স্টাফ রিপোর্টার ::
ছাতকে তরুণীকে গণধর্ষণের দায়ে ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড- দিয়েছেন আদালত। দন্ড-প্রাপ্ত আসামিরা হলেন ছাতক উপজেলার হাসামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে মতিউর রহমান মতিন (২৬), খোয়াজ আলীর ছেলে দিলদার হোসেন (২৮) ও কামারগাঁও গ্রামের হাবিবুর ইসলামের ছেলে বিল্লাল হোসেন (২৬)। সোমবার দুপুরে এই দন্ডাদেশ দেন সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ।
মামলা সূত্রে জানাযায়, ২০২১ সালের ১১ আগস্ট সকালে নানাবাড়ি যাওয়ার পথে ছাতকের ওই তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় হাসামপুর গ্রামের বখাটে যুবক মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন। উপজেলার সিংচাপইড় গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। পরবর্তীতে ধর্ষকদের সহযোগিতায় আসামি বিল্লালসহ আরও এক যুবক ওই তরুণীকে অন্য গ্রামে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা ধর্ষকদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিন ধর্ষকসহ ৫ জনকে আসামি করে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন ভিকটিমের ভাই। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযুক্তদের বিষয়ে আদালতে চার্জ দাখিল করলে সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানী শেষ সোমবার আলোচিত এই মামলার রায় দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ।
রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ এর ৭ ধারায় মতিউর রহমান মতিন ও দিলদার হোসেনকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদ- এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদ- এবং একই আইনে ৯ এর ৩ ধারায় দু’জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড- এবং ১ লক্ষ টাকার অর্থদন্ড- অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড- এবং অপর আসামি বিল্লাল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও ১ লাখ টাকার অর্থদ- অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের রায় দেয়া হয়। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে আব্দুস সোবহান নামের একজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
রায় শুনানীর সময় মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন উপস্থিত থাকলেও দন্ডিত অপর আসামি বিল্লাল পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি মো. শামসুর রহমান। এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।