স্টাফ রিপোর্টার :: হাওরাঞ্চলে ফসলডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বছরব্যাপী সহায়তা প্রদানসহ ১৪ দফা দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে “সুনামগঞ্জ হাওরাঞ্চলের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান আন্দোলন পরিচালনা কমিটি”। বৃহ¯পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রুটিন দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পালের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন আন্দোলন পরিচালনা কমিটির জেলা আহ্বায়ক সৌরভ ভূষণ দেব, যুগ্ম আহ্বায়ক সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, আঞ্চলিক কমিটির সদস্য তোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল। স্মারকলিপিতে হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির সমপরিমাণ বছরব্যাপী সহযোগিতা, পুনর্বাসনে আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা এবং সরকারি-বেসরকারি ও এনজিও ঋণ মওকুফের দাবি জানানো হয়। এছাড়া হাওরের ইজারা ব্যবস্থা বাতিল করে সাধারণ মানুষের মাছ ধরার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা, নদ-নদী ও খাল-বিল খননের মাধ্যমে পাহাড়ি ঢলে ফসলহানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে- অপরিকল্পিত হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ বন্ধ, হাওরের পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে নির্মিত রাস্তা ও স্থাপনা উচ্ছেদ, নদ-নদী ও খাল দখলমুক্ত করা, হাওরাঞ্চলে পর্যাপ্ত বড় নৌকা ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং আগাম বন্যা মোকাবেলায় কৃষকদের আধুনিক কৃষিযন্ত্র সরবরাহ। স্মারকলিপিতে কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, কৃষি উপকরণে ভর্তুকি বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানো, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য রেশনিং চালু এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে খাসজমি বিতরণের দাবিও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলোতে টেকসই গ্রামরক্ষা বাঁধ নির্মাণের আহ্বান জানানো হয়। স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় প্রায় অর্ধলক্ষ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। তারা অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র প্রাকৃতিক কারণ নয়, বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণেই হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলহানির ঘটনা ঘটছে।