৪৭২ পদের মধ্যে ২১৭টিই শূন্য

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে লোকবল সংকটে ব্যাহত সেবা

আপলোড সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ০৮:১১:২০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ০৮:১৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
আকরাম উদ্দিন::
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল সংকট থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল না থাকায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের মোট অনুমোদিত পদ রয়েছে ৪৭২টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৫৫ জন। শূন্য রয়েছে ২১৭টি পদ। সংশ্লিষ্টরা জানান, চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৭৪টি হলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২৮ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ৪৬টি চিকিৎসকের পদ। নার্সের ২৬২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৯৯ জন। শূন্য রয়েছে ৬৩টি পদ। এছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ১০টি পদের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন ৬ জন। শূন্য রয়েছে ৪টি পদ। অন্যান্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১২৬টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন। এসব পদে শূন্য রয়েছে ১০৪টি। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজন ও সচেতন নাগরিকরা জানান, প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক বিভাগে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদগুলো পূরণ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবায় চাপ বাড়ছে। দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হলে রোগীদের উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী সোয়েব হাসান বলেন, অসুস্থ হয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। কিন্তু এখানে চিকিৎসক, নার্স ও ক্লিনারের সংকট রয়েছে। প্রতিদিনই নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এক রোগীর অভিভাবক ইসমাইল হোসেন বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই বলে শুনতে হয়। এত বড় হাসপাতাল নির্মাণ হলেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সিলেটে চলে যান।
অপর রোগীর অভিভাবক আব্দুস সামাদ বলেন, হাসপাতালের দালাল চক্র প্রতিরোধ করতে হবে। তারা সুবিধা না পেলে রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। দালালদের দমন করা গেলে রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং হয়রানিও কমবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, অনেক সময় চিকিৎসকেরা হাসপাতালে এলেও কিছু অসাধু ব্যক্তির খারাপ আচরণের কারণে একে একে চলে যান। তাই চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা সাজিয়া বেগম বলেন, হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ দেখলে মনে হয় সেখানে কর্মচারীর সংকট রয়েছে। মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশা করে। কিন্তু হাসপাতালের বিভিন্ন কোণায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মাহবুবুর রহমান স্বপন বলেন, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে জনবল সংকট থাকায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত এই সংকট নিরসন হলে আমাদের ওপর চাপ কমবে এবং রোগীরা সহজে মানসম্মত সেবা পাবেন। তিনি আরও বলেন, লোকবল সংকটের বিষয়টি আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com