচুরিপানা পরিষ্কার না করায় নদীটি এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় যুবক সারোয়ার মিয়া বলেন, আগে আমরা এই নদীতে সাঁতার কাটতাম, গোসল করতাম। এখন পচা পানির দুর্গন্ধ আর মশার উপদ্রবে ঘরে থাকাই কষ্টকর হয়ে গেছে। নদীর পানি ব্যবহার করা তো দূরের কথা, আশপাশে দাঁড়ানোও দায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীটি এখন মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি কচুরিপানার ভেতর আশ্রয় নিচ্ছে বিষধর সাপ ও বিচ্ছু। এতে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এলাকার সালিশ ব্যক্তিত্ব মফিজুর রহমান বলেন, নদীতে কচুরিপানা জমে থাকায় এখন প্রায়ই সাপ-বিচ্ছু বাড়ির আঙিনায় চলে আসে। সন্তানদের নিয়ে আমরা আতঙ্কে থাকি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নদীটির অচলাবস্থার কারণে স্থানীয় অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী ছিল। আগে এই নদীকে কেন্দ্র করে বহু মানুষ মাছ ধরা, হাওরের মাটি কাটা ও বিভিন্ন শ্রমভিত্তিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নদীটি ভরাট ও অচল হয়ে যাওয়ায় সেই কর্মসংস্থানও বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, সাবেক মেয়রের আমলে প্রতি বছর বরাদ্দ দিয়ে নদীটি পরিষ্কার করা হতো। বর্তমান পৌর প্রশাসক দ্রুত উদ্যোগ নিলে এলাকাবাসী বড় ধরনের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে। এদিকে এ বিষয়ে জানতে পৌর প্রশাসকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কল রিসিভ করেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করে নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় ঐতিহ্যবাহী সোনাখালী নদী অচিরেই পুরোপুরি অস্তিত্ব হারাবে।