হাওর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আপলোড সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ১০:৩১:১৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ১০:৩১:১৪ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্পে অতীতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, সরকার আইনের শাসন, জবাবদিহি ও দুর্নীতি দমনে অঙ্গীকারবদ্ধ। শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে হাওর ও আঞ্চলিক উন্নয়নবিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিকেরা হাওরাঞ্চলে গত ১৭ বছরে বাঁধ নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিতুমীর বলেন, আমরা দায়বদ্ধ। বিভিন্ন পন্থায় এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আইনগত প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনের শাসন নিশ্চিত করা, সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে আনা এবং দুর্নীতি দমন করা। তিতুমীর আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা জরুরি। তিনি জানান, সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে সরকারের বৈঠক হয়েছে। ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, হাওরাঞ্চলে অকাল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে মানবিক সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের ২০টি উপজেলায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে উচ্চক্ষমতাস¤পন্ন প্রতিনিধি দল কাজ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদী দখল, খাল খননের অভাব ও পলি জমে যাওয়ার কারণে হাওরাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে জলাবদ্ধতা বেড়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, হাওর রক্ষায় শুধু ত্রাণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এজন্য কৃষি, পানি স¤পদ, পরিবেশ, মৎস্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করা হবে। নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন, সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, জলমগ্ন সড়ক নির্মাণ, খাল পুনঃখনন ও মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, হাওরের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। টাঙ্গুয়ার হাওরে এখন আর আগের মতো পরিযায়ী পাখি দেখা যায় না। জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। তাই উন্নয়ন হতে হবে প্রকৃতি ও মানুষের সমন্বয়ে। তিতুমীর আরও বলেন, সরকার ইতিমধ্যে হাওর ও জলাশয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন আইন করেছে এবং সমন্বিতভাবে কাজ করতে একটি অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে হাওরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com