৭ দিনে সংগ্রহ মাত্র ১৩৮ মেট্রিক টন ধান

লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা, নষ্ট ধান নিয়ে বিপাকে হাওরের কৃষক

আপলোড সময় : ১০-০৫-২০২৬ ১২:০৩:৫২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৫-২০২৬ ১২:০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
শহীদনূর আহমেদ::
অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা আর রোদের অভাবে ধান শুকাতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছেন সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। একদিকে ফসলহানি, অন্যদিকে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির কঠোর মানদ- - সব মিলিয়ে নষ্ট ধান নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে চাষিদের। এমন পরিস্থিতিতে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরুর এক সপ্তাহ পার হলেও জেলার ১২ উপজেলায় সরকারিভাবে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১৩৮ মেট্রিক টন ধান। এতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
ঝাউয়ার হাওর এলাকার কৃষক আবেদ আলী প্রতিবছর পরিবারের খাদ্য সংরক্ষণের পর ১০০ থেকে ১২০ মণ ধান বিক্রি করতেন। যার বেশিরভাগই যেত সরকারি গুদামে। কিন্তু এবারের অতিবৃষ্টিতে তার ১৭ বিঘা জমির মধ্যে ১০ বিঘার ধান পানিতে নষ্ট হয়েছে। যে ধান কেটে তুলেছেন, তাও দীর্ঘদিন রোদের অভাবে শুকাতে পারেননি।
পঞ্চাশোর্র্ধ্ব এ কৃষক বলেন, “গত বছরের চেয়ে এ বছর ১২০-১৩০ মণ ধান কম পাইমু। পরিবারের খাবারেরও জোগাড় হয়নি। ধারদেনা করে ধান কাটছি। ধান নষ্ট হওয়ায় গুদামেও নেয় না, পাইকাররাও কম দাম বলে। বড় বিপদে আছি।” শুধু আবেদ আলী নন, জেলার অধিকাংশ হাওরপাড়ের কৃষকের অবস্থাই একই। অতিবৃষ্টিতে অনেক জমির ধান তলিয়ে গেছে। আবার যেসব ধান পানির কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে, সেগুলোর বড় অংশ রোদ না পাওয়ায় পচে গেছে কিংবা ধানে চারা গজিয়েছে। ফলে সরকারি গুদামে নির্ধারিত মান না থাকায় এসব ধান গ্রহণ করা হচ্ছে না।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরকারিভাবে জেলার ১২ উপজেলায় ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি ৩৬ টাকা হিসেবে প্রতি মণ ধানের মূল্য ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। গত ৩ মে শুরু হওয়া এই সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। তবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৯ মে শনিবার পর্যন্ত মাত্র ১৩৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও মলিন ধান সরকারি গুদামে নেওয়া হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয় পাইকার ও ফড়িয়াদের কাছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
জামখলার হাওর এলাকার কৃষক রেজাউল করিম বলেন, “সব জমিন পানির নিচে গেছে। যা কাটছি, তা দিয়াও সারা বছর চলবো না। রোদের অভাবে ধান নষ্ট হইছে। মলিন ধান পাইকারও নিতে চায় না।”
পাখিমারা হাওর এলাকার কৃষক জিল্লুর রহমান বলেন, “এই নষ্ট ধান কে কিনবে? সরকার যদি না নেয়, আমরা কার কাছে বিক্রি করতাম?” হাওরাঞ্চলের কৃষকদের পক্ষে সরব সংগঠন হাওর বাঁচাও আন্দোলন বলছে, চলতি বিপর্যয়ে জেলার অর্ধেকের বেশি ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একে কুদরত পাশা বলেন, “পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে কৃষকরা যে ধান কেটেছে, তাও শুকাতে পারেনি। ধানে দুর্গন্ধ, মলিন ও চারা গজিয়েছে। সরকার চাইলে এসব ধান বিভিন্ন ফিড কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু কৃষকের ধান না কিনলে তারা আরও বিপদে পড়বে।” তবে জেলা খাদ্য বিভাগ বলছে, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে তারা আশাবাদী।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুশফিকুর রহমান বলেন, কয়েক দিন রোদ না থাকায় কৃষকরা ধান শুকাতে পারেননি। তাই শুরুতে গুদামে ধান কম এসেছে। এখন রোদ পাওয়ায় অনেক কৃষক ধান শুকাচ্ছেন এবং আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আশা করছি সংগ্রহের গতি বাড়বে এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com