ধর্মপাশা প্রতিনিধি ::
ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর লঞ্চঘাট এলাকায় জুয়া খেলতে নিষেধ করায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর বিন রফিক (৪৭) স্থানীয় জুয়াড়িদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহ¯পতিবার রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই আহত ওই বিএনপি নেতা বাদী হয়ে উপজেলার রাজাপুর গ্রামের জাবির উদ্দিন (৪৫), আবুল খায়ের (৩৫), জিয়াউল বাবু (২৫) নামের তিনজন জুয়াড়িকে আসামি করে ধর্মপাশা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। আহত ওই বিএনপি নেতা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এলাকাবাসী, থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও আহত ওই নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর বাজার সংলগ্ন লঞ্চঘাট এলাকায় গত বৃহ¯পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবির উদ্দিন (৪৫), আবুল খায়ের (৩৫)সহ ছয়জন টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলছিলেন। খবর পেয়ে ওইদিন রাত আটটার দিকে একই গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর বিন রফিক সেখানে যান। জুয়াড়িদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এলাকায় মাস খানেক ধরে চোরের উপদ্রব বেড়ে গেছে। আপনারা জুয়া খেললে এলাকার যুব সমাজও আপনাদেরকে দেখে দেখে তাই করবে। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হবে, আপনারা জুয়া খেলা বন্ধ করুন - এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে জাবির উদ্দিন, আবু খায়ের ও জিয়াউল হক বাবু বিএনপি নেতার ওপর চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। পরে স্থানীয় লোকজনদের সহায়তায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর বিন রফিক বলেন, আমাদের ইউনিয়নে মাসখানেক ধরে জুয়া ও মাদক সেবনের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এতে করে এলাকায় চুরির ঘটনাও বেড়ে গেছে। জুয়া খেলা বন্ধ করতে নিষেধ করায় আমার ওপর চড়াও হয়ে জুয়াড়ি জাবির উদ্দিন, আবুল খায়ের ও জিয়াউল হক বাবু আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে আহত করেছে। যারা হামলা চালিয়েছে তারা শুধু জুয়াড়িই নয়, মাদকসেবীও। স্থানীয় লোকজনদের সহায়তায় আমি প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। এ ঘটনায় বৃহ¯পতিবার রাতে আমি বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। ওরা খুবই উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। আমাকে যেকোনো সময় প্রাণে মেরে ফেলতে পারে। এ অবস্থায় আমি জীবন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ ব্যাপারে আবুল খায়ের ও জিয়াউল হক বাবুর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে জাবির উদ্দিন দাবি করেন, আমরা প্রায়ই সন্ধ্যার পর কয়েকজন মিলে সময় কাটাতে তাস খেলি। টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলিনা। মাদকও সেবন করি না। বিএনপির নেতা জাহাঙ্গীর বিন রফিককে আমরা মারধর করিনি।
ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ আমি পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।