শামস শামীম::
সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত খরচার হাওর। এখানে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৪ হাজার ৫১৫ হেক্টর। এবারও বেশিরভাগ জমিই চাষ করেছেন কৃষক। জলাবদ্ধতায় জেলার সব হাওর কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তুলনামূলক এই হাওরের উত্তরাংশের কৃষকদের কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হাওরের দক্ষিণাংশ তুলনামূলক গহীন থাকায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। কৃষকদের ভাষ্য, জলাবদ্ধতায় জমি ডুবলেও মূল ক্ষতি হয়েছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের পর। ২৬ এপ্রিলের পর টানা বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পারায় অঙ্কুর গজিয়ে, ধান পচে নষ্ট হয়েছে। পচে গেছে গবাদিপশুর খড়ও।
গত সোমবার বিকালে এই হাওরের বিশ্বম্ভরপুর ও মুক্তিখলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাওরের সাবমারসিবল সড়ক ঘেঁষা খলায় রোদের দেখা পেয়ে ধান শুকাচ্ছেন কৃষক। অনেকে সড়কেই ধান শুকাচ্ছেন। পরিবারের নারী-পুরুষ-শিশু সবাই এখন হাওরের খলায়। তবে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, উত্তর-পূর্বাংশের কৃষকদের ক্ষেত জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়েছে খুবই কম। তারা বৈশাখের শুরুতে এবং চৈত্রে মাসের শেষ সপ্তাহেই ধান কেটে নিয়েছেন। তারা বিআর ৯৬, ৮৬ প্রজাতির ধান লাগিয়েছিলেন। পরিচর্যার খরচ একটু বেশি হলেও ফলন কিয়ার প্রতি (৩০ শতাংশে এক কিয়ার) ১৫-২০ মণ পেয়েছেন। কৃষকদের ভাষ্য, এই ধানটি তারা অন্যদের চেয়ে অন্তত ১৫ দিন আগে লাগাতে পেরেছিলেন। ফলে চূড়ান্ত জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার আগেই তারা উপরের কিছু ধান কেটে ফেলতে পেরেছেন। তবে জলাবদ্ধতা শুরুর পর নিচের অংশের সামান্য জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কৃষকরা জানান। জলাবদ্ধতা শুরুর পর যারা ধান কেটেছেন তাদের কাটা ও মাড়াইয়ের পর কিছু ক্ষতি হয়েছে ধান শুকানোর অভাবে। তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে উত্তর-পশ্চিমাংশের কৃষকদের মধ্যে। সদর উপজেলার নোয়াগাঁও, হরিনগর, নল্লুয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের ‘ছয় আনার’ বেশি ক্ষেত জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে। এ সময় যারা ধান কেটেছেন তাদের কাটা ও মাড়াই করা ধান পচে নষ্ট হয়ে অঙ্কুর গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের এলাকাটি গহীন হওয়ার জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছে বেশি এবং ধান পাকতেও বিলম্ব হয়েছে বলে জানান তারা। খরচার হাওরের মুক্তিখলা গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, “ছয় কিয়ার জমিনো বিআর-৯৬ ধান লাগাইছলাম। চৈত মাসের শেষে কাটছি। আমার কোনো সমস্যা অইছে না। কিছু খেড় নষ্ট অইছে। ফলনও কিয়ার প্রতি ১৫-২০ মণ করি পাইছি। জমিনো চাষ করতে খরচ একটু বেশি অইছে।” একই গ্রামের কৃষক আব্দুস জহুরকে দেখা গেল সাবমারসিবল সড়কে ধান শুকাচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি ছয় কিয়ার খেতো বিআর-৯৬ ধান লাগাইছলাম। চৈত মাসের শেষে কাটছি। ২০ মণ করে দর পাইছি। আমার খেড়ও কাজে লাগছে। কুন্তা (কিছুই) নষ্ট অইছে না। পরে যারা কারছে তারার ক্ষতি অইছে।” একই গ্রামের কৃষক আব্দুল মুকিত লাগিয়েছেন হাইব্রিড ধান ‘ঝলক’। দুই কিয়ার কাটছেন ৫ বৈশাখ। ১৮ মণ করে পেয়েছেন কিয়ার প্রতি। তিন-চার দিন আগে কেটেছেন তিন কিয়ার। এই সময় বৃষ্টিতে কাটা ধানের অঙ্কুর গজিয়েছে তার। তিনি বলেন, “দেশি ধানে গ্যাড়া আইতে সময় নেয়। কিন্তু হাইব্রিড ধানের মুখ ফুটি যায় একদিন ভিজা থাকলেই। তার কাটা ধানেরও অঙ্কুর গজিয়ে কিছু নষ্ট হয়েছে।” ঠিক উল্টো কথা জানা গেল খরচার হাওরের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের কৃষকদের কাছ থেকে। নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, “আমার চার-পাঁচ কিয়ার জমির ধান তলাইয়া গেছে। বৃষ্টির মধ্যে যা কাটছিলাম তা গ্যাড়া আইয়া নষ্ট অইছে। খেড়ও নষ্ট অইছে। হি কান্দার (উত্তরাংশ) ফসিল ভালা অইছে। আমরা মাইর খাইলিছি। আমরার আওর গহীনে।” তার কথার পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা গেল গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, “আমার ইউনিয়নের নোয়াগাঁও, হরিনগর, নল্লুয়াসহ সাত-আট গ্রামের কৃষক চাষাবাদ করেন খরচার হাওরে। আমাদের ওই এলাকা নিচু। তাই ধান বিলম্বে পাকে এবং বন্যা, জলাবদ্ধতার মুখে পড়ে। এ বছর ২৬-২৭ এপ্রিলের মধ্যে ছয় আনা খেত ডুবে গেছে। বাকি খেতের ধান কাটলেও বৃষ্টির কারণে পচে, অঙ্কুর গজিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার এলাকার কৃষকের পুনর্বাসন দরকার। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, বিআর-৯৬ প্রজাতির ধান আগাম পাকে। এ কারণে বিশ্বম্ভরপুরের খরচার হাওরের উত্তরাংশের কৃষকরা কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা ফলনও পেয়েছেন ভালো। তবে বিআর-২৮, ২৯ বিলম্বে পাকে। যে কারণে জলাবদ্ধতার মুখে পড়ে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় হাওরে ৮০.১৬৩ ভাগ কাটা হয়েছে। হাওর ও নন-হাওর মিলিয়ে গড়ে ৬৯.৪৮৭ ভাগ কাটা হয়েছে। জেলায় এবার হাওরে এক লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর এবং নন-হাওরে ৫৮ হাজার ২৩৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। সরকারি হিসাবে হাওরে এক লাখ ৩২ হাজার ৪৮৯ হেক্টর এবং নন-হাওরে ২২ হাজার ৮২২ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতি হয়েছে ২০ হাজার ১৬০ হেক্টর।
সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত খরচার হাওর। এখানে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৪ হাজার ৫১৫ হেক্টর। এবারও বেশিরভাগ জমিই চাষ করেছেন কৃষক। জলাবদ্ধতায় জেলার সব হাওর কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তুলনামূলক এই হাওরের উত্তরাংশের কৃষকদের কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হাওরের দক্ষিণাংশ তুলনামূলক গহীন থাকায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। কৃষকদের ভাষ্য, জলাবদ্ধতায় জমি ডুবলেও মূল ক্ষতি হয়েছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের পর। ২৬ এপ্রিলের পর টানা বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পারায় অঙ্কুর গজিয়ে, ধান পচে নষ্ট হয়েছে। পচে গেছে গবাদিপশুর খড়ও।
গত সোমবার বিকালে এই হাওরের বিশ্বম্ভরপুর ও মুক্তিখলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাওরের সাবমারসিবল সড়ক ঘেঁষা খলায় রোদের দেখা পেয়ে ধান শুকাচ্ছেন কৃষক। অনেকে সড়কেই ধান শুকাচ্ছেন। পরিবারের নারী-পুরুষ-শিশু সবাই এখন হাওরের খলায়। তবে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, উত্তর-পূর্বাংশের কৃষকদের ক্ষেত জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়েছে খুবই কম। তারা বৈশাখের শুরুতে এবং চৈত্রে মাসের শেষ সপ্তাহেই ধান কেটে নিয়েছেন। তারা বিআর ৯৬, ৮৬ প্রজাতির ধান লাগিয়েছিলেন। পরিচর্যার খরচ একটু বেশি হলেও ফলন কিয়ার প্রতি (৩০ শতাংশে এক কিয়ার) ১৫-২০ মণ পেয়েছেন। কৃষকদের ভাষ্য, এই ধানটি তারা অন্যদের চেয়ে অন্তত ১৫ দিন আগে লাগাতে পেরেছিলেন। ফলে চূড়ান্ত জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার আগেই তারা উপরের কিছু ধান কেটে ফেলতে পেরেছেন। তবে জলাবদ্ধতা শুরুর পর নিচের অংশের সামান্য জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কৃষকরা জানান। জলাবদ্ধতা শুরুর পর যারা ধান কেটেছেন তাদের কাটা ও মাড়াইয়ের পর কিছু ক্ষতি হয়েছে ধান শুকানোর অভাবে। তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে উত্তর-পশ্চিমাংশের কৃষকদের মধ্যে। সদর উপজেলার নোয়াগাঁও, হরিনগর, নল্লুয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের ‘ছয় আনার’ বেশি ক্ষেত জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে। এ সময় যারা ধান কেটেছেন তাদের কাটা ও মাড়াই করা ধান পচে নষ্ট হয়ে অঙ্কুর গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের এলাকাটি গহীন হওয়ার জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছে বেশি এবং ধান পাকতেও বিলম্ব হয়েছে বলে জানান তারা। খরচার হাওরের মুক্তিখলা গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, “ছয় কিয়ার জমিনো বিআর-৯৬ ধান লাগাইছলাম। চৈত মাসের শেষে কাটছি। আমার কোনো সমস্যা অইছে না। কিছু খেড় নষ্ট অইছে। ফলনও কিয়ার প্রতি ১৫-২০ মণ করি পাইছি। জমিনো চাষ করতে খরচ একটু বেশি অইছে।” একই গ্রামের কৃষক আব্দুস জহুরকে দেখা গেল সাবমারসিবল সড়কে ধান শুকাচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি ছয় কিয়ার খেতো বিআর-৯৬ ধান লাগাইছলাম। চৈত মাসের শেষে কাটছি। ২০ মণ করে দর পাইছি। আমার খেড়ও কাজে লাগছে। কুন্তা (কিছুই) নষ্ট অইছে না। পরে যারা কারছে তারার ক্ষতি অইছে।” একই গ্রামের কৃষক আব্দুল মুকিত লাগিয়েছেন হাইব্রিড ধান ‘ঝলক’। দুই কিয়ার কাটছেন ৫ বৈশাখ। ১৮ মণ করে পেয়েছেন কিয়ার প্রতি। তিন-চার দিন আগে কেটেছেন তিন কিয়ার। এই সময় বৃষ্টিতে কাটা ধানের অঙ্কুর গজিয়েছে তার। তিনি বলেন, “দেশি ধানে গ্যাড়া আইতে সময় নেয়। কিন্তু হাইব্রিড ধানের মুখ ফুটি যায় একদিন ভিজা থাকলেই। তার কাটা ধানেরও অঙ্কুর গজিয়ে কিছু নষ্ট হয়েছে।” ঠিক উল্টো কথা জানা গেল খরচার হাওরের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের কৃষকদের কাছ থেকে। নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, “আমার চার-পাঁচ কিয়ার জমির ধান তলাইয়া গেছে। বৃষ্টির মধ্যে যা কাটছিলাম তা গ্যাড়া আইয়া নষ্ট অইছে। খেড়ও নষ্ট অইছে। হি কান্দার (উত্তরাংশ) ফসিল ভালা অইছে। আমরা মাইর খাইলিছি। আমরার আওর গহীনে।” তার কথার পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা গেল গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, “আমার ইউনিয়নের নোয়াগাঁও, হরিনগর, নল্লুয়াসহ সাত-আট গ্রামের কৃষক চাষাবাদ করেন খরচার হাওরে। আমাদের ওই এলাকা নিচু। তাই ধান বিলম্বে পাকে এবং বন্যা, জলাবদ্ধতার মুখে পড়ে। এ বছর ২৬-২৭ এপ্রিলের মধ্যে ছয় আনা খেত ডুবে গেছে। বাকি খেতের ধান কাটলেও বৃষ্টির কারণে পচে, অঙ্কুর গজিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার এলাকার কৃষকের পুনর্বাসন দরকার। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, বিআর-৯৬ প্রজাতির ধান আগাম পাকে। এ কারণে বিশ্বম্ভরপুরের খরচার হাওরের উত্তরাংশের কৃষকরা কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা ফলনও পেয়েছেন ভালো। তবে বিআর-২৮, ২৯ বিলম্বে পাকে। যে কারণে জলাবদ্ধতার মুখে পড়ে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় হাওরে ৮০.১৬৩ ভাগ কাটা হয়েছে। হাওর ও নন-হাওর মিলিয়ে গড়ে ৬৯.৪৮৭ ভাগ কাটা হয়েছে। জেলায় এবার হাওরে এক লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর এবং নন-হাওরে ৫৮ হাজার ২৩৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। সরকারি হিসাবে হাওরে এক লাখ ৩২ হাজার ৪৮৯ হেক্টর এবং নন-হাওরে ২২ হাজার ৮২২ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতি হয়েছে ২০ হাজার ১৬০ হেক্টর।