তাহিরপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ

আপলোড সময় : ১৪-০৫-২০২৬ ০৩:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৫-২০২৬ ০৩:৫৮:১৫ অপরাহ্ন
‎স্টাফ রিপোর্টার::
‎সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় এক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় এক সহকারী শিক্ষিকাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। ‎ভুক্তভোগী উপজেলার বালিজুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. লুৎফা আক্তার এ অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি গত ৯ মে এ অভিযোগ জমা দেন। ‎লিখিত অভিযোগে শিক্ষিকা উল্লেখ করেন, তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোলেমান মিয়া বিভিন্ন সময়ে ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। এছাড়া অশালীন আচরণ, কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং শহরে, বাসায় ও বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি তার বাড়িতে যাওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এসব বিষয়ে তিনি সম্মতি না দেওয়ায় পরবর্তীতে তাকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সরকারি কার্যক্রম এবং পেশাগত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ‎
অভিযোগ সূত্রে এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষকদের সঙ্গেও ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যেসব বিদ্যালয়ে সুন্দরী শিক্ষিকারা কর্মরত রয়েছেন, সেসব বিদ্যালয়ে তিনি বেশি পরিদর্শনে যান এবং ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এছাড়া সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। ‎
এছাড়াও সম্প্রতি জেলা শহরের একটি বিদ্যালয়ে নারী সংক্রান্ত একটি ঘটনা নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকাকে ঘিরে আলোচিত ঘটনার পরও তিনি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে গিয়ে তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষিকা মোছা. লুৎফা আক্তার বলেন, অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে লিখিত অভিযোগ করায় শিক্ষা কর্মকর্তা আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সরকারি কার্যক্রম ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করায় আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। কর্মস্থলেও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছি। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানান। ‎

অভিযোগের বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোলেমান মিয়া বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় কুৎসা রটানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ‎
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। একই সঙ্গে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ আসছে। উভয় অভিযোগ একসঙ্গে যাচাই বাছাই করে তদন্ত করা হবে। ‎
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com