‎অভিভাবকের প্রতিবাদের জেরে দুই শিক্ষার্থীকে টিসি

আপলোড সময় : ১১-০৫-২০২৬ ০৬:৪৫:২৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৫-২০২৬ ০৬:৪৬:২৯ অপরাহ্ন
‎স্টাফ রিপোর্টার::
সিলেটের খাজাঞ্চিবাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এক অভিভাবকের দুই সন্তানকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ‎অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (জেনারেল ও সার্টিফিকেট শাখা) নাজমুল হক গত ২৭ এপ্রিল ওই দুই শিক্ষার্থীকে টিসি দেন। শিক্ষার্থীরা হলো জুহি শেওলা ও মরিয়ম জান্নাত কুশেন। তারা যথাক্রমে পঞ্চম ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকদের একটি অংশ সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা, শিক্ষক সংকট, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা ও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন অভিভাবক এডভোকেট সেবা বেগম। তাঁর দুই সন্তানই ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। ‎অভিভাবকদের দাবি, সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জের ধরেই দুই শিশুকে টিসি দেওয়া হয়েছে। টিসিতে উল্লেখ করা হয়, অভিভাবক কর্তৃক আচরণবিধির বারবার লঙ্ঘনের কারণে, যা প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী বিবেচিত হয়েছে, কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের কথাও উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৩০ এপ্রিল জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক তারেক আল মঈন ও এডভোকেট সেবা বেগম। অভিযোগে তাঁরা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ কারণ দর্শানো ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে টিসি দিতে পারে না।
‎লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাধান না এলে বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা হবে।শিক্ষার্থীদের বাবা তারেক আল মঈন বলেন, অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তিনি বিষয়টি শিক্ষা উপদেষ্টার নজরে আনার কথাও জানান।এডভোকেট সেবা বেগম বলেন, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই আমরা সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। কিন্তু এর জেরে শিশুদের টিসি দেওয়া অমানবিক ও আইনবহির্ভূত। ‎সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকেরা সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিলো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রত্যাহার, পূর্ণাঙ্গ ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, পাঠদানে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং পৃথক প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোমবার বিকেলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com