স্টাফ রিপোর্টার ::
টানা কয়েকদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সুরমাসহ জেলার নদ-নদীর পানি কমেছে। টানা রোদের দেখা পাওয়ায় হাওরাঞ্চলে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ফের ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে কৃষকদের মধ্যে।
সোমবার বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আগামী ১৪ মে থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি নি¤œচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে ১৪ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে স্থানভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদ-নদী সুরমা, কুশিয়ারা, ধনু, বৌলাই, ভুগাই, কংসসহ বিভিন্ন উপনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন করে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসে সুনামগঞ্জের হাওর ও নন-হাওর এলাকার কৃষকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানান, এখনো অনেক হাওরের উঁচু এলাকার জমিতে ধান কাটার কাজ বাকি রয়েছে। এছাড়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত জমির ধান রোদের সুযোগে পানিতে নেমে কাটার চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রান্তিক চাষীরা। অনেকেই নষ্ট ও ভেজা ধান শুকানো এবং প্রক্রিয়াজাত করার কাজ করছেন। এর মধ্যেই ফের বৃষ্টির আশঙ্কা তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাওরের উঁচু এলাকার কিছু জমির পাশাপাশি নন-হাওরের প্রায় ৪০ শতাংশ জমির ধান কাটার কাজ এখনো বাকি রয়েছে। আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে এসব এলাকার ফসল ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, উজানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় উঁচু এলাকার পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত কয়েকদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জেলার নদ-নদীর পানি কমেছে। সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৭২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধে আপাতত ঝুঁকি কমেছে। উল্লেখ্য, গত ১০ মে পর্যন্ত ফসলরক্ষা বাঁধের কার্যকাল ছিল। তবে নতুন করে ভারি বৃষ্টিপাত হলে নন-হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়া দেখা দিলে ধান শুকানো নিয়েও কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর-২) মো. ইমদাদুল হক কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কেটে নিরাপদে সংরক্ষণ এবং ভেজা ধান শুকানোর কাজ দ্রুত স¤পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন।