স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের ১৩ বছর বয়সী শিশু তাহমিদা আক্তার নিখোঁজ হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
তাহমিদা আক্তার উপজেলার রাঙ্গামাটি গ্রামের মো. আব্দুল বাছির ও সাবিনা আক্তারের মেয়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল (শুক্রবার) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তাহমিদা বাড়ি থেকে স্থানীয় বেড়াজালি বাজারে যায়। এরপর থেকে সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে গত ৮ এপ্রিল সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৪৪৫) করেন। পরবর্তীতে ১৬ এপ্রিল তাহমিদার মা সাবিনা আক্তার সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেন।
তাহমিদার মা সাবিনা আক্তার জানান, আমার মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছি। পরে থানায় জিডি করি এবং পুলিশ সুপারের কাছেও আবেদন দেই। কিন্তু এখনো মেয়ের কোনো সন্ধান পাইনি।
তিনি আরও জানান, তদন্ত চলাকালে একটি মোবাইল নম্বর থেকে তাকে জানানো হয় তাহমিদাকে দেখা গেছে। বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমদকে জানানো হলে তিনি যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও সুনামগঞ্জের মল্লিকপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর ওই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় মেয়েকে নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তাহমিদার মা বলেন, দেড় মাসেও মেয়ের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় আমরা আশঙ্কা করছি সে হয়তো কোনো বিপদে পড়েছে। আমি প্রশাসন, সাংবাদিক ও দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। তার কোনো সন্ধান পেলে ০১৩১১-৭০০০৪২ মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগের অনুরোধ জানান সাবিনা আক্তার।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ পিপিএম বলেন, সম্প্রতি এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনায় দেখা গেছে অনেক কিশোরী স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছে। পুলিশ ইতোমধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। তাহমিদার সন্ধানেও পুলিশ কাজ করছে। তাকে পাওয়া গেলে দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।