মরমী কবি এলাহীবক্স মুন্সীর ৮৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপলোড সময় : ২৩-০৫-২০২৬ ০৯:৫৪:৪৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৫-২০২৬ ০৯:৫৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: বাংলার লোকসংস্কৃতি ও মরমী গানের ভা-ারে সুনামগঞ্জের অবদান অনন্য। এই অঞ্চলে জন্ম নিয়েছেন বহু সাধক, বাউল ও মরমী কবি। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মরমী কবি এলাহীবক্স মুন্সী। তিনি শুধু একজন মরমী কবিই নন, ছিলেন ইসলামী চিন্তাবিদ, সমাজসংস্কারক ও বহুভাষাবিদ ব্যক্তিত্ব। তাঁর গান, দর্শন ও জীবনাচার আজও লোকসংগীতপ্রেমীদের কাছে গভীর অনুপ্রেরণার উৎস। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, সুনামগঞ্জের এই প্রখ্যাত মরমী কবির মাজার আজ অবহেলায় পড়ে আছে। সরকারিভাবে সংস্কার বা সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ না থাকায় মাজারের দেয়াল, সীমানা প্রাচীর ও সমাহিত স্থানের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ছে। কয়েক বছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে মাজার উন্নয়নেও নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। আজ মরমী কবি এলাহীবক্স মুন্সীর ৮৯তম মৃত্যুবার্ষিকী হলেও কোনো স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। জানা যায়, মরমী কবি এলাহীবক্স মুন্সী ১৮৬২ সালের ২৩ মে সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার তেঘরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম জাকির মামদ এবং মাতার নাম সামানের মা। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। প্রথমে সিলেটের ফুলবাড়ি মাদ্রাসায়, পরে কলকাতার আলীগড় মাদ্রাসায় এবং সর্বশেষ ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। ১৮৯০ সালের দিকে দেওবন্দ মাদ্রাসায় কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘মুন্সী’ উপাধি লাভ করেন। পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে পাগড়ি ও সনদ প্রদান করা হয়। এলাহীবক্স মুন্সী বাংলা ছাড়াও আরবি, ফার্সি, উর্দু, হিন্দি, ইংরেজি ও সিলেটি নাগরী ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। বিশেষ করে ফার্সি ভাষায় তাঁর দখল ছিল অসাধারণ। তিনি আধ্যাত্মিক ও মানবতাবাদী ভাবধারার গান রচনা করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন। তাঁর গানে জীবনের অনিত্যতা, মৃত্যু, মানবপ্রেম ও আত্মশুদ্ধির আহ্বান ফুটে উঠেছে। তাঁর একটি জনপ্রিয় গানে তিনি লিখেছেন- “সঙ্গী যোগাড় কররে মন, তুই সঙ্গী যোগাড় কর,/ডাক দিলে চলিয়া যাইবায় ছাইড়া বাড়িঘর।” সুরমা নদীর উত্তর পাড়ের ভক্তদের আহ্বানে তিনি ১৯১৬ সালে জন্মস্থান ত্যাগ করে সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি সেখানে সাধনা ও গান রচনায় নিমগ্ন ছিলেন। ১৯৩৭ সালের ২৩ মে তিনি ইব্রাহীমপুর গ্রামে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত গানের সংকলন ‘আহলে দিল’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তাঁর দুই শতাধিক গানের আরেকটি সংকলনের কথা জানা গেলেও সেটির সন্ধান এখনো মেলেনি। পরবর্তীতে ‘মরমী গানে সুনামগঞ্জ’ গ্রন্থেও তাঁর গান প্রকাশিত হয়। সুনামগঞ্জের শিল্পী উজির মিয়া ১৯৭০ সালে প্রথম তাঁর গান চট্টগ্রাম বেতারে পরিবেশন করেন। এরপর বিভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠে তাঁর গান নতুন প্রজন্মের কাছেও পরিচিতি লাভ করে। গবেষক, সাংবাদিক ও সাহিত্যপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাহীবক্স মুন্সীর জীবন ও কর্ম নিয়ে কাজ করছেন। স্থানীয় পত্রপত্রিকায় তাঁর জীবনী ও গান ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। সুনামগঞ্জের মরমী সংস্কৃতির ইতিহাসে তাঁর নাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। লোকসংগীত গবেষকদের মতে, এলাহীবক্স মুন্সীর গান শুধু ধর্মীয় ভাবধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং মানবিকতা, আত্মশুদ্ধি ও সমাজসচেতনতার বার্তাও বহন করেছে। তাই সময়ের ব্যবধানে তাঁর শারীরিক উপস্থিতি হারিয়ে গেলেও মরমী গানের ভুবনে তিনি আজও অমর হয়ে আছেন।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com