তাহিরপুরে ‘বিজিবির সোর্স’ সন্দেহে যুবককে হত্যা, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপলোড সময় : ২১-০৫-২০২৬ ০৯:৫৭:৫১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৫-২০২৬ ১০:১৪:৩২ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
তাহিরপুর উপজেলায় প্রকাশ্যে গলাকাটার হুমকি দেওয়ার পর যুবক আঙ্গুর মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, শুধুমাত্র ‘বিজিবির সোর্স’ সন্দেহে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৭ জনের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১৮ মে নিহত আঙ্গুর মিয়ার স্ত্রী হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজাই সীমান্ত গ্রামে সংঘটিত এ হত্যাকা-ের ঘটনায় রাজাই গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে আকরাম হোসেন, তার সহোদর জাকির হোসেন, মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে মাফিক এবং আব্দুল হেকিমের ছেলে হেলালকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার রাজাই সীমান্ত গ্রামে স্থানীয় পেশাদার মাদক ও ভারতীয় বিড়ি চোরাকারবারিরা বিজিবির সোর্স সন্দেহে আঙ্গুর মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। নিহতের স্ত্রী হাজেরা খাতুন জানান, শনিবার রাতে ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের তাহিরপুরের চাঁনপুর বিওপির বিজিবি সদস্যরা ভারতীয় বিড়ির একটি চালান আটক করে তাদের বাড়ির উঠানে আসেন। কিছু সময় পর বিজিবি’র টহল দল উদ্ধারকৃত চালান নিয়ে ক্যা¤েপ ফিরে যায়। তিনি জানান, বিজিবি সদস্যরা চলে যাওয়ার পর বাড়ির অদূরে একটি সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজন চোরাকারবারি তার স্বামীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। রাত প্রায় ৩টার দিকে স্বজনদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে আঙ্গুর মিয়া তাদের শনাক্ত করতে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। হাজেরা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, বিজিবি ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন চোরাকারবারি আঙ্গুর মিয়ার বড় ভাই ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেয়। তারা অভিযোগ করে যে, বিড়ির চালান বিজিবিকে ধরিয়ে দেওয়ার কারণে ‘রাত পোহালেই আঙ্গুর মিয়াকে দেখে নেওয়া হবে’ বলে প্রকাশ্যে শাসিয়ে যায়। পরদিন রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে রাজাই মিশন স্কুলসংলগ্ন এলাকা থেকে আঙ্গুর মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে তাহিরপুর থানা পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, হত্যাকা-ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত কয়েকজন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকা- বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের গলা, হাত ও মুখম-লে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, মামলার আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com