সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা রঙ্গারচর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত বিট পুলিশিং সভা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। শহরের গন্ডি পেরিয়ে গ্রামাঞ্চলেও মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও চোরাচালানবিরোধী গণসচেতনতা তৈরিতে পুলিশের সক্রিয়তা সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনগণকে স¤পৃক্ত করার এই প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার।
বর্তমান সময়ে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক প্রচেষ্টায় সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। অপরাধীরা এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও সংঘবদ্ধ। তাই জনগণ ও পুলিশের পার¯পরিক আস্থা এবং তথ্য আদান-প্রদানই হতে পারে অপরাধ দমনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বিট পুলিশিংয়ের মূল দর্শনও এখানেই- পুলিশকে জনগণের আরও কাছে নিয়ে যাওয়া এবং জনগণকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশীদার করা।
রঙ্গারচরসহ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান, মাদক পাচার ও নানা ধরনের অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধ শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্যই হুমকি নয়, বরং যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতনমহলের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে যেকোন অপরাধমূলক কর্মকা-ের তথ্য দ্রুত জানানোর আহ্বান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তথ্যদাতার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। অনেক সময় ভয়ের কারণে সাধারণ মানুষ অপরাধের তথ্য প্রকাশ করতে চান না। এ বিষয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল আচরণ জনগণের আস্থা আরও বাড়াবে।
আমরা মনে করি, বিট পুলিশিংকে কেবল আনুষ্ঠানিক সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত উঠান বৈঠক, স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কিশোর-তরুণদের স¤পৃক্তকরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবমুক্ত রেখে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিরাপদ সমাজ গঠনে পুলিশ ও জনগণের যৌথ অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। রঙ্গারচরের এই উদ্যোগ অন্য ইউনিয়নগুলোর জন্যও অনুকরণীয় হয়ে উঠুক - এটাই প্রত্যাশা।