স্টাফ রিপোর্টার ::
জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ৬৮টি তথ্য অফিস কর্তৃক পরিচালিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির (১৭ ফেব্রুয়ারি-১১ মে ২০২৬) বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং বিভিন্ন জনবান্ধব কর্মসূচির সুফল বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ প্রেস ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান। প্রেস ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন জেলা তথ্য উপ-পরিচালক শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, নারীদের জন্য বিশেষ যানবাহন সুবিধা, কৃষক কার্ড বিতরণ এবং কৃষি ঋণ মওকুফসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের অগ্রগতি ও সুফল তুলে ধরা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, সরকারের এসব কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সভায় বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন হাওলাদার, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সহকারী প্রকৌশলী কাজী হোসেন আর রাফি, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) শেরগুল আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাস প্রমুখ।
সভায় জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ জানান, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার গঠিত হওয়ার পর নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে খাল-খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ, নারীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য।
তিনি জানান, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের আওতায় সুনামগঞ্জসহ দেশের ৬৮টি জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মে ২০২৬ পর্যন্ত ১,০২১টি উঠান বৈঠক, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১ হাজারের বেশি চলচ্চিত্র ও টিভিসি প্রদর্শন, সড়ক প্রচার, অনলাইন প্রচারসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
তিনি বলেন, সরকার ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন, মৎস্যস¤পদ বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র পরিবারগুলোকে সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নে ইতোমধ্যে শতাধিক পরিবার এ সুবিধা পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ২ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ভর্তুকি, সহজ ঋণ, বীজ-সারসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি প্রায় ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ মহিলা বাস সার্ভিস চালু এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।