শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতু নির্মাণাধীন সেতুর ৫ গার্ডার ভেঙে নদীতে, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

আপলোড সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ০২:১৯:৩২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ০২:১৯:৩২ পূর্বাহ্ন
জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া :: তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ১২৫ কোটি টাকার শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুর পাঁচটি গার্ডার ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে। সোমবার ভোররাতে উপজেলার বিন্নাকুলি-গরকাটি এলাকার যাদুকাটা নদীর পূর্ব পাশের ৩ ও ৪ নম্বর পিলারের ওপর স্থাপিত গার্ডারগুলো বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে যায়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে ২০২২ সালেও একই অংশে আরও দুটি গার্ডার ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। তিন বছরে নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বিকট শব্দ শুনে সকালে নদীতে গিয়ে তারা দেখতে পান সেতুর পাঁচটি গার্ডার নদীতে পড়ে আছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণাধীন সেতুর আশপাশে দিনের বেলায় শেভ মেশিন এবং রাতের আঁধারে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই সেতুর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে বারবার গার্ডার ধসে পড়ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যাদুকাটা নদীর ওপর ৭৫০ মিটার দীর্ঘ শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি পায় তমা কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে কয়েক দফায় ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১২৯ কোটি টাকা। ২০২১ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেতুর ১৫টি স্প্যানের মধ্যে ১২টির এবং ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে ৬০টির কাজ শেষ হয়েছিল। এখনও তিনটি স্প্যান ও ২০টি গার্ডারের কাজ বাকি রয়েছে। ছয় মাস আগে সব পিলারের কাজ সম্পন্ন হলেও নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম মিয়া বলেন, এই সেতু নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন নদীতে ভেঙে পড়ছে। নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই যদি বারবার গার্ডার ধসে পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে এই সেতু দিয়ে চলাচল করতে মানুষের ভয় কাজ করবে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক নজরুল শিকদার ও কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এই সেতু চালু হলে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতো। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মে মানুষের সেই আশায় ধাক্কা লেগেছে। যাদুকাটা নদীর বালু-পাথর সমবায় সমিতির সাধারণ স¤পাদক হাকিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, রাতের আঁধারে সেতুর আশপাশ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে নৌকায় লোড করা হয়। এসব অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেই আজ মানুষের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক বছর ধরে গার্ডারগুলো রড ও পাইপ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্থাপন করে রেখেছিল। সম্প্রতি তারা সেই সংযোগ খুলে নেওয়ার পরই গার্ডারগুলো ভেঙে পড়ে গেছে। অন্যদিকে বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রাখাব উদ্দিন বলেন, শুরু থেকেই নি¤œমানের কাজ হয়েছে। এজন্যই বারবার গার্ডার ধসে পড়ছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কী কারণে গার্ডার ভেঙে পড়েছে তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা হোক।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com