স্টাফ রিপোর্টার ::
দিরাই উপজেলার বরাম হাওরে তলিয়ে যাওয়া জমির ধান লুটের ঘটনা থামছেই না। অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাকা ধান এখন প্রকাশ্যে কেটে নিয়ে যাচ্ছে একদল দুর্বৃত্ত। বৃহ¯পতিবার সকালে নৌকাযোগে কাদিরপুর ও ধল আমিরপুর গ্রামের কয়েকজন লোক ভাঙাডহর গ্রামের চপল মজুমদার, সুখময় দাস ও বিপুল দাসের জমির ধান কেটে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা বলে, “সবাই কাটে, তাই আমরাও কাটছি।”
ধান লুটের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে জমির মালিকদের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক চপল মজুমদার বলেন, কাদিরপুর ও ধল আমিরপুর গ্রামের কিছু লোক আমাদের জমির ধান কেটে নিচ্ছে দেখে আমরা নৌকা নিয়ে সেখানে যাই এবং ভিডিও করি। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি।
ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহমদ জানান, ভাঙাডহর গ্রামের কয়েকজন মোবাইল ফোনে তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং ধান লুটের ভিডিও পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, ভিডিও দেখে ধল আমিরপুর গ্রামের একজনকে শনাক্ত করা গেছে। সে মসব্বের ছোট আবু ছালিক।
এর আগে উপজেলার বরাম হাওরের ভাঙাডহর ও ডাইয়ারগাও এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
তাড়ল ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য বাবুল দাস জানান, কয়েকদিনের রোদে হাওরের পানি কমতে শুরু করলে অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া বোরো ধান ভেসে ওঠে। এ সুযোগে নোয়াগাঁও-সন্তোষপুর, বাউসী ও চন্দ্রপুর এলাকার কিছু সুযোগসন্ধানী লোক নৌকাযোগে ধান লুটে নামে।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, গত মঙ্গলবার এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। সীমানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে ধান কাটতে নিষেধ করা হয়েছিল। আজ আবার বিষয়টি শুনেছি। গুরুত্ব সহকারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিব সরকার বলেন, ধান লুটের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।