স্টাফ রিপোর্টার ::
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। “শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ” শীর্ষক এ আয়োজন বাঙালি সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় এবং সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসন রাজা মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়েশা আক্তার। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল, পল্লব ভট্টাচার্য ও সুমনা তালুকদার রিম্পি।
আলোচনা পর্বে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভীন চৌধুরী। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ কেবল কবি নন, তিনি ছিলেন মানবতার এক বিশ্বজনীন কণ্ঠস্বর। তাঁর সাহিত্য মানুষকে ভেদাভেদ ভুলে মানবিকতার শিক্ষা দেয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক সম্পাদক ও প্রকাশক এবং সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) শেরগুল আহমদ, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক জাকির হোসেন এবং সহকারী কমিশনার দীপান্বিতা দেবী। বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে সহিংসতা, বিভাজন ও অসহিষ্ণুতার সময়ে রবীন্দ্রনাথের দর্শন নতুন করে মানবতার বার্তা পৌঁছে দেয়। তাঁর সাহিত্য ও শিক্ষা-ভাবনা আজও সমাজকে আলোকিত করে চলেছে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বাঙালির সংস্কৃতি, চেতনা ও আত্মপরিচয় নির্মাণে রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্য। তাঁর গান, কবিতা, গল্প ও দর্শন যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিল্পীরা কবিগুরুর সৃষ্টিশীলতার নানা দিক তুলে ধরেন। প্রাণবন্ত পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। পুরো মিলনায়তনজুড়ে ছিল এক উৎসবমুখর সাংস্কৃতিক আবহ। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন অমিত বর্মণ, বাবুল আচার্য্য, কপিল পদ ঋষি, সোমা সাহা, সোহেল রানা, মাকসুদর রহমান দিপুসহ স্থানীয় শিল্পীরা।